শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

মৃত্যুদূত হয়ে বাড়ি যাবেন না ॥ যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন -আইজিপি

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদে করোনার ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যুদূত হয়ে বাড়ি না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। শপিং করার সময়ও সতর্ক থাকবেন। মনে রাখবেন, যেন এটাই জীবনের শেষ শপিং না হয়। ঈদ যাত্রাটাও যেন শেষ বারের মতো না হয়। বেচেঁ থাকলে অনেক ঈদ করা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে আসন্ন ঈদুল ফিতর ও করোনা মহামারিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
করোনা ভাইরাসের মহামারীর বিস্তুৃতির মধ্যে সামাজিক দূরত্বের বিধি নিশ্চিত করতে ঈদের দিনেও জনসাধারণকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন বেনজীর আহমেদ।
আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘শপিংয়ের জন্য দোকানগুলো খোলা হয়েছে। আমরা মার্কেট সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি। এসব বিষয়ে সরকার নির্দেশ জারি করেছেন; যাতে মার্কেটগুলোতে শপিং নিরাপদ হয়। আমরা শপিংয়ের বেলায় একটি কথাই উচ্চারণ করছি- স্বাস্থ্যবিধি যেগুলো আছে, সুরক্ষা বিধি যেগুলো আছে, সেগুলো অবশ্যই আমাদের মেনে চলতে হবে।’
আইজিপি বলেন, ‘এক্ষেত্রে মার্কেট সমিতি মানবেন। সেলস পারসন মানবেন। ক্রেতা মানবেন। সবাই এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শপিং করবেন। ৫ দোকান দেখে, ১০ দোকান দেখে এক দোকানে শপিংয়ের যে কালচার আমাদের আছে সেটা পরিহার করাই ভালো।’
 বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ‘করোনায় মৃত্যু কিন্তু সত্যচোখা, এটা কোনো জুজুর ভয় নয়। এটা কিন্তু রিয়েল ফ্যাক্ট। তাই যে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে, সেটা বিক্রেতা-ক্রেতা উভয়ই মেনে চলবেন। আমরা যদি এগুলো মেনে চলি তাহলে বৈশ্বিক এই দুর্যোগ থেকে জাতিকে, দেশকে, জনগণকে তুলনামূলকভাবে রক্ষা করতে পারব।’
মার্কেটগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন আইজিপি। এ সময় তিনি দায়িত্বহীন আচরণের মধ্য দিয়ে জাতিকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে জনগণের প্রতি আহবান জানান।
আইজিপি বেনজীর আহমেদ সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে কেউ ফুর্তি করতে বের হবেন না। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময়ে শহরে-গ্রামে যে যেখানে আছেন, ফুর্তি করতে বের হবেন না।’ যাঁর যাঁর অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘দয়া করে নিজের অবস্থান থেকে বের হবেন না। ঢাকা ছাড়বেন না এবং ঢাকায় আসবেন না। জীবনে অনেক ঈদ আসবে। তখন এসব করা যাবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে এই উৎসব জীবনের শেষ উৎসব হয়। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সরকারের নির্দেশনা মানতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন গুরুত্বপূর্ণ। ঈদে আনন্দ করার জন্য নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দূত হয়ে পরিবারের সামনে হাজির হবেন না।'
আইজিপি পুনরায় জোর অনুরোধ ও আহবান জানিয়ে দেশবাসীকে বলেন, “ঈদের দিন কেউ ফুর্তি করার জন্য ঘর থেকে বের হবেন না; এমনকি বেড়ানোর জন্যও বের হবেন না, ঘরে থাকুন। একটু সতর্কভাবে চলুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।” ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা মানার আহ্বানও জানান তিনি। প্রয়োজনে জামাতের সংখ্যা বাড়বে,একাধিক হবে।সংক্ষিপ্ত হবে।
 বেনজীর বলেন, এবছর ঈদে যে যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানে থাকতে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মানুষ বিকল্প পথ ধরে চলাচলের চেষ্টা করছে; ফেরিঘাটে ভিড় করছে।“তাদের অনুরোধ করব, আপনারা স্বস্থানে ফিরে আসুন। আপনারা দায়িত্বহীনভাবে চলাফেরা করলে আক্রান্ত বেশি হবেন, অন্যকে আক্রান্ত করবেন।”তাই এভাবে চলাফেরা বন্ধ ও গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
পুলিশ কেন কঠোর হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘সরকার দেশের মানুষের জন্য যা ভালো সেটা করছে। দেশে অনেক প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে। সরকারকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক দেশ মানুষকে ঘরে রাখতে শক্তি প্রয়োগ করলেও আমরা কোনো শক্তি প্রয়োগ করিনি গত দু মাসেও।’
তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, গুজব ছড়ানো অপরাধ। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ দেশবিরোধী অবস্থান নিলে কেউ তা মেনে নেবে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারও নেই। করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবের বিরুদ্ধে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশের পরিকল্পনায় কোনো ভুল ছিল কি না? জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, 'পুলিশ তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে, এখনো করছে। ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ অনেক কাজ করেছে। যেখানে লাশের কাছে পরিবারের কেউ যেতে চায়নি, সেখানে পুলিশ গিয়েছে। এ রকম হলে আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তবে পুলিশের জন্য আগাম সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।' তিনি আরও জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের পুলিশই না, বিভিন্ন স্তরের ৫০ ভাগ উর্ধ্ব কর্মকর্তাও আক্রান্ত হয়েছেন।
মানুষ এই সাধারণ ছুটিকে উৎসব মনে করেছে, পুলিশ কেন কিছু বলছে না? এর জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, মানুষকে জোর করে ঘরে রাখা যাবে না। তাদের বুঝতে হবে জীবনটা তার নিজের। নিজের সুরক্ষার কথা নিজেকেই ভাবতেই হবে।
জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বাধ্য করা বা সান্ধ্য আইন জারি করা হবে কিনা জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, সরকারকে সার্বিক বিষয় মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক দেশ বিধি অনুসরণে জনগণের উপর জোর খাটাচ্ছে।“কিন্তু আমি বলব আমরা গত দুই মাস যেভাবে জনগণের সাথে কাজ করেছি; জনগণকে নিয়ে কাজ করেছি সেভাবেই করবো। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন “
 প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাঈনুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ