বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঈদের কেনাকাটায় থাকে যেন সিয়ামের চেতনা

করোনার বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে এবার অতিবাহিত হচ্ছে আমাদের রমজান। মানুষ রোজা রাখছেন এবং প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঈদের জন্যও। তবে এবারের ঈদ হয়তো অন্যান্যবারের ঈদের মতো হবেনা। একদিকে করোনায় মৃত্যু আতঙ্ক, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সঙ্কট। করোনা আমাদের মানস জগতে কি ধরনের পরিবর্তন আনে, সেটাও উপলব্ধির মত একটা বিষয় হবে বটে।
ঈদ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নানা মাত্রার আলোচনা হয়ে থাকে। এর মধ্যে আলোচনার একটি বড় বিষয় ঈদ-শপিং। এ নিয়ে ইতিমধ্যে পত্র-পত্রিকায় আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদুল ফিতরে দেশের মানুষ কমপক্ষে এক লাখ কোটি টাকার কেনাকাটা করে থাকেন। প্রশ্ন জেগেছে, করোনা মহামারির এই সময়েও কি মানুষ কেনাকাটায় ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবেন? এ বিষয়ে সাক্ষাতকারে কথা বলেছেন আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও ধর্মপ্রাণ বিজ্ঞানী। তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গনের মানুষ হলেও সবার কণ্ঠে লক্ষ্য করা গেছে একই সুর। তাঁরা বলেছেন, ঈদ শপিংয়ের অর্থ যেন যায় বিপর্যস্ত অভাবী মানুষের ত্রাণ সহায়তায়। ঈদের কেনাকাটার অর্থ অসহায় মানুষের জন্য দান করা হলে, তা শ্রেষ্ঠ ইবাদত হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
প্রশ্ন জাগে, এমন আহ্বানে সামর্থ্যবান সবাই সাড়া দিতে সক্ষম হবেন কী? যে আহ্বান রাখা হয়েছে তা কিন্তু কঠিন কিছু নয়। বরং সিয়ামের চেতনায় শাণিত হলে ওই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার কাজটি খুবই সহজ। কিন্তু সমস্যা হলো, রোজা রাখলেও আমরা রোজার লক্ষ্য সম্পর্কে তেমন সচেতন নই। মুসলিম হলেও আমরা মুসলিমের দায়িত্ব সম্পর্কে তেমন অবগত নই। আর এ বিষয়েও আমাদের উপলব্ধি নেই যে, কিয়ামতে সব বিষয়ে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের অর্থ সম্পদের জবাবদিহির কাজটা বেশ কঠিন হবে। কোন পথে সম্পদ অর্জন করেছি শুধু সেই প্রশ্নই করা হবে না, কোন পথে সম্পদ ব্যয় করেছি সেই প্রশ্নও করা হবে। তাই ঈদ শপিংয়ে অর্থ অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই। বরং সেই অর্থ যদি করোনা বিপর্যস্ত এই সময়ে আমরা অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য খরচ করি, তাহলে তা পরকালে আমাদের মুক্তির কারণ হতে পারে। বিষয়টি আমরা  উপলব্ধি করবো কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ