মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ছুঁই ছুঁই ॥ আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৪৪ লাখ

 

# মৃত্যুতে শীর্ষ অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র  # ইতালিতে পিছিয়ে গেল ৫০ হাজার বিয়ে

# বিশ্বব্যাপী আর্থিক ক্ষতি দাঁড়াতে পারে সাড়ে আট লাখ কোটি ডলার 

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্ব। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে এর প্রকোপ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। বুধবার একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৫৩১৪ জনের। এছাড়া একদিনে বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৬ হাজারের বেশি করোনা রোগী। এ তথ্য জানিয়েছে করোনা ভাইরাস নিয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৯৮ হাজার ১৬৫ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৭ জন। অপরদিকে ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

দেশের নাম আক্রান্ত মৃত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৪,৩০,৩৪৮  ৮৫,১৯৭

স্পেন ২,৭১,০৯৫   ২৭,১০৪

রাশযি়া ২,৫২,২৪৫  ২,৩০৫

যুক্তরাজ্য ২,২৯,৭০৫  ৩৩,১৮৬

ইতালি ২,২২,১০৪  ৩১,১০৬

ব্রাজলি ১,৯০,১৩৭  ১৩,২৪০

ফ্রান্স ১,৭৮,২২৫  ২৭,০৭৪

র্জামানি ১,৭৪,০৯৮  ৭,৮৬১

মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ২৪ লাখ ৭২ হাজার ২৪৮ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯২০ জন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৯০৫ জন। কোভিড-১৯ এর ভাইরাসটি বিশ্বের ২১২টি দেশ এবং অঞ্চলে ছাড়িয়ে পড়েছে। 

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বাধিক মৃত্যু এবং আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এবং মারা গেছেন ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ। মহামারির ফলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৮৬ জন রয়েছে যুক্তরাজ্যে।

মার্কিন জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৪ জন। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৩১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বে ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৭০৪ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৪৫ হাজার ৯২০ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৪ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৮, সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৫৯, মারা গেছে ৮৫ হাজার ১৯৭ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে। 

আর যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৫, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২৭, মারা গেছে ২৭ হাজার ১০৪ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ২ লাখ ৪২ হাজার ২৭১, সুস্থ হয়েছে ৪৮ হাজার ৩, মারা গেছে ২ হাজার ২১২ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২ লাখ ২৯ হাজার ৭০৫, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৩৩ হাজার ১৮৬ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ২২ হাজার ১০৪, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৪১, মারা গেছে ৩১ হাজার ১০৬ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৫৭, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৪, মারা গেছে ১৩ হাজার ১৫৮ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬০, সুস্থ হয়েছে ৫৮ হাজার ৬৭৩, মারা গেছে ২৭ হাজার ৭৪ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭০০, মারা গেছে ৭ হাজার ৮৬১ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ১১৪, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৭১৫, মারা গেছে ৩ হাজার ৯৫২ জন। ইরানে আক্রান্ত ১ লাখ ১২ হাজার ৭২৫, সুস্থ হয়েছে ৮৯ হাজার ৪২৮, মারা গেছে ৬ হাজার ৭৮৩ জন।

এদিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৯২৯, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ১৯৫, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৩ জন। পেরুতে আক্রান্ত ৭৬ হাজার ৩০৬, সুস্থ হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪, মারা গেছে ২ হাজার ১৬৯ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৭২ হাজার ২৭৮, সুস্থ হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬৪, মারা গেছে ৫ হাজার ৩০২ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৫৩ হাজার ৯৯১, সুস্থ হয়েছে ১৩ হাজার ৯৩৭, মারা গেছে ৮ হাজার ৮৪৩ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৪৩ হাজার ২১১, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৫ হাজার ৫৬২ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ৪০ হাজার ১৮৬, সুস্থ হয়েছে ২৫ হাজার ৯৩৫, মারা গেছে ৪ হাজার ২২০ জন।  

অন্যদিকে, ইকুয়েডরে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৪৮৬, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৪৩৩, মারা গেছে ২ হাজার ৩৩৪ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৪১৩, সুস্থ হয়েছে ২৭ হাজার ১০০, মারা গেছে ১ হাজার ৮৭০ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত ২৮ হাজার ১৩২, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ১৮২, মারা গেছে ১ হাজার ১৭৫ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ২৭ হাজার ৯০৯, সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১, মারা গেছে ৩ হাজার ৪৬০ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৩ হাজার ৪০১, সুস্থ হয়েছে ১৯ হাজার ৪৭০, মারা গেছে ১ হাজার ৪৯৭ জন। রোমানিয়ায় আক্রান্ত ১৬ হাজার ২, সুস্থ হয়েছে ৭ হাজার ৯৬১, মারা গেছে ১ হাজার ৩৬ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ১৫ হাজার ৪৩৮, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ২৮৭, মারা গেছে ১ হাজার ২৮ জন।

 এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ৭৮ হাজার ৫৫, সুস্থ হয়েছে ২৬ হাজার ৪০০, মারা গেছে ২ হাজার ৫৫১ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ৩৫ হাজার ২৯৮, সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ৮৯৯, মারা গেছে ৭৬১ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ১৭ হাজার ৮২২, সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৩৬১, মারা গেছে ২৬৯ জন।

 প্রসঙ্গত, এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, বারবার কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং হঠাৎ করে স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের সব দেশেই ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই পিছিয়ে গেছে। তেমনি পিছিয়ে গেছে অনেকের বিয়েও। ইতোমধ্যে ইতালিতে প্রায় ১৭ হাজার বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সেখানে এই সময়টি বিয়ের মৌসুম। তাই ধারণা করা হচ্ছে আগামী কয়েক মাসে দেশটিতে বিয়ে পিছিয়ে যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার হতে পারে।রাই নিউজ বেতারের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইতালিতে বেশ জাকজমকভাবে নিজস্ব সংস্কৃতিতে বিয়ের উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজনে থাকে একাধিক ইভেন্ট প্ল্যানার প্রতিষ্ঠান।

ইতালি ঘটা করে বিয়ের অনুষ্ঠান উদযাপন করতে বহু বিদেশি দম্পতি সচরাচর যান। এর মধ্যে থাকেন বিভিন্ন দেশের সেলিব্রেটিও। কিন্তু এই করোনার কারণে এবার দেশটিতে বিদেশিদের বিয়ের অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।

করোনার কারণে বর্তমানে দেশটিতে বিয়ে সংক্রান্ত সব ব্যবসা বন্ধ। এ বিষয়ে দেশটির এক বিবাহ ইভেন্ট ম্যানেজার বলছিলেন, বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে গত বছর ইতালি ভ্রমণ করেন ৯ হাজার বিদেশি দম্পতি। তিনি দেশটিতে বিয়ের অনুষ্ঠান আবার শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন। তার মতো এমন অনুরোধ আরও অনেকের।

করোনার কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান সীমিত করার পক্ষে মত দিয়ে এই ইভেন্ট ম্যানেজার বলেন, এখন হোটেলের হলরুমের পরিবর্তে হোটেলের পার্কে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে। সেইসঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথি কমিয়ে ৫০০ এর পরিবর্তে ৩০০ করা যেতে পারে।

বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল হওয়া, মন খারাপ করা ভবিষ্যত নববধুদেরও সমবেদনা জানিয়েছেন বিয়ের জমকালো পোশাক দোকানের এক মালিক।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি অন্তত ৩ দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়ে পড়বে। এতে বিশ্বব্যাপী মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে সাড়ে আট লাখ কোটি (৮.৫ ট্রিলিয়ন) মার্কিন ডলার। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বুধবার প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা (ডব্লিউইএসপি) প্রতিবেদনে সংস্থাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ (ডিইএসএ) জানিয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যভাগে উন্নত দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমে যেতে পারে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত। এসময় উন্নয়নশীল দেশগুলোর উৎপাদন কমবে ০.৭ শতাংশ।

জাতিসংঘের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সহকারী মহাসচিব এলিয়ট হ্যারিস বলেন, ‘জানুয়ারিতে ডব্লিউইএসপি ২০২০ শুরুর পর থেকে বিশ্বের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।’ করোনাভাইরাস এক অভূতপূর্ব স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। লকডাউন ও সীমান্ত বন্ধ অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে অবশ করে দিয়েছে, বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছে।

হ্যারিস বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের বিধিনিষেধ ও তীব্র অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আমরা এমন এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি, যা মহামন্দার পর আর দেখা যায়নি।’

করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলা ও ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে বিভিন্ন দেশ যে পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে তা বৈশ্বিক জিডিপির মোটামুটি ১০ শতাংশের সমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ