রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বেতন নিয়ে দুশ্চিন্তায় খুলনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা

খুলনা অফিস : খুলনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বেতন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। এপ্রিল মাস জুড়েই প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়  এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরশেনের ট্রেড লাইসেন্সভুক্ত যে ২৮ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে-তার প্রতিটিতেই একাধিক ব্যক্তি কাজ করেন। এর বাইরে ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ক্লিনিক-হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছে-যার কার্যক্রম এপ্রিল মাসজুড়ে বন্ধ ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সংখ্যা কতো তার সঠিক হিসাবও পাওয়া যায়নি।
কেসিসির ট্রেড লাইসেন্স শাখা থেকে জানা গেছে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মজিদ স্মরণী, যশোর রোডের ডাকবাংলো থেকে পিকচার প্যালেস মোড় ও পার্শ্ববর্তী এলাকা, কেডিএ এভিনিউ, এম এ বারী সড়কে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য, মোবাইল ফোন, দেশি-বিদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের পোশাকের শো-রুম, ফার্নিচারসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। প্রতিটি দোকানে ২ জন থেকে ৮ জন পর্যন্ত কর্মচারী কাজ করেন। আর নগরজুড়ে এ ধরনের বড় ও মাঝারি মানের শো-রুম রয়েছে আরও প্রায় ৩ হাজার।
কেসিসির ট্রেড লাইসেন্স শাখার এক কর্মকর্তা জানান, তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বিক্রয় কেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়, রেলওয়ে মার্কেট, পিকচার প্যালেস মোড় ও আশপাশের এলাকায় পোশাক বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার। বিভিন্ন সময় এসব মার্কেটে গিয়ে প্রতিটি দোকানেই ২ থেকে ৫ জন পর্যন্ত কর্মচারীকে কাজ করতে দেখা গেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই বন্ধ।
অন্যান্য বছর ৬ রমযানে ডাকবাংলো মোড়ের রেলওয়ে মার্কেটটি ক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম থাকে। সেখানে ঘুরে দেখা গেছে, সুনসান নীরবতা। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েকদিন দোকানের একটি শার্টার খুলে কয়েকজন টুকটাক কিছু বিক্রি করেছে। কিন্তু পুলিশ এসে সব বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য এখন দোকান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ের বিদেশী ব্রান্ডের ইলেকট্রনিক শো-রুমের পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করেন এক ব্যক্তি। চাকরির নিরাপত্তার জন্য তার নাম প্রকাশ করা হলো না। গত ২৬ মার্চ শো-রুম বন্ধ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ওই মাসের বেতন পেয়েছিলেন। এপ্রিল মাসের পুরোটাই শো-রুম বন্ধ। মাস শেষ হলেও বেতন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। ওই কর্মী বলেন, ‘শো-রুমের স্যাররা কোম্পানির লোক। আমাকে তারা রাখছেন অফিস খরচের মধ্যে। গত ২ মে বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে, স্যাররা বললেন আমাদের বেতন নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি। অফিস খরচ পরের বিষয়’।
তিনি বললেন, ‘বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ৫ জনের সংসার চলে আমার বেতনে। রোযার মাসে সব কিছুর খরচ বেড়ে গেছে। বেতন পেলেও মার্চ পুরোটাই গেছে জমানো টাকার ওপর দিয়ে। এপ্রিল মাসের বেতন না পেলে না খেয়ে থাকতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ