শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকা হাওয়া হওয়ার রহস্য উদঘাটন হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিভিন্ন শাখা থেকে উত্তোলন করা ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকার বস্তাটি গাড়ি থেকে হাওয়া হয়ে যাওয়ার রহস্য উদঘাটন হয়নি। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যাংক কর্মকর্তাসহ চারজনের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে পুলিশ বলছে টাকার বস্তাটি খোয়া যায়নি, ওই টাকা চুরি করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের কোনো পর্যায়ে ওই টাকার বস্তাটি গাড়ি থেকে চুরি করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভ ফুটেজ বিশ্লেষণে জানতে পেরেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ। ঘটনা স্থলের আশেপাশের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাইবাছাই করে দেখছে পুলিশ। 

কোতোয়ালি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দিনে ঘটা ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। মামলায় টাকার গাড়ির দায়িত্বে থাকা চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তাদের একদিন রিমান্ডের পর ব্যাংকের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা, একজন গাড়িচালক ও দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে টাকা উধাও কিংবা হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে বিশেষ কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই টাকা হারিয়ে যায়নি। চুরি করা হয়েছে। চেষ্টা চলছে, খুব শিগগিরই টাকা চুরির বিষয়টি উদঘাটিত হবে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা, দুজন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে সুরক্ষিত গাড়িতে ব্যাংকটির পুরান ঢাকার বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা তোলেন। ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা সংগ্রহ করে মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। পুরান ঢাকার বাবুবাজারে পৌঁছানোর পরই গাড়িতে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার করে বলেন, টাকার একটি বস্তা পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে ৮০ লাখ টাকা ছিল। বিষয়টি ন্যাশনাল ব্যাংক প্রধান কার্যালয় জানার পর থানায় মামলা করা হয়। আটক করা হয় ওই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ চারজনকে। 

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, আমরা আদালতের নির্দেশে তাদের একদিন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পেয়েছি তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। টাকার গাড়িটি যেসব এলাকায় ঘোরাঘুরি করেছে, সম্ভাব্য সব এলাকার বেশকিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। ফুটেজে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পেয়েছি। ওই ফুটেজ ধরেই পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের প্রাথমিক অবস্থায় আমরা বিশেষ কিছু জানাচ্ছি না। এতটুকু বলতে পারি, একটু অপেক্ষা করুন। চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ঘটনার আদ্যোপান্ত জানাবে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ওই টাকার গাড়ির দায়িত্বে থাকা চারজনকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হলেও টাকা খোয়া যাওয়ার মামলায় তারা জড়িত কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তাদের সন্দেহের তালিকা থেকেও বাদ দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের গাড়ি থেকে ৮০ লাখ টাকার একটি বস্তা খোয়া যাওয়ার ঘটনার নিবিড় তদন্ত চলছে। তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিজস্ব সোর্সের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। সংগৃহীত সিটিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চারজনকে এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই টাকা খোয়া যায়নি বা হারায়নি, টাকাটা আসলে চুরি হয়েছে। ওই টাকার গাড়ির দায়িত্বে থাকা চারজনের অসতর্কতায় কেউ একজন টাকার বস্তাটি চুরি করে নিয়ে যায়। তবে টাকা চুরির এই ঘটনায় গাড়ির ওই চারজনের কেউ জড়িত আছে কি না, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, তারা এ সংক্রান্ত বিশেষ তথ্য দেননি। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান আরাফাত বলেন, টাকা খোয়া যাওয়ার ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশ ছায়া তদন্ত করছে। বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পেয়েছি। 

নির্বাহী কর্মকর্তাসহ চারজন কারাগারে : ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকার একটি বস্তা গাড়ি থেকে খোয়া যাওয়ার ব্যাংকটির একজন নির্বাহী কর্মকর্তাসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কোতয়ালী থানার আদালতের সাধারণ কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকা হওয়ার ঘটনায় করা মামলার চারজনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসা শেষ হওয়ায় বুধবার তাদের আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- ন্যাশনাল ব্যাংক দিলকুশা শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ডন (৪৩), গাড়িচালক আব্দুল লতিফ (৫৫), দুজন নিরাপত্তাকর্মী শাহ আলম (৫০) ও ইউনুস আলী (৫০)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ