সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

কারখানা ভাঙচুর রোধে সরকারি সহযোগিতা কামনা

স্টাফ রিপোর্টারঃ করোনা ভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক খাত এখন বিপর্যস্ত।  একের পর এক চলমান ক্রয়াদেশ বাতিল করছেন ক্রেতারা। এমনকি অনেক ক্রেতা দেউলিয়াও হয়ে যাচ্ছেন। ঠিক এরকম স্পর্শকাতর সময়ে শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদেরকে ব্যবহার করে পোশাক শিল্পে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এই আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, যারা প্রকৃত শ্রমিক নন বলে দাবি করেছেন পোশাক মালিকরা।
গতকাল বুধবার পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেছে।
সংগঠন দুটি বলছে, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে বেতন ভাতা আন্দোলনের নামে যেভাবে পোশাক কারখানা ভাঙচুর করা হচ্ছে, তাতে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। বৈশ্বিক সমস্যা কোভিড-১৯ এর প্রভাবে যখন সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির গতি প্রকৃতি নড়ে গেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প খাতও বিপর্যস্ত। ক্রেতারা একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল করছেন। এমনকি অনেক ক্রেতা দেউলিয়াও হয়ে যাচ্ছেন। ঠিক এরকম একটি স্পর্শকাতর সময়ে শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদেরকে ব্যবহার করে শিল্পে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। যা মোটেও কাম্য নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছেন, যারা প্রকৃত শ্রমিক নন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে, ছোট ও মাঝারি কারখানার পাশাপাশি বড় বড় কমপ্লায়েন্ট পোশাক কারখানা, যাদের কর্মপরিবেশ ভালো, বেতন ভাতাও নিয়মিত পরিশোধ করা হয়, সেগুলোও আন্দোলনের নামে ভাঙচুর করে শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে বলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এই নৈরাজ্যজনক কর্মকাণ্ড বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই অরাজকতা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে, বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে বেতন বোনাস ইস্যুতে কারখানা ভাঙচুর করার যৌক্তিকতা নেই। কারণ, সরকার, মালিক ও শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সংকটের মধ্যে থেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করে বেতন ভাতা পরিশোধ করছে।  কিছু কিছু কারখানায় অবশ্য ব্যতয় ঘটছে।  কারণ, এই কারখানাগুলোর অনেকেরই হাতে এখন কোনও কাজ নেই।  তারপরও, কারখানাগুলো এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় লিপ্ত দুষ্কৃতিকারীদেরকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ