বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

করোনার ঘরোয়া চিকিৎসা: ড. বিজন শীলের পরামর্শ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ড. বিজন শীল ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও একটি পরিচিত নাম। তিনি কোভিড-১৯ বা করোনার কুইক টেস্ট পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল প্রাণঘাতি সার্স ভাইরাস নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তার নামটিও সার্সের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কারণ, সার্সের কুইক টেস্টের আবিষ্কারক ড. বিজন শীল। তার নামেই এই টেস্টটি প্যাটেন্ট করানো। এটাই চীনসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সার্স রোগ টেস্টে ব্যবহার হয়। 

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষই এখন চরম বিপর্যয়ে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল।

ড. বিজন কুমার শীল বলেছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত না হতে চাইলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিধি বিধান মেনে চলতে হবে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার পেয়ারা, লেবু, আমলকি অথবা ভিটামিন সি ট্যাবলেট খেতে হবে। এর সঙ্গে সম্ভব হলে প্রতিদিন রাতে একটি জিঙ্ক ট্যাবলেট খেতে হবে। এগুলো করোনা প্রতিরোধে খুব ভালো কাজ করে। 

ভিটামিন সি ও জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সতেজ, সজীব রাখে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। 

আরেকটি হচ্ছে কেউ যদি আক্রান্ত হন, যেমন গলাব্যথা, শুকনো কফ ছাড়া কাশি, কাশি হবে কিন্তু কফ বের হবে না। এটা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম লক্ষণ। অন্য ইনফ্লুয়েঞ্জাতে আক্রান্তদের হাঁচি, সর্দি ও নাক দিয়ে পানি পড়ে। তবে করোনাভাইরাস শুকনো কাশি দিয়ে শুরু হয়। 

ড. বিজন শীল জানান, যেকোনও ধরনের গলা খুশ খুশ বা কাশি দেখা দিলেই আর অপেক্ষা করা উচিত হবে না। ওটা করোনাভাইরাস নাকি করোনা নয়, এ নিয়ে চিন্তা করার কোনও দরকার নেই। বরং ওই মুহূর্ত থেকে যে কাজটি করতে হবে, তা হলো আদা (জিঞ্জার) ও লবঙ্গ (ক্লোব) একসঙ্গে পিষে সেটাকে গরম পানিতে সিদ্ধ করে তার সঙ্গে কিছুটা চা দিয়ে ওটা এক কাপ মতো নিয়ে গার্গল করে খেতে হবে।

এর পাশাপাশি যাদের জোগাড় করা সম্ভব, বিশেষ করে যারা গ্রামে আছেন, তারা এখন নিমপাতা পাবেন। ড. বিজন শীলের পরামর্শ হলো, ওই নিমপাতা একটু পানি দিয়ে পিষে নিতে হবে। পিষার ফলে যে সবুজ রঙের রসটি বের হবে সেটার সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে তা গার্গল করে খেতে হবে। এর ফলে গলার কোষগুলোয় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, ইমিউনিটি বাড়বে। যা কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসকে পরাজিত করতে সক্ষম।

এই দুর্যোগকালীন সময়েও যাদের বাইরে কাজ করতে হয়, যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্যদের করণীয় সম্পর্কে ড. বিজন কুমার শীল বলেন, করোনাভাইরাস শরীরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেইতো আর আক্রমণ করে না। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে শরীরের মধ্যে বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে বাসায় ফিরে গরম পানি পান করা, এক কাপ হালকা রং চা খাওয়া, নাক ও মুখ দিয়ে গরম পানির ভাপ নেয়া, পানির মধ্যে লেবু-লবণ-মধু দিলে আরও ভালো হয়। তাহলে নাকটা আরও ভালোমতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। ভাইরাস ঢুকলেও শরীরের মধ্যে বাড়তে পারবে না।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ