বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লকডাউনেও বেপরোয়া সুন্দরবনের হরিণ শিকারিরা

খুলনা অফিস : করোনা পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। মানুষ ও যানবাহনের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করায় পরিবেশ দূষণের হারও কমেছে অনেক। বাংলাদেশও কার্যত লকডাউন। লকডাউনের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনেও পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বনের অতন্দ্র প্রহরী বনরক্ষীরাও কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এই সুযোগে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে অসাধু চোরা শিকারিরা। সুন্দরবনের হরিণ শিকারের জন্য সব সময় চোরা শিকারিরা তৎপর থাকলেও লকডাউনের পর থেকে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে বনবিভাগ বলছে চোরা শিকারিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৯ মার্চ থেকে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। কার্যত এই আদেশের পরে বনরক্ষীরা কিছুটা ঢিমে তালে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এই সুযোগে চোরা শিকারীরা তৎপর হয়ে ওঠে হরিণ শিকারে।
লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ১২ মে পর্যন্ত বনবিভাগ, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের অভিযানে ১০০ কেজি হরিণের গোশত জব্দ করা হয়। এর সঙ্গে এক হাজার ৯৫০ ফুট ফাঁদ, কয়েকটি নৌকা ও ট্রলার জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। হরিণ শিকারের অপরাধে ছয় জন চোরা শিকারিকে আটক করা হয়। ৫ মে সর্বশেষ ৩০ কেজি হরিণের গোশত ও ৭শ’ ফুট ফাঁদসহ তিনজনকে আটক করে বন বিভাগ। ওই সময় শিকারিদের পেতে রাখা ফাঁদে আটক ২২টি হরিণ বনে অবমুক্ত করে বনরক্ষীরা।
এসবতো যারা অপরাধ করে ধরা পড়েছেন তাদের পরিসংখ্যান। এর বাইরে চোরা শিকারিরা কি পরিমাণ হরিণ ও হরিণের গোশতের চালান করেছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই কারও কাছে।
এছাড়া পূর্ব সুন্দরবন বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে গেল এক বছরে ২৩১ কেজি হরিণের গোশত, ১০টি চামড়া, তিনটি মাথা জব্দ করে। আটক করা হয় ২৫ জন হরিণ শিকারিকে। এসময় চোরা শিকারিদের ব্যবহৃত ১০টি ট্রলার, ২৫টি নৌকা ও পাঁচ হাজার ফুটের বেশি ফাঁদ উদ্ধার করে বনবিভাগ। এসব ঘটনায় করা মামলার ৬৭ জন আসামি পলাতক রয়েছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাবাসী বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে বনরক্ষীদের টহল ব্যবস্থা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ায় বনের অভ্যন্তরে মায়াবী, চিত্রা হরিণ নিধনে মেতে উঠেছে সংঘবদ্ধ কয়েকটি শিকারি চক্র। এ চক্রের সদস্যরা গোপনে বা  ছদ্মবেশে বনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকায় অনুপ্রবেশ করে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে গোশত বিক্রি করছে। কখনো বা জীবিত হরিণও গোপনে পাচার করে দিচ্ছে। গত এক মাসে অন্তত অর্ধশত হরিণ শিকারের ঘটনা ঘটেছে। বন রক্ষীরা যে পরিমাণ হরিণের গোশত উদ্ধার ও শিকারিদের আটক করেছে তার চেয়ে অনেক বেশিই হরিণ নিধনের ঘটনা ঘটাচ্ছে শিকারি চক্রের সদস্যরা। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর একটা বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের রহিম, আবুল নকিবসহ কয়েকজন বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য হয়ত ফরেস্ট ও বনের পাহারাদাররা একটু কম আছে। যার কারণে চোরা শিকারিরা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সুন্দরবন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। হরিণ শিকারিরা মনে করেছিল করোনা পরিস্থিতির কারণে বনবিভাগ নজরদারি ও টহল কমিয়েছে। এই চিন্তায় কিছু হরিণ শিকারি বনে প্রবেশ করেছিল। আমরা তাদের যথাসময়ে আটক করেছি। আমরা সব সসময় টহল জোরদার রেখেছি। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার্থে বনবিভাগের সদস্যরা সবসময় তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ