সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রাজশাহী বিভাগে আরো ১ জনের মৃত্যু ॥ আক্রান্ত বেড়ে মোট ৩১১

রাজশাহী: করোনাভীতি উপেক্ষা করে রাজশাহী নগরীতে চলছে ঈদের কেনাকাটা। গতকাল সাহেব বাজার প্রধান সড়কের দৃশ্য -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে দুই জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১২ জন বেড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১১ জনে। এর মধ্যে শুধু নওগাঁতেই বেড়েছে ৯ জন। বিভাগে সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৫৭ জন। এ বিভাগে আরো একজন মারা যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ জনে।
শুক্রবার সিরাজগঞ্জে একজন মারা যান। শনিবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১২ এপ্রিল রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায়। এরপর এখন পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় মোট ৩১১ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়ছেন ২৫১ জন। এর মধ্যে হাসপাতাল আইসোলেশনে ১০৯ জন। বাকিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন হোম আইসোলেশনে। এ বিভাগে আক্রান্তদের মধ্যে রাজশাহী নগরে একজনসহ জেলায় মোট ২০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৬, গত ২৪ ঘন্টায় নয়জন বেড়ে নওগাঁয় ৮৩ জন, নাটোরে ১৩ জন, জয়পুরহাটে ৮৭, বগুড়ায় দুইজন বেড়ে ৬১, সিরাজগঞ্জে ১৫ ও পাবনায় ১৬ জন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ জানান, রাজশাহীতে করোনা আক্রান্ত ২০ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ৬ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আক্রান্ত ১৬ জনের মধ্যে এখনও কেউ সুস্থ হননি। সবাই হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নওগাঁয় আক্রান্ত ৮৩ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। নাটোরে আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে মারা গেছেন একজন। জয়পুরহাটের ৮৭ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ২৯ জন। বগুড়ায় আক্রান্ত ৬১ জনের মধ্যে স্স্থ্যু হয়েছেন ৯ জন। সিরাজগঞ্জে আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আর পাবনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। এর মধ্যে একজন সুস্থ হয়েছেন।
ঈদ পর্যন্ত বন্ধ সব মার্কেট
করোনা সংক্রমণ বিস্তাররোধে ও জনস্বার্থে আগামী ঈদ পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর সকল মার্কেট ও বিপণী বিতানসূমহ বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নগর ভবনে মেয়র দপ্তরকক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশার সাথে চেম্বার অব কর্মাস ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকে সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় মার্কেটের দোকান কর্মচারিদের সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু, রাজশাহী চেম্বার সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ মাদুদ হাসান, রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নূরুন নবী, কাপড়পট্টি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: শামীম, বিনোদপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহিদ, হড়গ্রাম মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, পাদুকা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, স্বর্ণ জুয়েলাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আসলাম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।
বাজারে উপচেপড়া ভীড়
ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহী নগরীর বাজারগুলোতে বেড়েছে সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভীড়। অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও, মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বও। ফলে করোনা মুক্ত রাজশাহী নগরীতে বেড়েছে এখন করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি। ঈদকে ঘিরে খুলছে দোকানাপাট খোলায় কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের আগমন শুরু হয়েছে। বেলা বাড়তে থাকলে ক্রেতা সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে রাজশাহীর বাজার গুলোতে। দেখা গেছে, বাজারে ঈদের কেনা-কাটায় ভীড় বেড়েছে। অনেকটাই গাদাগাদি অবস্থায় কেনা-কাটা চলছে। বাজার করতে এসে নিরাপদ দূরত্বের তোয়াক্কা করছেন না অনেকেই। কেউ কেউ হাতে গ্লাভস না পরে শুধু মুখে মাস্ক পরে এসেছেন। অনেকের আবার মুখে মাস্কও নেই। তারা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে বাজার করছেন। যদিও ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দাবি পরিস্থিতির কারণে ঠিকমতো দূরত্ব রক্ষার নিয়ম মানছেন না তারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসা করছেন। তবে ক্রেতাদের দুরত্ব বজায় রাখতে বললেও অনেক ক্ষেত্রে  তারা শুনছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ