রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খাবার পানির সংকটে খুলনা মহানগরবাসী 

খুলনা অফিস ; করোনা দুর্যোগের মধ্যে খুলনায় খাবার পানির তীব্র সংকট  দেখা দিয়েছে। গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে নগরীর অধিকাংশ এলাকার হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। খুলনা ওয়াসার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নগরীর অধিকাংশ এলাকায় এখন পাইপলাইনে পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি শুধু দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে খাবার পানির জন্য মানুষকে ছুটতে হচ্ছে প্রতিবেশী ও বিত্তবানদের বাড়িতে।

এদিকে সম্প্রতি মধুমতি নদীর পরিশোধনকৃত পানিতে লবণ ধরা পড়ায় সেই পানিও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে ওয়াসা। বর্তমানে উৎপাদক নলকূপ থেকে পানি সরবরাহ করছে সংস্থাটি। কিন্তু পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উৎপাদক নলকূপে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সর্বত্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়াসার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে মানুষ হস্তচালিত নলকূপের ওপর নির্ভরশীল ছিলো। প্রায় সব পরিবারই নলকূপে মোটর সংযোজন করে পানি উত্তোলন করতো। কিন্তু গত ৫/৬ বছর ধরে গ্রীষ্মের শুরু থেকেই মোটরে পানি ওঠা বন্ধ হতে শুরু করে। এরপর থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো বাড়িতে মিনি উৎপাদক নলকূপ (সাবমার্সিবল পাম্প) স্থাপন শুরু করে। গত ৫ বছরে নগরীর ৯০ ভাগ বহুতল ভবন ও উচ্চবিত্তের বাড়িতে এই উৎপাদক নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। গরমের নময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এসব বাড়ি থেকেই পানি সংগ্রহ করে থাকে।

সূত্রটি জানায়, ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নগরীর ২৩টি ওয়ার্ডে কমবেশি নতুন পানির সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এই পানি মানুষ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করছে। কিন্তু খাবার পানির জন্য মানুষ আগের মতোই হস্তচালিত নলকূপের ওপর নির্ভরশীল থেকে গেছে। এবছরও চৈত্রের শুরু থেকে নগরীর হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। ফলে এ বছরও তাদের ছুটতে হচ্ছে প্রতিবেশীর বাড়িতে।

নগরীর শেখপাড়া পুরাতন মসজিদ এলাকার বাসিন্দা হোসাইন আহমেদ জানান, ২০ মার্চের পর থেকে মোটরে পানি উঠছে না। প্রায় ১৫০ গজ দূরে এক ফুপুর বাড়ি থেকে আমরা খাবার পানি আনছি। প্রতিদিন এতো দূর থেকে খাবার পানি আনতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওয়াসার পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও সেই পানি রান্না ও খাবার কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গতবছরও এই সময় পানি আনার জন্য বাড়িতে লোক রাখা ছিল। অল্পকিছু টাকা দিলে তিনিই প্রতিদিন পানি এনে দিতেন। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাসের সতর্কতায় কাজের লোক বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পানির কলসী নিজেদেরই টানতে হচ্ছে। পানির কষ্ট কি জিনিস এ বছর হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি।

গত কয়েকদিন ধরে নগরীর গোবরচাকা, বসুপাড়া, ফারাজিপাড়া, মির্জাপুর রোড, বাইতিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, টুটপাড়া, বসুপাড়া, পশ্চিম বানিয়াখামার, বাবু খান রোড এলাকায় খোঁজ নিয়ে একই ধরনের সমস্যার কথা জানা গেছে।

খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভূ-গর্ভের পানির স্তর নিচে নামায় গরমের সময় পানি কম পাওয়া যায়। গত ৫/৬ বছর ধরে এই সমস্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। পানি সমস্যা দূর করতে উচ্চবিত্তরা নিজ বাড়িতে ব্যাপক হারে ছোট উৎপাদক নলকূপ বা সাবমার্সিবেল টিউবওয়েল বসাচ্ছে। এতে তাদের পানি সমস্যা দূর হলেও আশপাশের বাড়িগুলোর পানি স্তর আরও নেমে যাচ্ছে। এতে করে পানি সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।

খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ বলেন, ওয়াসার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ৩৫ হাজার ২০০ গ্রাহককে প্রতিদিন পানি দেওয়া হচ্ছে। মধুমতি নদীর পানি পরিশোধনের পর প্রতিদিন পরীক্ষা করা হয়। ওই সময় পানি শতভাগ বিশুদ্ধ এবং পানযোগ্য থাকে। কিন্তু এই পানি পাইপলাইনে ৪০/৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কি অবস্থায় গ্রাহকের পৌঁছায় সেটা আমরা জানি না। পাইপলাইনের কোথাও ছিদ্র আছে কি-না সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় না। এজন্য গ্রাহকদের এই পানি রান্না বা পান করার আগে ভালোভাবে ফুটিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গ্রীষ্মে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সার্বিক পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে। আমরা অতিরিক্ত সময় উৎপাদক নলকূপ চালিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। বৃষ্টি হলে এই সমস্যা কেটে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ