শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিদেশী শ্রমিক নিয়ে ভাবতে হচ্ছে আরব দেশগুলোকে

১০ মে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস : সম্প্রতি কুয়েতে একটি টকশোর আলোচকরা এমন একটি বিষয় তুলে ধরেন, যার ফলে করোনাভাইরাস মহামারী জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

ওই আলোচনায় যে প্রশ্নটি উঠে আসে, তা হল তেলসমৃদ্ধ ছোট্ট দেশটির এখনও বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করা উচিত কিনা। দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের অধিকাংশই এসব বিদেশি শ্রমিক, আর লকডাউনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তও তারা।

“কুয়েতের মলগুলোতে যান, সেখানে কখনও কোনো কুয়েতিকে কাজ করতে দেখেছেন? না, সেখানে সবাই অন্য দেশের নাগরিক,” টকশোর একজন আলোচকের এই কথাতেই পরিষ্কার, কতটা বিদেশি শ্রমিকনির্ভর দেশটি।

কিছুক্ষণ পরই টকশো সময়ই ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে যান দক্ষিণ এশীয় একজন কর্মী, যিনি ট্রেতে করে অতিথিদের চা পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান চলার সময় তিনবার ওই শ্রমিককে দেখা গেছে ক্যামেরায়। 

মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মূলত নির্ভরশীল এশিয়া, আফ্রিকা এবং দরিদ্র আরব দেশগুলো থেকে যাওয়া বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিকের ওপর। টি-বয়, গৃহকর্মী, চিকিৎসক, নির্মাণ শ্রমিক, ডেলিভারিম্যান, শেফ, নিরাপত্তাকর্মী, নাপিত, হোটেলকর্মী- এসব দেশে এমন আরও অনেক পেশায় নিয়োজিত লাখ লাখ বিদেশি। কখনও কখনও তো স্থানীয়দের ছাপিয়ে যায় অভিবাসীর সংখ্যা।

ধনী আরবরা যে কাজগুলো করেনা, বিদেশি শ্রমিকরা সেসবই লুফে নেন। আর সেই উপার্জনেই তাদের দেশে পরিবারগুলো পায় স্বাচ্ছন্দ্য।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তেল বিক্রিতে ধস, বিদেশি শ্রমিকদের আবাসস্থলগুলো ভাইরাস সংক্রমণের মূল ক্ষেত্র হয়ে ওঠা আর স্থানীয় নাগরিকরা প্রথমে নিজেদের সুরক্ষা দাবি করায় চিত্রটা পাল্টে গেছে এসব দেশে।

বিদেশি, নাকি স্থানীয় নাগরিক- কার অধিকার আগে, মহামারী এখন এই বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।  

মহামারীর এ সময়ে আরব দেশগুলোতে বিদেশিদের প্রতি বৈরিতাও বেড়ে গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশি শ্রমিক না থাকলে সে শূন্যতা স্থানীয়দের দিয়ে পূরণ করার উপায়টা কি?

তাছাড়া বিদেশি শ্রমিক আমদানি এবং তাদের অবস্থান নির্ধারণ করারও দাবি তোলা হচ্ছে।

বিভিন্ন আরব দেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরা ২০১৭ সালে তাদের দেশে যে অর্থ পাঠিয়েছেন, সবমিলিয়ে তার পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। করোনাভাইরাস সরাসরি তাদের এই উপার্জনে আঘাত হেনেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে লকডাউনের কারণে এক লাখের মতো বিদেশি শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। তাদের এখন সরকার থেকে দেওয়া যথসামান্য রেশনের খাবোরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশে তাদের পরিবারগুলো পড়েছে অর্থসঙ্কটে।

আরেকদল শ্রমিক ডরমেটরিতে গাদাগাদি করে থাকার কারণে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।

তেলের দাম আর পর্যটন খাতের আয়ে ধস নামায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে হয়তো বিদেশি শ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কারেন ইয়ং বলেন, “তিন মাস আগে যে সক্ষমতা ছিল, এখন তার অর্ধেক নিয়ে চলছে দেশগুলো এবং সামনে আরও কাটছাঁট হবে। ফলে তারা নিজেদের নাগরিক এবং বিদেশিদের জন্য কতটুকু করতে পারবে তা আরও আলোচনার দাবি রাখে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ