সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতার ভিড় ॥ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

এইচ এম আকতার : করোনা ভাইরাস ঝুঁকির মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল খুলে দেয়া হয়েছে। দোকানপাটসহ সর্বত্র মানুষের ভিড় বাড়ছে; কিন্তু করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কেউ মানছে না।
নিয়ম না মেনে জনসমাগম করায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর বড় মার্কটগুলো বন্ধ থাকলেও যেসব মার্কট খোলা হয়েছে কোন মার্কটেই ক্রেতা বিক্রতা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। শুরুর দিকে ক্রেতা কম থাকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হয়েছ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে মানুষের ভিড় তত বাড়ছে। যেভাবে বাজার মনিটরিং করার কথা ছিল তাকরা হচ্ছে না। প্রতি দিন মার্কটগুলোতে হাজার হাজার লোক ভিড় করছ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এতসব লোক মার্কেটে প্রবেশ করতে হলে ২৪ ঘন্টাও তারা প্রবেশ করতে পারবে না।
মার্কট কতৃপক্ষ শুধু মাইকে বলছে হাত ধুয়ে প্রবেশ করুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালুন। ভিড় এরিয়ে চলুন। করোনা থেকে নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচান।
করোনা ঝুঁকি থাকলেও মার্কেট-শপিংমলে ক্রমেই মানুষের ভিড় বাড়ছে। কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। মাস্ক ও গ্লাভস না পরে ঈদবাজার করা হচ্ছে।
ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, করোনা ঝুঁকি এড়াতে মার্কেট ও শপিংমল কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করার কথা থাকলেওকেউ মানছে না।  ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন ঈদবাজার ঘুরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মৌচাক এলাকায়  অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটার অর্ধেক খোলা রেখে বেচাবিক্রি চলছে। প্রশাসনের লোকজন দেখলেই তারা ভেতরে ক্রেতা রেখেই শাটার টেনে দিচ্ছেন। ফুটপাতেও বসেছে অজস্র দোকান। সেখানে মহিলা ক্রেতাদের সঙ্গে রয়েছে পুরুষ ক্রেতাদের ভিড়।
ঈদবাজার করতে আসা মোহাম্মদ আল আমিন জানান, ঈদ সামনে কেনাকাটা করতে এসেছি; কিন্তু কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অনেকে তো মাস্কও পরে না। ব্যবসায়ীদের উচিত ছিল দোকানে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা; কিন্তু তা কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করা যায় না। কারণ ক্রেতারা অসচেতন। অনেকে মাস্কও পরে না।
গতকাল দুপুরে  হোসাফ মার্কেটে কেনা কাটা করতে আসা আসলাম বলেন,স্বাস্থ্যবিধি   ও সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে সীমিত আকারে দোকানপাট ও শপিংমল  ১১ মে থেকে চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তাই মার্কেটে আসলাম। কিন্তু এসে বিপদে পড়লাম মনে হচ্ছ।  কেউ বিধি নিষেেেধে তোয়াক্কা করছে না।  প্রতিটি স্থানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, অসচেতনতা ও অবহেলা লক্ষ করা যাচ্ছে।
এতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই সব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষি পণ্য পরিবহন, কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
জানা গেছে,রাজধানীর তুরাগ, উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের মার্কেট-শপিংমলে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।
উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তারা মার্কেটগুলো পরিদর্শন করেছেন। প্রথম দিনে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিয়ম-কানুন মেনে ব্যবসা করতে পারলে তারা করবেন; না হলে তাদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। উত্তরা বিভাগের পুলিশের পক্ষ থেকে আশুলিয়া, আবদুল্লাপুর, বিমানবন্দর এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
পোস্তখোলা জুরাইন এলাকার মার্কটগুলোতেও, স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বিভিন্ন মার্কেট খোলা রাখায় এবং জনসমাগম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ফাকে ফাঁকে দোকান খোলছে।     
বৃহস্পতিবার দুপুরে গেন্ডারিযা স্টেশন  বাজার ও পুরনো বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে  জসিম উদ্দিন নামে এক বিক্রেতা জানান, বিভিন্ন মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা দেয়ায় করোনা সংক্রমণ এড়াতে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায়। নিউ মার্কট খোলা না হলেও আশপাশের সব মার্কেট খোলা রয়েছে। এখানে ক্রেতা ভিড়ও উপচে পড়ছে।
শুধু এসব মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মানলেও এখন আর মানছে না। মানুষের সমাগম এতই বেশি যে চাইলেও তা মানা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে করোনার ঝুঁকি বাড়ছেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ