বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সাতক্ষীরায় তরমুজের কদর বাড়ছে

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা : করোনায় সাতক্ষীরায় তরমুজের গুরুত্ব বেড়েছ। জেলাতে ফলটির উৎপাদন তেমন না থাকলেও সরবরাহ বেশি। দামও তুলনামূলক কম। প্রতিদিন জেলাতে কয়েক ট্রাক করে তরমুজ আমদানি হচ্ছে। মানুষের কাছে দিন দিন এর চাহিদাও বাড়ছে। জেলার হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জ তরমুজে ভরপুর। পুষ্টিকর ও মনোমুগ্ধকর ফলটিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধক হিসেবে গ্রহণ করছে জনসাধারণ। এছাড়া রমজানের ইফতারি হিসেবে ফলটির জনপ্রিয়তা এখন সবার কাছে।
তরমুজ একটি মৌসুমি ফল হলেও হাইব্রিড তরমুজ এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি থাকায়, গরমে এই তরমুজের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফল বিশেষজ্ঞরা বলছেন তরমুজের রসে ভিটামিন এ, সি, বি২, বি৬, ই এবং ভিটামিন সি, ছাড়াও পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, বিটা ক্যারোটিন, ইত্যাদি থাকলেও ক্যালোরির মাত্রা কম। তরমুজ একটি বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পন্ন শক্তিশালী ফল যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তরমুজের শতকরা ৯২ ভাগই পানি এবং প্রাকৃতিকভাবেই এতে কোনো চর্বি থাকে না। ফলে তরমুজ থেকে ওজন বেড়ে যাওয়ার টেনশন নাই।
উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলায় এবছর ১৫০ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।বিগত দিনে উপজেলা কৈখালি এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ চিংড়ি চাষে ব্যস্ত থাকলেও বর্তমানে তারা যতটকু আবাদী জমি আছে তাতেই ধান ও বিভিন্ন সবজি করার পাশাপাশি কয়েকবছর ধরে তরমুজ চাষ করতে শুরু করেছেন। আইলার পরে প্রায় তিনবছর তরমুজ চাষ তেমন লাভের মুখ না দেখলেও বর্তমানে তারা এ ফসল চাষে লাভবান হচ্ছেন। এলাকার স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, তরমুজ চাষে খুব পরিশ্রম করতে হয়, পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেক লাভ পাওয়া সম্ভব। 
 কৃৃষক মো. আব্দুল কাদের এবার এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, পানি, ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় মোট ১৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন তরমুজ চাষে। এবছর তিনি একবিঘা জমিতে প্রায় ১০০ মণ তরমুজ পেয়েছেন। মণ প্রতি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে একবিঘা জমিতে তিনি  প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন বলে জানান। তিনি জানান, তরমুজ বিক্রয়ের জন্য তাদের হাটে বাজারে যেতে হয় না। নিজেদের ক্ষেতে বসেই তরমুজ বিক্রয় করে পারেন। শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা এসব তরমুজ কিনে নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করেন। তরমুজ চাষে প্রথম পর্যায়ে চাষিরা লাভবান হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কয়েকধাপ বিক্রয়কারীরা লাভবান হয়। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়া গেলেও শেষ পর্যায়ে এখন অনেক কম দামে তরমুজ বিক্রয় করতে হচ্ছে তাদের। বর্তমানে এলাকার অনেক কৃষক তরমুজ চাষে এগিয়ে আসছেন। তবে এলাকায় যাদের মিষ্টি পানির পুকুর আছে কেবল তারাই তরমুজ চাষ করতে পারছেন। তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। এলাকার অনেক কৃষকের দাবি, যদি মিষ্টি পানির একাধিক পুকুর বা খাল কাটা হত তাহলে এলাকার অনেক কৃষক তরমুজ চাষ করতে পারত।
এছাড়া তালা উপজেলার নগরঘাটায় কয়েকজন চাষি তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছে। গতবছর থেকে ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিন চাষি। তারা তিন জনই নগরঘাটা ইউনিয়নের। তাদের দাবি, বারোমাসি জাতের এই তরমুজ চাষ করে তারা সফল। কম খরচে বেশি ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় অন্যরাও আগ্রহী হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের কথা এমন তরমুজের সমৃদ্ধি ভিটামিন ‘এ’ দেহের ত্বকের জন্য উপকারী। নিয়মিত তরমুজ খেলে ত্বকের হারিয়ে যাওয়া লাবণ্য ফিরে আসবে এমন সম্ভাবনা প্রবল। তরমুজ হার্টকে সুস্থ রাখে। জরিপের ফল অনুসারে, তরমুজের একটি বিশেষ উপাদান হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া, তরমুজের ভিটামিন-সি, ক্যারোটিন ও পটাশিয়াম শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে মানুষের হার্ট বড় ধরনের বিপদ থেকে সবসময় সুরক্ষিত থাকে। 
জেলা কৃৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম জানান,  সাতক্ষীরা জেলার মাটি তরমুজের জন্য পর্যাপ্ত সহায়ক নয়। তবে কিছু কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ কেউ তরমুজের চাষ করছে। তারা সফলতা পেলে বাণিজ্যিক ভাবে তরমুজ চাষের চেষ্টা করবে কর্তৃপক্ষ।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হুসাইন শাফায়াত জানান, তরমুজে প্রচুর ভিটামিন আছে। বিশেষ করে ভিটামিন সি করোনা প্রতিরোধে প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। তবে ফ্রিজে কিম্বা ঠাণ্ড করে না খেয়ে  ইফতারিতে স্বাভাবি  তরমুজ শরীরের জন্য উপকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ