শনিবার ০৬ জুন ২০২০
Online Edition

বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়িয়েছে

# একদিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের রেকর্ড ভারতে # ব্রাজিলে মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারিতে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধ কোটি ছাড়িয়েছে। মারা গেছে সোয়া ৩ লাখ মানুষ। বিশ্বে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে এখনও শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ডোমিটারের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ মুহূর্তে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মহামারিতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫০ লাখ ৪ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছে মোট ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৩৯ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৯ লাখ ৭২ হাজার ১৬৭ জন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ২৭ লাখ ৬ হাজার ৭৩৯ জন। এদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৯৩ হাজার ৫৪২ জনের।
মৃতের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৩৪১ জন। তৃতীয় স্থানে থাকা ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ৩২ হাজার ১৬৯। চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা ২৮ হাজার ২২। পঞ্চম স্থানে থাকা স্পেনে মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৭৮ জন।
তবে আক্রান্তের মোট সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই অবস্থান করছে রাশিয়া। সেখানে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭০৫ জন। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কম, ২ হাজার ৯৭২ জন। এরপর তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। সেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৫ জন এবং মারা গেছে ১৭ হাজার ৯৮৩ জন।
করোনার উৎপত্তিস্থল হিসাবে পরিচিত চীনে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৯৮৫ জন এবং মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তারা করোনা পরিস্থিতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। যে কারণে ওয়ার্ল্ডোমিটার তালিকার শীর্ষ স্থান থেকে একেবারে ১৩ নাম্বারে নেমে গেছে চীন। আর দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে করোনায় কোনও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।
অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির ক্রমশ খারাপ হওয়ার কারণে চীনকে ছাড়িয়ে তালিকার ১২ ও ১১ নাম্বারে উঠে এসেছে যথাক্রমে পেরু ও ভারত। ভারতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৮৮৬ জন এবং মৃত্যু ৩ হাজার ৩০৩ জন। পেরুতে আক্রান্ত ৯৯ হাজার ৪৮৩ এবং মৃত্যু প্রায় ৩ হাজার।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। পরে চীনের সীমানা পেরিয়ে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ এই সংকটকে মহামারি হিসাবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
মার্কিন জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ২৭ লাখ ৪ হাজার ৪৯৫ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৫ হাজার ৪২৯ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে। আর যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- রাশিয়ায় আক্রান্ত ৩ লাখ ৮ হাজার ৭০৫, সুস্থ হয়েছে ৮৫ হাজার ৩৯২, মারা গেছে ২ হাজার ৯৭২ জন। স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮০৩, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৮, মারা গেছে ২৭ হাজার ৭৭৮ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৫, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৯৪, মারা গেছে ১৭ হাজার ৯৮৩ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮১৮, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৩৫ হাজার ৩৪১ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯৯, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪০১, মারা গেছে ৩২ হাজার ১৬৯ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০৯, সুস্থ হয়েছে ৬২ হাজার ৫৬৩, মারা গেছে ২৮ হাজার ২২ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৭, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০, মারা গেছে ৮ হাজার ১৯৩ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ৫১ হাজার ৬১৫, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৯৫, মারা গেছে ৪ হাজার ১৯৯ জন। ইরানে আক্রান্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৬০৩, সুস্থ হয়েছে ৯৭ হাজার ১১৩, মারা গেছে ৭ হাজার ১১৯ জন। পেরুতে আক্রান্ত ৯৯ হাজার ৪৮৩, সুস্থ হয়েছে ৩৬ হাজার ৫২৪, মারা গেছে ২ হাজার ৯১৪ জন।
এ দিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৯৬৫, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ২৪৪, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৭৯ হাজার ১১২, সুস্থ হয়েছে ৪০ হাজার ৫০, মারা গেছে ৫ হাজার ৯১২ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৫৫ হাজার ৭৯১, সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ৬৮৭, মারা গেছে ৯ হাজার ১০৮ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ৫৪ হাজার ৩৪৬, সুস্থ হয়েছে ৩৭ হাজার ৩২৫, মারা গেছে ৫ হাজার ৬৬৬ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৪৪ হাজার ২৪৯, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৫ হাজার ৭১৫ জন।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরে আক্রান্ত ৩৪ হাজার ১৫১, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৪৫৭, মারা গেছে ২ হাজার ৮৩৯ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৭৯৯, সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১, মারা গেছে ৩ হাজার ৭৪৩ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৬১৮, সুস্থ হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০, মারা গেছে ১ হাজার ৮৯১ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৪৩২, সুস্থ হয়েছে ৬ হাজার ৪৩১, মারা গেছে ১ হাজার ২৪৭ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৪ হাজার ২৫১, সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ৪৭০, মারা গেছে ১ হাজার ৫৬১ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ১৯ হাজার ১৮৯, সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৫, মারা গেছে ১ হাজার ২৪২ জন। রোমানিয়ায় আক্রান্ত ১৭ হাজার ১৯১, সুস্থ হয়েছে ১০ হাজার ১৬৬, মারা গেছে ১ হাজার ১৪১ জন।
 এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ১ লাখ ৬ হাজার ৮৮৬, সুস্থ হয়েছে ৪২ হাজার ৩০৯, মারা গেছে ৩ হাজার ৩০৩ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ৪৫ হাজার ৮৯৮, সুস্থ হয়েছে ১৩ হাজার ১০১, মারা গেছে ৯৮৫ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ২৬ হাজার ৭৩৮, সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ২০৭, মারা গেছে ৩৮৬ জন।
 প্রসঙ্গত, এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, বারবার কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং হঠাৎ করে স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ