বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৪৬ লাখ ছাড়াল

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৪৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মারা গেছে ৩ লাখ ১০ হাজারের কাছাকাছি। আক্রান্তের এ সংখ্যার তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে।  বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইউরোপে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এ পর্যন্ত মোট ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯০ জনে এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
একক দেশ হিসেবে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ ভাইরাসে এ পর্যন্ত মোট ১৪,৮৪,৫৭৯ আক্রান্ত হয়েছে এবং দেশটি মৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট ৮৮,৫২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য থেকে এএফপি’র সংগ্রহ করা উপাত্ত ব্যবহার করে তৈরি করা এ পরিসংখ্যান করোনা ভাইরাসের প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যার কেবলমাত্র একটি আংশিক প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা, বিশ্বের অনেক দেশ কেবলমাত্র গুরুতর আক্রান্ত লোকদেরই করোনা পরীক্ষা করছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৫১ হাজার ৯১৯ জনে। আর মারা গেছে ৩  লাখ ৯ হাজার ৫৭ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রয়েছে রাশিয়ায়। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৩ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ৪১৮ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ৫৮ হাজার ২২৬ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৮ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৭ জন।
এ ছাড়া, আর যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৭, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৬৭, মারা গেছে ২৭ হাজার ৪৫৯ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ২ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৩, সুস্থ হয়েছে ৫৮ হাজার ২২৬, মারা গেছে ২ হাজার ৪১৮ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭১১, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৩৩ হাজার ৯৯৮ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ২৩ হাজার ২৮৫, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২০৫, মারা গেছে ৩১ হাজার ৬১০ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ২ লাখ ২০ হাজার ২৯১, সুস্থ হয়েছে ৮৪ হাজার ৯৭০, মারা গেছে ১৪ হাজার ৯৬২ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬, সুস্থ হয়েছে ৬০ হাজার ৪৪৮, মারা গেছে ২৭ হাজার ৫২৯ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯৯, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭০০, মারা গেছে ৮ হাজার ১ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৭, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ১৩৩, মারা গেছে ৪ হাজার ৫৫ জন। ইরানে আক্রান্ত ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৩৫, সুস্থ হয়েছে ৯০ হাজার ৮৩৬, মারা গেছে ৬ হাজার ৯০২ জন। পেরুতে আক্রান্ত ৮৪ হাজার ৪৯৫, সুস্থ হয়েছে ২৭ হাজার ১৪৭, মারা গেছে ২ হাজার ৩৯২ জন। 
এ দিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৯৪১, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ২১৯, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৩ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৭৪ হাজার ৬১৩, সুস্থ হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৯৫, মারা গেছে ৫ হাজার ৫৬২ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৫৪ হাজার ৬৪৪, সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ৩০১, মারা গেছে ৮ হাজার ৯৫৯ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ৪৫ হাজার ৩২, সুস্থ হয়েছে ৩০ হাজার ৪৫১, মারা গেছে ৪ হাজার ৭৬৭ জন।  নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৪৩ হাজার ৬৮১, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৫ হাজার ৬৪৩ জন।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরে আক্রান্ত ৩১ হাজার ৪৬৭, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৪৩৩, মারা গেছে ২ হাজার ৫৯৪ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৫১৪, সুস্থ হয়েছে ২৭ হাজার ১০০, মারা গেছে ১ হাজার ৮৭৮ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ২৯ হাজার ২০৭, সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১, মারা গেছে ৩ হাজার ৬৪৬ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত ২৮ হাজার ৫৮৩, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৩২৮, মারা গেছে ১ হাজার ১৯০ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৩ হাজার ৯৫৬, সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ৪৭০, মারা গেছে ১ হাজার ৫১৮ জন। রোমানিয়ায় আক্রান্ত ১৬ হাজার ৪৩৭, সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০, মারা গেছে ১ হাজার ৭০ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ১৬ হাজার ৪৯৬, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৮০৩, মারা গেছে ১ হাজার ৭৬ জন।
 এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ৮৫ হাজার ৯৪০, সুস্থ হয়েছে ৩০ হাজার ২৫৮, মারা গেছে ২ হাজার ৭৫৩ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ৩৮ হাজার ৭৯৯, সুস্থ হয়েছে ১০ হাজার ৮৮০, মারা গেছে ৮৩৪ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ২০ হাজার ৬৫, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৮৮২, মারা গেছে ২৯৮ জন। উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২০ হাজার ৬৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মারা গেছেন ২৯৮ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৮৮২ জন।
বিশ্বব্যাপী তিন লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় চীন ও পেরুকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত।
শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে ৮৫ হাজার ৯৪০ জনের দেহে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ১১তম স্থানে উঠে এলেও ভারতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংক্রমণের হার খানিকটা কমতে দেখা যাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  
সংক্রমণ মোকাবিলায় দেয়া লকডাউনে পর্যদুস্ত অর্থনীতি পুনরায় সচলে বিভিন্ন রাজ্যের সরকার, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানালেও কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।  শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও ভারতে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর পরিমাণ অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাসে দুই হাজার ৭৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।আক্রান্তদের বেশিরভাগই হয় উপসর্গবিহীন, নয় তো হালকা উপসর্গ থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই দেশজুড়ে লকডাউন দিয়ে দেয়াও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।
আক্রান্তের সংখ্যায় একদিনেই যে দুটি দেশকে টপকেছে ভারত, তাদের মধ্যে চীনে শনিবার পর্যন্ত শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৭ জনের।
পেরুতে আক্রান্ত-মৃত্যুর অনুপাত অনেকটা ভারতের মতোই। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত জ্ঞাত আক্রান্ত ৮৪ হাজার ৪৯৫, মৃত্যু দুই হাজার ৩৯২।
ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন দেশটিতে সংক্রমণ হার কমার লক্ষণে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। লকডাউনের আগে প্রতি সাড়ে তিনদিনে আক্রান্ত দ্বিগুণ হলেও, এখন সেটি ১১ দিনে পৌঁছেছে, বলেছেন তিনি।
“লকডাউনের কারণে পরিস্থিতির সুস্পষ্ট উন্নতি দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের এই সময়ের মধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত, তাদের সংস্পর্শে আসা লোকজনকে শনাক্ত, আইসোলেশন ও আক্রান্ত শনাক্তে ব্যবস্থাপনার উন্নতিসহ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করা গেছে,” বলেছেন হর্ষ বর্ধন।
ভারতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই মিলেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে। তামিল নাডু, গুজরাট ও দিল্লিতেও ব্যাপক সংখ্যক মানুষের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।
করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালিতে লকডাউন শিথিলের পর এবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। আগামী ৩ জুন থেকে দেশটিতের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছে না বলে জানিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে এক আদেশে আগামী ৩ জুন থেকে ইতালির এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে ভ্রমণ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে লকডাউনে ছিলো ইতালি। তবে করোনা প্রকোপ কমে যাওয়ায় সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে দেশটিতে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।
ইতালিতে এ পর্যন্ত ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত ২ লাখ ২৩ হাজার ২৮৫, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২০৫, মারা গেছে ৩১ হাজার ৬১০ জন। করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে এবং আক্রান্তের সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইতালি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ