বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পরিবর্তনে প্রবল হবে কোন ধারা

একটি ভাইরাস কত শক্তিশালী হতে পারে, কত ভয়ঙ্কর হতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করলো এবার বিশ্ববাসী। তবে করোনার অভিযাত্রা এখনো শেষ হয়নি। তাই এই মহামারির পুরো প্রভাব সম্পর্কে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। ডাক্তারদের, বিজ্ঞানীদের, রাষ্ট্রনেতাদের মহাবিপদে ফেলে দিয়েছে করোনাভাইরাস। কেউই ঠিকভাবে কিছু বলতে পারছেন না। মানুষ বোধহয় এত অসহায় অবস্থায় এর আগে কখনো পড়েনি। করোনা নিয়ন্ত্রণ এবং করোনা পরবর্তী বিশ্ব নিয়ে সবাই ভাবছেন। একটা বড় প্রশ্ন, পৃথিবীটা কি বদলে যাবে? আগের পৃথিবীটাও তেমন ভালো ছিল না। বিশ্বব্যবস্থায় নীতি-নৈতিকতা ছিল না, ন্যায় ছিল না। আগ্রাসন ছিল, যুদ্ধ ছিল, শক্তিমানদের জোট ছিল, কুমন্ত্রণা ছিল, ছিল শোষণ-বঞ্চনা ও ক্ষোভ। এমন পৃথিবীর পরিবর্তন মানুষের কাম্য ছিল। করোনায় পরিবর্তনের একটা কম্পন অনুভব করা যাচ্ছে। কিন্তু সেই পরির্তনটা মানুষের জন্য, আমাদের প্রিয় এই পৃথিবীর জন্য কেমন হবে? এ নিয়ে মানুষ ভাবছে, জ্ঞান-অভিজ্ঞান দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে।
করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউরোপ মহাদেশ। করোনা পরিস্থিতি পুরো ইউরোপের আদলই হয়তো বদলে দেবে। তেমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। চিন্তার বিষয় হলো, প্রবণতাগুলো নেতিবাচক। বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে প্রভাবশালী বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ ছয়টি নেতিবাচক প্রবণতা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ইউরোপে। অবশ্য এই প্রবণতাগুলো একেবারে নতুন কিছু নয়, আগেই হাজির ছিল, তবে করোনা সেগুলোকে বেগবান করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ব সাপ্লাই চেইন থেকে সরে এসে ইউরোপের দেশগুলো এখন সুরক্ষাবাদী নীতিতে ঝুঁকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলে এসেছে ‘দেশ আগে নীতি’ও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিরোধ দেশীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে সুসংহত করেছে। কয়েক দশক ধরে এব প্রতিষ্ঠান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে গুরুত্ব হারাচ্ছে। করোনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে এবং সমন্বয় সাধনে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপিয়ান কমিশন। অনেক মানুষ করোনা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় নেতাদের দায়িত্ব দিতে এবং নিজস্ব নীতি প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। এছাড়া সীমান্তে কড়াকড়ির দৃষ্টিভঙ্গি প্রবল হচ্ছে। অনেক নেতা চাইছেন, অভিবাসী শ্রমিকরা আর যাতে ইউরোপে প্রবেশ করতে না পারে। করোনা পরিস্থিতি জলবায়ু নীতিতে ও আঘাত হানতে পারে। এখন অনেক ভোটার যাদের জীবন-জীবিকার মান ব্যাপকভাবে নিম্নমুখী, তারা চাইবেন জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্যান্য কথা বলে যাতে তাদের চাকরি এবং আয়ে কাটছাঁট না হয়। আর লোকরঞ্জনবাদী নেতারাতো এসবের পক্ষেই আছেন। এছাড়া অভিবাসীদের গ্রহণ করা, কার্বন নি:সরণ কমানোসহ নানা নীতিতে পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে আগে থেকেই। করোনা সেই দ্বন্দ্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ থেকে উপলব্ধি করা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়ে নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টতো আরো আগে থেকেই বিশ্বায়ন থেকে পিছু হটে উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনাকে উস্কে দিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতেও তিনি তাঁর নেতিবাচক ভাবনা অব্যাহত রেখেছেন। তাহলে মানুষ ভালো পরিবর্তন আশা করবে কেমন করে? আসলে মানুষ ভালো না হলে পরিবর্তন ভালো হয়না। তাই প্রয়োজন ন্যায় এবং নীতি। এর অভাব থাকলে মানুষের দু:খ দূর হবার নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ