ঢাকা, বুধবার 14 April 2021, ১ বৈশাখ ১৪২৭, ১ রমযান ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

সংগ্রাম সম্পাদকের জামিন হয়নি ভার্চুয়াল বেঞ্চে

স্টাফ রিপোর্টার : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে জামিন দেননি হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ। তবে নিয়মিত বেঞ্চে জামিন শুনানীর পরামর্শ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে ভিডিও কনফারেন্সে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্ত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজ উদ্দিন ফকির।
এ বিষয়ে শিশির মনির জানান, আদালত জামিন দেননি। আবেদনটি নিয়ে নিয়মিত বেঞ্চে (ছুটি শেষে আদালত খোলার পর) যেতে বলেছেন।
শুনানীতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ ৮০ বছর বয়স্ক একজন প্রবীণ নাগরিক। গত ডিসেম্বর মাস থেকে তিনি  দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে আটক আছেন। তিনি শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এছাড়া তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্রমান্বয়ে হারিয়ে ফেলছেন। চিকিৎসকগণ তাকে অতিসত্বর ডান চোখে ক্যাটারেক্ট সার্জারির পরামর্শ দিয়েছেন। শ্বাসকষ্টের রোগী হওয়াতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছেন তিনি। আর তার বিরুদ্ধে যে আইনে মামলা করা হয়েছে তা চলতে পারে না। কেননা  পত্রিকায় নিউজ দেখে মামলা করা হয়েছে, এনিউজটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়নি। এসব গ্রাউ ন্ডে জামিন চাওয়া হয়।
রাষ্টপক্ষ জামিনের বিরোধীতা করে বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধীকে শহীদ বলে জাতির সাথে উপহাস করা হয়েছে। আর যুদ্ধাপরাধীকে শহীদ বলে সবোচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করা হয়েছে। আর সংবিধানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে থিম রয়েছে তার পরিপন্থী। এসব গ্রাউন্ডে তারা জামিনের বিরোধীতা করেন।
গত ৫ মে কারাবন্দী দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদের জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বরাবরে আবেদন করা হয়।
এরপর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রথম আবেদনকারী হিসেবে গত ১১ মে আবুল আসাদের জামিন আবেদন করা হয়।
২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে পরদিন দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন। ১৩ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদকসহ সাত-আটজনকে আসামী করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। এর আগে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংগ্রামের কার্যালয় থেকে সম্পাদক আবুল আসাদকে হেফাজতে নেয় হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ