শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সৈয়দপুরে গৃহবধূ হত্যার বিচার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন

জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী): যৌতুকের দাবিতে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার গৃহবধূ ও এক সন্তানের জননী লাভলী বেগমের (৩২) অর্থলোভী, নির্যাতনকারী ও ঘাতক স্বামী একরামুল হক চৌধুরীর বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাবার পরিবার। ৬ মে বুধবার বিকাল ৪ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল হাজীপাড়ায় নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন লাভলীর বাবা অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মচারী মোঃ আব্দুল হাফিজ (৭০)। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন লাভলীর মা রশিদা আক্তার, বড় বোন কেয়া আক্তার, দুলাভাই মোঃ আমজাদ হোসেন, ভাই মমিনুল ইসলাম, নওশাদ আলী ও শরিফুল আলম প্রমুখ।
আব্দুল হাফিজ জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকের কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে একরামুল। তাকে সহযোগিতা করেছে বিরামপুরে অবস্থানকারী তার বোন রোজিনা ও দুলাভাই মোস্তাফিজুর। আর একরামুলকে প্ররোচিত করেছে তার বোন ও তাদের বিয়ের ঘটক শিউলি বেগম। কিন্তু এ হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। একরামুলের কর্মস্থল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তার পরিবারের লোকজন বিরামপুরের প্রভাবশালীদের দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেছে। সে কারণে হত্যার পর থেকে ছেলে লাবীব কে নিয়ে পালিয়ে থাকা একরামুলককে ধরা বা তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে পুলিশ। কোনভাবেই যেন হত্যার অভিযোগ না দেয়া হয় সেজন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ নেয়া হলেও সেখানে সুকৌশলে মৃত্যুর বিষয়টাকে আত্মহত্যা হিসেবেই চালিয়ে দিতে থানার মুন্সির মাধ্যমে অভিযোগপত্র লিখে নিয়ে বাদির স্বাক্ষর নেয়া হয় লাভলীর বাবা আব্দুল হাফিজের। লাভলীর বোন রেখা আক্তার বলেন, এটা স্পষ্ট ও পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। যার কলকাঠি নাড়ছে একরামুলের একজন চেয়ারম্যান আত্মীয়সহ সে যে কোম্পানীতে চাকুরী করে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। লাভলী হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লাভলীর উপর নির্যাতন করে আসছে একরামুলসহ তার বোন শিউলি। শিউলির প্ররোচনায়ই একরামুল হত্যা করেছে লাভলীকে। তা না হলে কেন ঘটনার পর থেকে একরামুল যেমন পলাতক, তেমনি তার পরিবারের কেউ কোন যোগাযোগ করেনি বা সমবেদনাও জানায়নি কেন? কেন তারা কেউই লাভলীর জানাজা, দাফন কাফনেও উপস্থিত হয়নি? হত্যা করেছে বলেই ভয়ে তারা দূরে সরে আছে। এসময় লাভলীর মৃতদেহ গোসল করানোর সময় উপস্থিত ২ জন মহিলা জানান, মৃতদেহে স্পষ্ট নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ