সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

করোনার প্রভাবে মহসেন জুট মিলের ছাঁটাইকৃত শ্রমিক কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপন

খুলনা অফিস ; খুলনার শিরোমনি শিল্প এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন মহসেন জুট মিলের শ্রমিক কর্মচারী পরিবারে চরম খাদ্য কষ্টে দিন কাটছে। মহসেন জুট মিলটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্যেও মালিক কৃত্রিম অর্থ সংকট দেখিয়ে মিলটি ২০১৩ সালের ২৩ জুন থেকে ৩৯০ দিন লে-অফ করেন। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই মালিক পক্ষ এক নোটিশে সকল শ্রমিক কর্মচারীদের শ্রম আইনকে উপেক্ষা করে ছাঁটাই করে।

মহসেন জুট মিল সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. রহমান মোড়ল বলেন, ছাটাইয়ের পর প্রায় ৬ বছর অতিবাহিত হলো। কিন্তু আজও পরিশোধ হয়নি শ্রমিক কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটিসহ পাওনাদি। শ্রমিকের পাওনা পরিশোধে মালিক পক্ষ বিভিন্ন টালবাহানা করছে। যা শুধু শ্রম আইন বিরোধীই নয়, মানবাধিকার লংঘন, খামখেয়ালী ও অমানবিক। 

এদিকে মার্চ থেকে সারাদেশে চলছে করোনা মহামারীর ছুটি। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর কিছু শ্রমিক আশপাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমানে ছুটির কারণে সে সকল প্রতিষ্ঠানে কাজকর্ম বন্ধ। ফলে ছাটাইকৃত শ্রমিক কর্মচারীরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। অসহায় শ্রমিক কর্মচারীরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। মহসেন জুট মিলের ছাটাইকৃত শ্রমিক মো. কামাল হোসেন বলেন, জীবন যৌবন পার করলাম মহসেন জুট মিলে। অথচ আজ খুব কষ্ট হয়। আমার নিজের পিএফ, গ্রাচ্যুইটিসহ চুড়ান্ত পাওনা রয়েছে। তারপরও অর্থঅভাবে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের এ বিপদের সময় আমরা খুলনা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ছুটির কারণে এখন সবকিছু বন্ধ রয়েছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও আমরা এ মুহুর্তে কিছু করতে পারছি না। তবে এমডির সাথে কথা হয়েছে। যা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখ আ. রশিদকে অবহিত করা হয়েছে। ছুটি সীমিত হলে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ