মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

করোনায় গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য বিশেষ অনুদান ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান ডিইউজের

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা পরিস্থিতিতে কর্মরত সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ অনুদান প্রদান ও তাদের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। গতকাল বুধবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নির্বাহী পরিষদের এক ভার্চুয়াল সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় গণমাধ্যমে ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়াবেতন ও উৎসব ভাতা প্রদান, চাকরিচ্যুতদের চাকরিতে পুনর্বহাল, সংবাদকর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গণমাধ্যম মালিককে বহন করা, মৃত্যুবরণ করলে মালিককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিবারকে নগদে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া, বিশেষ আর্থিক অনুদান,ঝুঁকি ভাতা ও চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন,  বীমার ব্যবস্থা করা, বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা, বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল দ্রুত পরিশোষের ব্যবস্থা করা, গণমাধ্যমের সব কর দুই বছরের জন্য স্থগিত করা, বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট মওকুফ করা, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজ করার সুযোগ দেয়া,  প্রবীণ সাংবাদিক, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ,ফটোসাংবাদিক শহিদুল ইসলাম কাজলসহ গ্রেফতারকৃত সকল লেখক সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,  বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়া,  বেকার সাংবাদিকদের  আর্থিক সহায়তা প্রদান, বয়স্ক, অসচ্ছল, সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য রেশন কার্ড বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শহর ও মফস্বল অঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহ করছে। ইতোমধ্যে তিনজন সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের পেশা, তবুও দুঃখজনকভাবে আজ তাদের অনেককে বিনা বেতনে কাজ করতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক এই পরিস্থিতিতেও করোনা আক্রান্ত সাংবাদিকদের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি। এই অবস্থায় সাংবাদিকদের আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থাসহ অন্য বিষয়গুলো কার্যকর করতে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এ সভায় অন্যদের মধ্যে সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, বাছির জামাল, রাশেদুল হক,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সাজু, কোষাধ্যক্ষ গাজী আনোয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক মো: দিদারুল আলম, প্রচার সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসাইন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল কালাম, জনকল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান মাসুদা সুলতানা, দপ্তর সম্পাদক ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর,কার্যনির্বাহী সদস্য রফিক মুহাম্মদ ,শহীদুল ইসলাম,  খন্দকার হাসনাত করিম পিন্টু, জেসমিন জুঁই , আবুল হোসেন খান মোহন , কাজী তাজিম উদ্দিন , রফিক লিটন, মো: আব্দুল হালিম, শামছুল আরেফিন, আলমগীর শিকদার,আবু বকর ও আবু হানিফ অংশ নেন।
সভার এক প্রস্তাবনায় বলা হয়, করোনা দুর্যোগে যে সব পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে জরুরি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা তাদের অন্যতম। চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরই এ দুর্যোগে সম্মুখসমরের যোদ্ধা সাংবাদিকরা। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যেমন বিশেষ উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, তেমনি সাংবাদিক ও সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম শিল্পের সুরক্ষাতেও কোনো সরকারি প্রণোদনা/অনুদান দেওয়া হচ্ছে না। সভায় বলা হয়, করোনাকালে সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল অনেক ক্ষেত্রেই সেটা নিশ্চিত করা যায়নি। কিছু সংবাদমাধ্যম কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ করে দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই তা করতে পারেনি। তেমনি মাঠের কাজে নিয়োজিতদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাকও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। করোনার কারণে ঢাকা থেকে প্রকাশিত অন্তত আটটি জাতীয় দৈনিকের মুদ্রিত সংস্করণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলোও অশনিসংকেত দেখছে।
সভায় করোনাকালে গণমাধ্যম কর্মীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিইউজে নেতারা বলেন, করোনা যুদ্ধে গণমাধ্যম কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। এমন বাস্তবতায় গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সরকারের বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। সভায় বেসরকারি খাতের গণমাধ্যম কর্মীরা যেন চাকরিচ্যুত না হয়, সময় মত যেন বেতন পান এবং সুরক্ষিতভাবে কাজ করতে পারে সেজন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়।
সভার অপর এক প্রস্তাবনায় বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের জন্য ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যু হলে তার পরিবার পদমর্যাদা অনুসারে এককালীন বিশেষ অর্থ সহায়তা পাবেন। থাকবে বিমার ব্যবস্থাও। কিন্তু সাংবাদিক কিংবা গণমাধ্যমের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করোনা পরিস্থিতিতে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা নেই। নেই প্রণোদনা। নেই তাদের পেশাগত নিরাপত্তা। সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ স্তম্ভের মর্যাদা আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রকৃত চিত্র এমন যে, গণমাধ্যম কর্মীরা যেনো আজ এক ধরনের তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য যে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকার কথা সেটা নেই বললেই চলে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবি এখনো অপূর্ণই রয়ে গেলো। কখনো সাংবাদিকরা নিরাপত্তার সুযোগ ভোগ করতে পারেনি। ক্ষেত্র বিশেষ যে নাগরিক অধিকার পাওয়ার কথা একজন সংবাদকর্মীর, তাও আজ উপেক্ষিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ