মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দুই বোলারকে খেলতে আমার সমস্যা হতো -----------আশরাফুল

স্পোর্টস রিপোর্টার : মাত্র ১৭ বছর বয়সে মোহাম্মদ আশরাফুল বিশ্বসেরা বোলার মুরালিধরন আর চামিন্দা ভাসকে বেশ সাফল্যের সঙ্গে খেলে জীবনের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরী করেছিলেন। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে সব বাঘা বাঘা বোলারের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তবে দুজন বোলারকে খেলতে সমস্যা হতো বলে জানান আশরাফুল। বৃহস্পতিবার রাতে ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব লাইভে এসে এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দুজন বোলারকে খেলতে আমার কষ্ট হতো। বলতে পারেন আমি স্বস্তিতে খেলতে পারিনি। অস্বস্তিবোধ করেছি। তার একজন হলেন ইংল্যান্ডের ফাস্টবোলার অ্যান্ডু ফ্লিনটফ, অন্যজন অস্ট্রেলিয়ান লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন। সত্যি বলতে কি, এ দুজনার বিপক্ষে খেলতে আমার সমস্যাই হয়েছে। আমি ঠিক নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে পারিনি।’ করোনার কারণে সবাই এখন ঘরবন্দী। করোনা এখন সবার কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক।  জীবনে এর চেয়ে খারাপ আর কঠিন সময় আর আসেনি। তবে ক্রিকেটার আশরাফুলের ভাবনা ভিন্ন। তিনি মনে করেন, করোনার এই সময়টার চেয়েও খারাপ সময় তার জীবনে এসেছিল। টেস্ট অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ঐ নিষিদ্ধ হবার পরের সময়টা ছিল এখনকার করোনাকালীন সময়ের চেয়েও তার খারাপ সময়। আশরাফুল জানালেন, সেই সময়টা এতটাই খারাপ, কঠিন ও দুর্বিষহ ছিল যে এক সময় তার মনে আত্মহত্যার চিন্তাও চলে এসেছিল। ঐ কঠিন সময়ের প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘একজন আমাকে বলছিলেন, এখন করোনার ভেতরে আমরা সবাই ঘরবন্দী। আপনার কেমন লাগছে? আমি বললাম আমার খুব আহামরি খারাপ লাগছে না। তিনি একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, বলেন কি এমন অস্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে খারাপ আর কি হতে পারে? এতেও আপনার খুব খারাপ লাগছে না? আমি বললাম- ভাইরে, আমি আমার জীবনে করোনার চেয়েও কঠিন সময় কাটিয়েছি। যখন ম্যাচ গড়াপেটায় অভিযুক্ত হয়ে আমাকে নিষিদ্ধ করা হলো, আমি নিজে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং করার কথা স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলাম, তখনকার অবস্থা ছিল এর চেয়ে খারাপ।’ তিনি আরও বলেন,‘এখনো মনে আছে কি মানসিক উৎপীড়ন ছিল সেটা। সবাই জানছে আমি অপরাধ করেছি। অন্যায় কাজ করেছি। ম্যাচ পাতিয়েছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি তখন সবার চোখে অপরাধী। সবাই বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করলো। অনেক কাছের মানুষও দূরে সওে গেলেন। প্রিয়জনদের কেউ কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমার প্রতিনিয়ত মনে হতো এরকম একটা অবস্থায় আমি কি করে  বেঁচে থাকবো? আমি কি করে জনসম্মুখে মুখ দেখাবো? আমার পরিবারের কাছে কি বলবো? তাদের কি অবস্থা হবে? সামাজিকভাবে আমি ও আমার পরিবার যে হেয় প্রতিপন্ন হবে, এটা ঢাকবো কি করে?তখন এক সময় আমার মনে হয়েছিল এ জীবন আর রেখে কি লাভ, তার চেয়ে বরং আত্মহত্যা করি। তারপর আমি হজে যাই। হজে গিয়ে আমার মন মানসিকতা পরিবর্তন ঘটে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ