ঢাকা, মঙ্গলবার 26 January 2021, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আশ্চর্যরকম কম!

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: দখলদার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের তুলনায় মজলুম ফিলিস্তিনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃতে সংখ্যা অনেক কম। ইসরাইলে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৫৪ জন। কিন্তু ইসরায়েলের দখলদারিত্বে বসবাস করা দুর্বল ফিলিস্তিনে সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত টানা চারদিন নতুন কোনও করোনা রোগী পাওয়া যায়নি।

দেশটির স্বাস্থমন্ত্রী মাই আলকাইলা এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বর্তমানে ফিলিস্তিনে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রয়েছেন ৫৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৫৫ জন পশ্চিম তীরে, ২০ জন গাজায় এবং ১৭২ জন দখলিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩৬৭ জন বা ৬৭ শতাংশ। আর মারা গেছে মাত্র ২ জন। তবে ইসরায়েলের অবরোধে থাকা গাজায় কোনও মৃত্যু নেই।

তুলনামুলক এ চিত্র বলে দিচ্ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুই দিক থেকেই ইসরায়েলের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে ফিলিস্তিন। 

এ সাফল্যের কারণ হিসেবে মনে করা হয়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দু’মাস আগে প্রথম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় দেশটিতে। এসময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয় সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি ইসরায়েল ও জর্দানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে অর্থনীতি রক্ষায় পশ্বিম তীরে বিধিনিষেধ শিথিল করে কিছু ব্যবসা চালু করার সুযোগ দেওয়া হলেও জরুরি অবস্থা থাকবে ৫ জুন পর্যন্ত। এ সময়ে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সব ধরনের জনসমাবেশ বন্ধ থাকবে।

রামাল্লায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইব্রাহিম মেলহেম বলেন, সব ধরনের ধর্মীয় এবং সামাজিক কর্মকান্ড এখন বাসায় করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে। সবাই হাত ধুয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করছে।

১৩ বছর যাবত ইসরায়েলের অবরোধে থাকা এ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ফলে এখানে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা অনেক বেশি। তারপরও আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয়ই আশ্চর্যরকম কম!

এ নিয়ে গাজার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আইয়াদ আল বাজাম করোনা মোকাবেলায় তাদের  পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, করোনার বিস্তৃতি রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জনগণও এ ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা বলেন, গত ২২ মার্চ এখানে প্রথম করোনা সনাক্ত হয়। এরপর থেকে আমরা ‘বাসায় থাকুন প্রচারণা চালু করেছি। বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে এবং মাস্ক পরছে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ