সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভেলোরে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ফিরবে সড়ক পথে

স্টাফ রিপোটার: ভারত থেকে প্রায় দুই হাজার দুইশ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সড়ক পথে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন ৪৭ বাংলাদেশি নাগরিক। তারা গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভেলোর থেকে বেনাপোলোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাদের বেনাপোল পৌঁছতে দুদিন লাগবে। এর আগে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অনেকে দেশে এলেও বাস চলাচলের নজির নেই।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুটি বাসে তারা দেশে ফিরছেন। গাড়িপ্রতি দুজন ড্রাইভার থাকবেন। গাড়ি বিরতিহীন চলবে। শুধু রিফ্রেসের জন্য বিভিন্ন জেলার তেলের পাম্পে দাঁড়াবে। এ বিশেষ বাসগুলোর জন্য সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছ থেকে রুট পারমিট নিতে হয়েছে।

সূত্র জানায়, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের আটকা পড়া আরও বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ বিমানের চারটি ও ইউএস-বাংলার পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এগুলো কলকাতা নয়াদিল্লি ব্যাঙ্গালুরু টু চেন্নাই থেকে আসবে। এগুলো হলো কলকাতা থেকে ১০ মে (রোববার), মুম্বাই থেকে ১২ মে (মঙ্গলবার), ব্যাঙ্গালুরু থেকে ১৩ মে (বুধবার) অথবা ১৫ মে (শুক্রবার) এবং দিল্লি থেকে ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ বিমান আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত নিয়ে আসবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত যাত্রী সংখ্যা ও অনুমোদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৮-১০ মে ও ১৩-১৪ মে চেন্নাই মোট পাঁচটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং এর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

ভারতের ভেলোরে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ও রোগীর সহযোগী হিসেবে ছিলেন তারা। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেখানে লডডাউন চলায় প্রায় দেড় মাস ধরে আটকা পড়ে আছেন। এর মধ্যে ভেলোরের কাছের শহর চেন্নাই থেকে আকাশ পথে আটকাপড়া অনেক যাত্রী ফিরে এলেও টিকিটের বেশি দামের কারণে অনেকে ফিরতে পারেননি। আবার কেউ কেউ টিকিটও পাননি। আর বাসে তারা জনপ্রতি ১৬-১৭ হাজার রুপিতে বেনাপোল পর্যন্ত আসবেন।

ভেলোর থেকে সাব্বির চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল (আজ) বৃহস্পতিবার আমরা ৪৭ যাত্রী নিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ভেলোর থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্য রওনা হবো। প্রথম স্লটে দুটি বাসের যাত্রী পেয়েছিলাম। তাই দুটি বাসের অনুমোদনের জন্য দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে সাবমিট করি। এরপর যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় আগামী দুদিনের মধ্যে আরও চারটি বাসের রুট পারমিট পাওয়া যাবে।

ভেলোরে ছয় মাস ধরে আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এক নারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন, চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর আমরা প্রায় দেড় মাস আটকা পড়ে আছি। বাচ্চা নিয়ে ছোট্ট রুমে আমরা তিনজন বন্দি। কিন্তু সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিমানে ফেরা সম্ভব হয়নি। এখন বাসে ফিরব।

সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভেলোরে সড়ক পথে গেলে তিন থেকে চার দিন লাগে। ঢাকা থেকে কলকাতা আর সেখান থেকে ট্রেনে বা বাসে যাওয়া যায়। তবে এজন্য কলকাতা গিয়ে কখনও কখনও একদিন থাকতে হয়। এভাবে গেলে টাকা ও সময় দুটিই বেশি লাগে। তাই বেনাপোল হয়ে ভেলোর গেলে সময় ও টাকা কম লাগবে। এখন সেখানে লকডাউন চলায় ভাড়া বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১২ লাখেরও বেশি মানুষ ভারতে চিকিৎসার জন্য যায়। এর বেশির ভাগই যান ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে (সিএমসি)। ১১৮ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালের চিকিৎসার মান অত্যন্ত ভালো। খরচও তুলনামূলক কম। এজন্য বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে হাজার হাজার রোগী নিরাময়ের আশায় সেখানে যান। রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিয়েও স্বস্তিবোধ করেন। কম খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা হওয়ায় বাংলাদেশের মধ্যবিত্তদের ভিড় প্রচুর। সেখানে সিএমসি ছাড়াও নারায়ানা হুদ্রালয়া হাসপাতালে যান অনেকে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ