সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

শতভাগ বোনাস-বকেয়া বেতনের দাবিতে আবারও শ্রমিক বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে পাঁচটি কারখানার শ্রমিকেরা গতকাল সোমবার বকেয়া বেতন ও শতভাগ ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। দুইটি কারখানার শ্রমিকেরা গত মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন পাননি।
এর আগেও শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিল। সরকার গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনের জন্য বিশেষ প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করে। এ টাকায় তাদের বেতন হওয়ার কথা আগামী তিন মাসের। কিন্তু তা হয়নি বলেই শ্রমিকদের বেতনের দাবি রাস্তায় নামতে হচ্ছে।
পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুলিয়ার মধ্য গাজিরচট এলাকার ফোজিয়া এন্ড ফাহিম ফ্যাশনস লিমিটেড গত মার্চ মাসে ২০ দিনের বেতন দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে মার্চ ও এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতনসহ ঈদুল ফিতরের বোনাসের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শ্রমিকেরা। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে গতকাল সকালে কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
কারখানার শ্রমিক জহিরুল ইসলাম বলেন, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে এবং তাদের না জানিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে মালিকপক্ষ তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে। দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে করোনা দুর্যোগের মধ্যে শ্রমিকেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের ঘরেই টাকা ও খাবার নেই।
আশুলিয়ার শিমুলতলার নাবা নিট কম্পোজিট লিমিটেড, নরসিংহপুরের সেতারা ও ডেকো গ্রুপের শ্রমিকেরা শতভাগ ঈদবোনাসের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সেতারা ও ডেকো গ্রুপের শ্রমিকেরা বেলা ১১টার দিকে কাজে যোগ দেন।
নাবা নিট কম্পোজিট লিমিটেডের একজন শ্রমিক বলেন, তাঁরা শতভাগ ঈদ বোনাসের সঙ্গে এপ্রিল মাসের অর্ধেক বেতন দাবি করেছিলেন। পরে মালিকপক্ষ শতভাগ ঈদ বোনাস ও চলতি মাসের বেতন হিসেবে অপারেটদের ১ হাজার ৫০০ এবং হেলপারদের ১ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা কাজে যোগ দেন।
ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকার মম ফ্যাশনসের শ্রমিকেরা গত এপ্রিল মাসের বেতনের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তা। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, প্রতি মাসেই মম ফ্যাশনসের মালিক বেতন নিয়ে ঝামেলা করেন। নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেন না।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, কিছু পোশাক কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন। বেতন না পেয়ে অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাবন করছেন। টাকার অভাবে বাসাভাড়া দিতে না পারায় বাড়ির মালিকেরা শ্রমিকদের বাসা থেকে বের করে দিচ্ছেন।
শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা শতভাগ ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। ওইসব কারখানার শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের কাজে ফেরানো হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ