শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভোলাহাটে গত বছর ছিল না দাম : এবার ধরেনি আম : কাঁদছে চাষী ও ব্যবসায়ীরা

ভোলাহাটে এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে আমবিহীন পাতা ভর্তি আম গাছ।

মোঃ জামিল হোসেন, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ): আমের রাজধানী ভোলাহাটের অর্থনীতির চাকা গড়াতে বছর ঘুরে আসে ফলের রাজা আম। আমের দাম না পাওয়া কিংবা ফলন কম হওয়া নিয়ে বেশ চিন্তায় ফেলে আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীদেরকে। এ বছর আম উৎপাদনের আশা তো নাই নিরাশায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিন গুণছেন চাষি ও ব্যবসায়িরা।
এদিকে আম গাছে আম নাই তার উপর করোনা দূর্যোগে পরিবারের লোকজনদের নিয়ে মৃত্যুর প্রহরগুনা ছাড়া কোন পথ নাই তাদের। গেলো টানা তিন বছর ধরে চলছে আমের দরপতন। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। ‘এবার না জানি কপালে কী আছে এমন দুশ্চিন্তা তাড়া করে ফিরছে তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোলাহাট উপজেলায় মোট ৩হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে। উৎপাদিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪হাজার ৫৪ মেঃটন। গেলো বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ২১ হাজার ৪১৭ মেঃটন। এ বছর গাছে গাছে প্রচুর মুকুল আসলেও অসময়ে বৃষ্টি হলে ধুয়ে মুছে শেষ হয় গুঠি আসা। উৎপাদিত লক্ষ্যমাত্রার ২০শতাংশ আম উৎপাদিত হবে কি না এমন আশংকায় হতাশ আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।  এদিকে আম মৌসুমে ভোলাহাটের একটি মাত্র নির্ধারিত আম বিক্রয় কেন্দ্র আম ফাউন্ডেশন ভোলাহাটে আম বেচাকেনার সময় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হয়। বসে ৮৬/৮৭টি আম আড়ৎ। এক একটি আড়তে কাজ করে ২৫/৩০জন শ্রমিক। খাবার হোটেল, ছোট ছোট দোকান, ট্রাক, ভ্যানসহ যুক্ত হয় অনেক কিছু। আম উৎপাদন না হওয়ায় ভোলাহাটের বিশাল জনগোষ্ঠি থাকবে বেকার । অভাবের কারণে অপরাধ প্রবনতা বাড়ার আশংকা রয়েছে। এদিকে আম ফাউন্ডেশন ভোলাহাটে কোটি কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয়। আম এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এ বছর আমের উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় মানুষ যেমন বেকার থাকবে তেমনী চাষি ও ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রস্ত হবে। এনজিও সংস্থা কিংবা ব্যাংকে নেয়া ঋণের টাকা শোধ নিয়ে পড়তে হবে বেকায়দায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ