সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

খুলনাঞ্চলে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষরাই ঝুঁকির কারণ

খুলনা অফিস : ১০ টাকা কেজির চাল উত্তোলন করতে যাওয়া, মার্কেট খুলে দিয়ে আবার বন্ধ করা, অন্য জেলা থেকে চুরি করে চলে আসা, আর কোন ঘোষণা ছাড়াই লকডাউন শিথিল হয়ে যাওয়ায় এমনিতেই করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে খুলনা। তার উপর ‘মরার উপর খাড়ার ঘায়ে’র মত দেখা দিয়েছে নাড়ির টানে ঈদ করতে বাড়ি ফেরা মানুষগুলো। ইতোমধ্যে খুলনায় কয়েক হাজার মানুষ চুরি করে ঢুকে পড়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসনসহ একাধিক সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গত ২৫ মার্চ থেকে সরকার দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। লকডাউন ঘোষণা করা হয় জেলা ও উপজেলায়। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতার জন্যও সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু তারপর দেশে প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র জানায়, করোনার কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ে। এই মানুষদের খাবার সংকট দূরীকরণে সরকার ১০ টাকা কেজির চাল বিরতণসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একাধিকবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। এসব সহায়তা নিতে গিয়ে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি অনেকেই মানতে পারেননি। এরপর আসন্ন ঈদ উল ফিতরের কেনাকাটা করার জন্য বাজার গুলোতে মানুষের ঢল নামে। যা করোনা ভাইরাস ছড়াতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। এরপর জেলা প্রশাসন একাধিকবার শপিংমল গুলো বন্ধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এতো সব কিছুর চেয়ে বেশী আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে ঈদের আগে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা লোকগুলো। প্রতিদিনই কয়েকশ’ লোক প্রবেশ করছে খুলনা মহানগরীসহ জেলায়। যারা খুলনাবাসীর জন্য ঝুকির কারণ হলেও তারা নিজেরাই ঘুরছে অবলিলায়।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, হঠাৎ করে অন্য জেলা থেকে আগতদের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ কারণে যারা অন্য জেলা থেকে আসছেন তাদের নজরদারিতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে ‘ডোন্ট মুভ’ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্য জেলা থেকে কেউ আসতে পারবেন না, আবার এখানকার কেউ অন্য জেলায় যাতায়াত করতে পারবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ