শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

ত্রাণের সাড়ে ৩৬ টন চাল আত্মসাৎ 

গাইবান্ধা সংবাদদাতাঃ সাড়ে ৩৬ মেট্রিক টন সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া এলাকার ডিলার মোঃ হামিদুল রহমানকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে গত ১১ মে  আদালত একই বিষয়ে স্বতঃ প্রণোদিত হয়ে মামলা শুরু করেছিল।

দুদকের পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুরে মামলাটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আলাউদ্দিন বসুনিয়া বাদী হয়ে গত সোমবার মামলাটি দায়ের করেছেন। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া এলাকার কার্ডধারী ৭৬ জন ভোক্তার নাম তালিকায় সঠিক থাকা সত্বেও তাদের না দিয়ে (কার্ডধারীদের) মাস্টার রোলে যথারীতি ভোক্তাদের নামে জাল-জালিয়াতর মাধ্যমে ভুয়া স্বাক্ষর-টিপসই দিয়ে বিক্রি দেখানো হয়েছে।

এছাড়া ৭৬ জন কার্ডধারীর ১৬ মাসের ৩০ কেজি হিসাবে ৩৬.৪৮০ মেট্রিক টন সরকারি চাল আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরের উপসহকারী পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফুলছড়ির থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কায়সার আলী জানান, সরকারী চাল আত্মসাতের বিষয়ে উপজেলা থেকে আমাকে কেউ অভিযোগ করেননি। গত ১১ মে বিজ্ঞ আদালত ত্রাণ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। চাল আত্মসাতের ঘটনার স্বাক্ষী প্রমান তথ্য সংগ্রহের জন্য ফুলছড়ি থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত বুলবুল কাজ শুরু করছেন। আশা করছি বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশেই সব কিছু সময় অনুযারী দাখিল করতে পারবো।

ফুলছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন জামান, সরকারি চাল আত্মসাত অনিয়ম দুর্নীতি বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশের পর খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১৬ জন তদারকি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করানো হয়েছে। এছাড়া ৪ মে উপজেলা মিটিয়ে রেজুলেশন করে উপজেলার ইউনিয়নের ডিলার মোঃ হামিদুল রহমান এর লাইন্সেস বাতিল করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী সালাউদ্দিন কাশেম সরকারী চাল আত্মসাতের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে কালক্ষেপনের বিষয়ে জানতে চাইলে, সারা দেশের উপজেলার প্রশাসন অফিস গুলো বিশেষ এক মহলের দখলে । উপজেলা প্রশাসন ইচ্ছে করলেও বিশেষ মহলের বাইরে কোন কাজ করছে পারে না। যদি সেটাই না হবে গরীবের হক সরকারী চাল আত্মসাতের এত দিন পরও উপজেলা প্রশাসন তেমন কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আদালতকে সরকারী চাল আত্মসাতের বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করতে হয়েছে। সরকারী চাল চুরি করে শুধু ডিলারের লাইন্সেস বাতিল করা মানে চোরকে চুরি করা উৎসাহিত করার শামিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ