মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

করোনায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদারে তৎপর চীন

১৭ মে,  রয়টার্স : খাদ্যশস্য ও তেল বীজের উৎপাদন ও সরবরাহ জোরালো করতে খাদ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট সৃষ্টির আশঙ্কায় সম্প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেদেশে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যব্স্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বেইজিং। এমন অবস্থায় সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় পরিচালনাধীন ও বেসরকারি শস্য ব্যবসায়ী ও খাদ্য উৎপাদনকারীদেরকে বেশি বেশি করে সয়াবিন, সয়া তেল ও শস্য উৎপাদন করার অনুরোধ জানিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

চীনের শীর্ষস্থানীয় একটি খাদ্য প্রক্রিয়াকারী কোম্পানির এক সিনিয়র ট্রেডার রয়টার্সকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস জনিত সংক্রমণের কারণে সরবরাহ পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেমন ধরা যাক, পণ্যের উৎসস্থল কিংবা গন্তব্য এলাকার বন্দর বন্ধ হয়তো বন্ধ হয়ে গেলো।’

গত সপ্তাহে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন এ ট্রেডারও। তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদেরকে মজুত বাড়ানোর, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আরও বেশি করে সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।  ব্রাজিলের পরিস্থিতি ভালো ঠেকছে না।’

চীনে সয়াবিন ও মাংস আমদানির একটি বড় উৎসস্থল ব্রাজিল। এরইমধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে স্পেন ও ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে দেশটি।

গত মঙ্গলবার কিছু রাষ্ট্রীয় কোম্পানির সঙ্গে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়। কিভাবে মহামারির সময় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখা যাবে সে ব্যাপারে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে অপর এক সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ‘প্রধান ভাবনার বিষয় হলো, মহামারি পরিস্থিতিতে চীনে দক্ষিণ আমেরিকার শিমজাতীয় শস্যের সরবরাহের ওপর কী ধরনের প্রভাব  পড়তে পারে তা নিয়ে।’

গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ও বেইজিং-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি করে খাদ্যশস্য কেনার জন্য চাপের মধ্যে আছে চীন। চীনা ব্যবসায়ীদের আশা, দক্ষিণ আমেরিকার রফতানি মৌসুম শেষ হওয়ার পর উত্তর আমেরিকান রফতানি মৌসুম শুরু হবে।

ব্যবসায়ী সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, ‘শুধু ব্রাজিল থেকেই নয়, সব জায়গা থেকে চীনে সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ