শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

করোনাকালে বন্দী শিশুদের মুক্তি দেয়াকে ইউনিসেফের স্বাগত

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিচারের অপেক্ষায় আটক থাকা শিশুদের প্রথম দলের মুক্তি দেয়াকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। মহামারি করোনা ভাইরাসে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ইউনিসেফের সহযোগিতায় ভার্চুয়াল শিশু আদালত চালু করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

বাংলাদেশের শিশু আদালতগুলো আইন অমান্যের অভিযোগ থাকা শিশুদের বিচার দ্রুত করছে, যাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে তাদের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকে মুক্তি দেয়া যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, গত মার্চে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে আটক শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এ সংখ্যা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। ছোটখাটো অপরাধের বিচার বা সাজার অপেক্ষায় থাকা এক হাজারের বেশি শিশু বর্তমানে তিনটি কেন্দ্রে আটক রয়েছে।

কেন্দ্রগুলোতে সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও লজিস্টিকস সহায়তা, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও হাইজিন সুবিধা থাকার ফলে সেখানকার শিশু ও কর্মীদের সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বা সেলফ আইসোলেশনের পক্ষে খুবই কঠিন। এসব কেন্দ্র সংক্রমণের হটস্পট হয়ে উঠতে পারে। শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে ভার্চুয়াল আদালত চালুর অধ্যাদেশ জারি করেন এবং ১২ মে বাংলাদেশে প্রথম ভার্চুয়াল শিশু আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এই আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় সমাজসেবা অধিদফতর এবং কেন্দ্রগুলোতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, আমি ভার্চুয়াল শিশু আদালত চালুর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছি এবং বন্দিদশা থেকে তাদের মুক্তি পাওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি। শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা অবশ্যই করোনা মোকাবিলায় আমাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রে থাকবে। সব ক্ষেত্রেই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শিশুদের জন্য এই মহামারিকে একটি স্থায়ী সংকটে রূপ নেয়া থেকে প্রতিরোধ করতে পারি।

গত বুধবার প্রথম দফায় সাত শিশুর মুক্তির পথ অনুসরণ করে আগামী দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকশ শিশু মুক্তি পেতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই শিশুরা যাতে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে পারে সেজন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতে সহায়তার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদফতরের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। এসব শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, মনোসামাজিক সহায়তা, সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা এবং শিক্ষার মতো অন্যান্য সেবা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে পরিবারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।

ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে একটি কিশোর বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে আরও একটি আদালত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যেটা শিশুদের প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় নেবে। শিশুবান্ধব আদালতসহ শিশুদের ন্যায়বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের শিশু অধিকার বিষয়ক বিশেষ কমিটি এবং আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।

১০২টি আদালতের মধ্যে ১৬টি আদালতের পরিবেশ এখন শিশুদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম ভীতিকর এবং সেগুলোর কর্মীরা শিশু অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ভার্চুয়াল আদালত চালুর অধ্যাদেশের পর ইউনিসেফ এখন প্র্যাকটিস নির্দেশনা প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, যাতে শিশু আদালতগুলো আরও শিশুবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ