শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গাজীপুরে করোনা নিয়েই কারখানায় কাজ করছিলেন বাবা-মেয়েসহ চার পোশাক শ্রমিক

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরে বাবা-মেয়েসহ ৪ পোশাক কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দেহে করোনা ভাইরাসের জীবাণু নিয়েই কয়েকদিন ধরে তারা কারখানায় কাজ করছিলেন। এতে এলাকায় এ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। আক্রান্ত ওই চারজন গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকার লিপি গার্মেন্টস ও ফ্যান্টাসি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামে। আক্রান্ত ব্যক্তিটি জানান, স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ৬জনকে নিয়ে তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজারের শিরিরচালা এলাকার ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকুরী করেন। গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী এক দম্পতিও গাজীপুরের একই বাড়িতে ভাড়া থেকে চাকুরি করেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কারখানা ছুটি হয়ে গেলে তারা সুনামগঞ্জের কাউকান্দি গ্রামের বাড়িতে চলে যান। গাজীপুর থেকে যাওয়ায় স্থানীয় আতংকদের চাপে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য তারা সবাই গত ২২ এপ্রিল তাহিরপুর এলাকায় নমুনা দেন। এসময় তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলা হয়। কিন্তু নমূনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই পোশাক কারখানা খোলার ঘোষণা দিলে গত ২৬ এপ্রিল তারা গাজীপুরের ভাড়া বাড়িতে ফিরে আসেন। গাজীপুরে এসে তারা কর্মস্থলে যোগ দিয়ে দিন ধরে নিয়মিত কাজ করে আসছিলেন। এদিকে গাজীপুরে ফিরে আসার পর ৪ মে ওই নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন সুনামগঞ্জে পৌঁছে। এতে চারজনের নমুনায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে বাবা-মেয়ে ছাড়াও তাদের প্রতিবেশী অপর দু’নারীও রয়েছেন। তাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামে।
আক্রান্তরা জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য গত ২২ এপ্রিল আমাদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। করোনা সংক্রমনের কোন লক্ষণ দেহে নেই, আমাদের কোন সমস্যা মনে হয়নি। পরীক্ষার কোন ফলাফলও আমরা কেউ পাইনি। তাই আমরা সকলে নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দেই। ৫ মে কাজ সেরে বাসায় ফিরি। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাতে আমাদের কারখানায় যেতে বারন করে বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বলে। আমাদের জানানো হয় আমরা করোনায় আক্রান্ত। গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ শাহীন জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের তাদের সুনামগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে না পেয়ে প্রশাসনের লোকজন বিষয়টি গাজীপুরের প্রশাসনকে জানায়। তারপরই খোঁজাখুঁজি করে গাজীপুরে তাদের সন্ধান করা হয়। মঙ্গলবার রাতে আমরা তাহেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ৪ জনের করোনা পজিটিভের তথ্য পাই। আক্রান্ত ব্যক্তিরা গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকার লিপি গার্মেন্টস ও ফ্যান্টাসি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তারা গত ২২ এপ্রিল তাহিরপুর এলাকায় নমুনা দেন। ৪ মে তাদের নমুনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কিন্তু এর আগেই তারা গাজীপুরের বাসায় চলে আসেন। বুধবার গাজীপুরে তাদের বাসায় গিয়ে তথ্য যাচাই করা হয়েছে। তাদের ভাড়া বাসা লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বা শনিবার আবার তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে পুনরায় পরীক্ষার জন্য। তবে তারা বাসায়ই আছেন এবং সুস্থ আছেন।
আক্রান্তের ছেলে মুরসালিন জানান, গত ২৭ এপ্রিল বাবা, বোন ও মা ২৯ এপ্রিল এবং প্রতিবেশী দম্পতি ২ মে কারখানায় কাজে যোগদান করেন। মঙ্গলবার কাজ শেষে কারখানা ছুটির পর তারা সবাই বাসায় চলে আসেন। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য তাদেরকে জানান, তার বাবা (৪৫), ছোট বোন (১৮) ও প্রতিবেশী সহোদর দুই বোন (৩২) ও (৩০) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় মেম্বার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের কাজে যেতে বারণ করে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। 
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, শ্রমিকরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানছে না। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই চারজনের সংস্পর্শে অন্যরা আসার কারণে এলাকায় এ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে উঠবে। এ চারজন সহ জেলায় এ পর্যন্ত ৫ পোশাক শ্রমিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ