ঢাকা, শনিবার 30 May 2020, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৬ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভোরে আঘাত হানবে আমফান, শক্তি কিছুটা কমেছে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কিছুটা শক্তি কমেছে সুপার সাইক্লুন ‘আম্ফানের’। ঘন্টায় বাতসের গতিবেগ ২৫ কিলোমিটার কমলেও এটি সুপার সাইক্লুন অবস্থায় বাংলাদেশের ভূখন্ডের আরো কাছে চলে এসেছে। আজ (মঙ্গলবার) শেষরাতের দিকে উপকূলে আঘাত হানতে পারে ‘আমম্ফান’। পরদিন বুধবার বিকেলের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই সময়ে ৫ থেকে ১০ ফুটের অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ অবস্থায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের ১৪টি জেলার অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরআগে, সুপার সাইক্লোন আমফান বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার কারণে বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টায় মহাবিপদ সংকেত দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। আজ (মঙ্গলবার) রাতের মধ্যে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হবে। ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বার্তায় (বিকেল ৩টা) জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগের বার্তায় (দুপুর ১২টা) বলা হয়েছিল কেন্দ্র থেকে ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ২২৫ কিলোটার যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শক্তি কমলেও ঘূর্ণিঝড়টি সুপার সাইক্লোন অবস্থায়ই রয়েছে। একই সাথে এর কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত¡র নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়া মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

একই সাথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ সংকেতের আওতায় থাকবে।

সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফানের’ প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, সুপার সাইক্লোন ‘আমম্ফান’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছে। আজ বিকাল ৩ টায় (১৯ মে) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে বুধবার বিকেল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এই সময়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেগে দম্কা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ