সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়ালো

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০১ জনে। এরমধ্যে মারা গেছেন ৬ জন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৪ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৮৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৬ জন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা ও সর্বনিম্নে রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। জেলাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা হলো- যশোরে ৯০ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭৮ জন, ঝিনাইদহে ৪৩ জন, কুষ্টিয়ায় ২২ জন, খুলনায ১৯ জন, মাগুরায় ১৯ জন, নড়াইলে ১৫ জন, বাগেরহাটে ৭ জন, মেহেরপুরে ৬ জন ও সাতক্ষীরায় ২ জন। এরমধ্যে খুলনায় ২ জন, বাগেরহাটে ১ জন, নড়াইলে ১ জন, বাগেরহাটে ১ জন ও চুয়াডাঙ্গায় ১ জন করোনায় মারা গেছেন।
তবে আক্রান্তের সংখ্যার চেয়ে বেশি রোগীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল এ বিভাগে। শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত মোট ৩৩৭ জনকে আইসোলেশনে চিকিৎসা করা হয়। তবে আইসোলেশন থেকে এ পর্যন্ত ছাড়াপত্র পেয়েছেন ১৩৭ জন।
এদিকে গত ১০ মার্চ থেকে খুলনা বিভাগে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল ২৯ হাজার ৮৯৫ জনকে। এরমধ্যে কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ ১৪ দিন পার হওয়ার পর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২৭ হাজার ১৬১ জনকে। বাকিরা এখনও হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মানুষের করোনার পরীক্ষার জন্য তিনটি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। এগুলো হলো- খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাব ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব। বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গা জেলায়।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা বলেন, খুলনা বিভাগের প্রত্যেক জেলায় করোনায় মোকাবিলায় আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আক্রান্তদের উপসর্গ না থাকলে বাড়িতে চিকিৎসা করা হচ্ছে। আর উপসর্গ বেশি হলে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা পিসিআর ল্যাবের মান নিয়ে আইসিডিডিআরবি’র সন্তোষ : খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের মান নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় থাকলেও তা’ দূর করেছেন আন্তর্জাতিক ডায়রিয়াল রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)’র বিশেষজ্ঞ ড. মাজেদুর রহমান। পিসিআর ল্যাবের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ল্যাব টেকনোলজিষ্টদের পাঁচদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। গত বৃহস্পতিবার এ প্রশিক্ষণ শেষ হয়। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে খুলনা পিসিআর ল্যাব স্থাপনের যে নজির দেখিয়েছে এবং এ ল্যাবের মানও এতো ভাল যে, যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার কোন সুযোগ নেই।
এদিকে, খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে একজন রোগী রয়েছেন। নগরীর বয়রা শান্তিনগর এলাকার হাবিবুর রহমান সড়কের বাসিন্দা রিএজেন্ট ব্যবসায়ী ওয়াসিউল ইসলাম ছাড়া বাকীরা ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ওয়াসিউল ইসলাম গত ১২ মে করোনা আক্রান্ত হলে তাকে ওইদিন রাতেই করোনা হাসপাতালে নেয়া হয়। একইসাথে তার বাসা এলাকা লকডাউন করা হয়। বর্তমানে তার বাসা সংলগ্ন সড়ক হাবিবুর রহমান সড়ক লকডাউন অবস্থায় রয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে সুস্থতাবোধ করছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। একইসাথে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নমুনা পরীক্ষা করেও করোনাভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া যায়নি।
গত ২৭ এপ্রিল আক্রান্ত নগরীর নিরালা সংলগ্ন প্রত্যাশা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ কনষ্টেবল আলী আজম এবং গত ৬ মে আক্রান্ত যশোরের অভয়নগরের ইব্রাহীম শেখকে গত বৃহস্পতিবার করোনা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজের তিনজন চিকিৎসক ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তারাও বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। সব মিলিয়ে খুলনা জেলায় আক্রান্ত ১৯জনের মধ্যে ইতোমধ্যেই ১১জন সুস্থ হয়েছেন। দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ