শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

মারা গেছে দুই লাখ ৪৫ হাজারের বেশি

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ: বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১০টি দেশের ৩৫ লাখ ৬৩১ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর মারা গেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮ জন। এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১১ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।
এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ২১ লাখ ২৭ হাজার ১৩৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। অর্থাৎ যতজন সেরে উঠেছেন তারও প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক রোগী এখনও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
করোনার প্রাদুর্ভাব চীনে শুরু হলেও এতে বিপর্যস্ত হওয়ার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মহামারি করোনাভাইরাস। সেখানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৪৪৮ জন করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪০ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারেকাছেও নেই কোনো দেশ।
করোনায় মৃত্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে ২৮ হাজার ৭১০ জন করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন। ইতালিতে গত শনিবারও ৪৭৪ জন কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন। গত ২১ এপ্রিলের পর দেশটিতে একদিনে এতো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সেখানে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ২ লাখ ৯ হাজার ৩২৮ জন।
করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পর অবস্থান করছে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। সেখানে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬৭ জন। এদের মধ্যে শনিবার গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। সেখানে করোনায় মারা গেছে মোট ২৫ হাজার ১০০ জন মানুষ।
গত কয়েক সপ্তাহে স্পেনে তুলনামূলক করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসায় দেশটিতে লকডাউন শিথিল করে খুলে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খাত। লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিলের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে স্পেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যে শনিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৬২১ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৮ হাজার ১৩১ জনে। আর এর মাধ্যমে করোনায় বিপর্যস্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গেছে দেশটি। ফেব্রুয়ারিতে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর এ নিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এদের মধ্যে শনিবার একদিনেই আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ, অর্থাৎ ৪ হাজার ৮০৬ জন।
করোনায় বিপর্যস্ত ইউরোপের আরেকটি দেশ ফ্রান্স। এ পর্যন্ত দেশটির ২৪ হাজার ৭৬০ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনাভাইরাস। আর এতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৬ জন। তবে আগের তুলনায় দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
জার্মানিতে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৬৭ জন। সে তুলনায় দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম, ৬ হাজার ৮১২ জন।
ইউরোপের আরেক দেশ রাশিয়ার করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। সে কারণে করোনা তালিকার সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে দেশটি। সেখানে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে আরও ১ হাজার ২৮০ জন। এদের মধ্যে আজ রোববার সকাল থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫৮ জন।
রাশিয়ার পরেই রয়েছে ইউরোপের সীমান্ত সংলগ্ন মুসলিম দেশ তুরস্ক। সেখানে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৫ জন এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৩৩৬ জন। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছে মোট ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ এবং মারা গেছে ৬ হাজার ৭৬১ জন।
ইরানে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৯৬ হাজার ৪৪৮ জন এবং মারা গেছে ৬ হাজার ৭৬১ জন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির করোনা পরিস্থিতির এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। যে কারণে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত উন্নত অঞ্চলগুলোতে মসজিদ খুলে দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে ১০২টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে ৮টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন পেয়েছে। ইতিমধ্যে ৭টি ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ