রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল

শিমুলিয়া ফেরি ঘাট লোকে লোকারণ্য

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে লোকে লোকারণ্য। যেনো ঈদের উৎসব লেগেছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই ফেরি ঘাট আর রিক্সা আটো স্ট্যান্ডে। গত ১০ দিলের যাত্রীর ঢলকে হার মারিয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকামুখী যাত্রীর ঢল। গার্মেন্টস কর্মীদের থেকেও বেশী জেনো হয়ে পড়েছে ঢাকামুখী যাত্রীর ঢল। জীবন যাত্রা হতে শুরু করেছে স্বাভাবিক। এমন চিত্রই গতকাল সকালে দেখা গেছে শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে।

সরজমিনে বৃহস্পতিবার সকালে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরিতে করে আসছে শত শত ঢাকামুখী যাত্রী। সরকার মার্কেট খুলে দেবার ঘোষণায় এসব যাত্রীরা দক্ষিনবঙ্গের নিজ বাড়ি হতে লকডাউন ভেঙে ঢাকা মুখী হতে শুরু করেছে। প্রতিটি ফেরিতেই শত শত লোক পার হয়ে আসছে শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে। এখানে এসেও জেনো তিল ধারণের ঠাঁই নেই যানবাহনের স্ট্যান্ডগুলোতে। ফেরিতে যেমন চাপাচাপি আর ঘা ঘেসাঘেসি করে শিমুলিয়া ঘাটে এসেছে, এখানে এসেও একই অবস্থা যানবাহনের জন্য। বাস না থাকায় অটোস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঢাকা যাবার জন্য তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। তবে বাস না পেয়ে গত ১০ দিনের মত আজও আটো, ট্যাম্পো, নসিমন, করিমন, মাইক্রো, থ্রি হুইলার, ইয়েলোক্যাব, রেন্ট এ কার ও নজর কারার মত শত শত মোটর সাইকেলে এসব যাত্রীদের ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। উবার বন্ধ থাকায় উবাবের মোটর সাইকেলগুলো এখন শিমুলিয়া ঘাট থেকে ঢাকায় প্রতিনিয়ত অফ লাইনে যাতায়াত করছে। যারা সিঙ্গেল যাত্রী তারা সহসায় মোটর সাইকেলে ঢাকায় চলে যাচ্ছে। তবে এপথে ঢাকায় যেতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল দেখা গেছে। গার্মেন্টস কর্মীদের ঢাকামূখী চলাকেও হার মানিয়েছে আজ সকালেরর যাত্রীর চাপ। নানা শ্রেনী পেশার মানুষ এখন ছুটছে ঢাকার কর্মস্থলে। জেনো ঈদ শুরু হয়ে গেছে। করোনার কোন ভয় নেই তাদের মাঝে। মনে হচ্ছিল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা ছুটছে স্বজনদের কাছে।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের টিআই হিলাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই ঢাকামূখী যাত্রীর চাপ। ঘাটে বাস না থাকলেও অসংখ্য উপার ও পাঠাও এর মোটর সাইকেল আর গাড়ী যাত্রীদের ঢাকা নিচ্ছে। তবে তা অফ লাইনে চলছে। সেই সাথে নসিমন করিমন, ট্যাম্পো, অটো, ইয়েলোক্যাবসহ নানা ধরণের যানবাহনে যাত্রীরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিকল্প পথে ঢাকা যাচ্ছে। করোনা কী সেটা বুঝেও জেনো বুঝছেনা এসব যাত্রী। ঠেলাঠেলি করে কার আগে কে যানবাহনে বসবে এরকম প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ সকাল থেকে যাত্রীদের ঢাকামুখী চাপ ছিল বেশী। জেনো যেতেই হবে ঢাকায়।

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটস্থ এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দিনের বেলায় ৪ থেকে ৫টি ও রাতে ৭ থেকে ৮টি ফেরি চলাচল করছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশী দেখা গেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীর চাপ। অনেকটা স্বাবাবিক হতে চলেছে মানুষের জীবন যাত্রা। তাই যাত্রীর চাপও বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ