রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

কয়রার লোনাভূমিতে এবার সয়াবিন চাষে সফলতা

খুলনা অফিস: উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষক পরিবারেই তার জন্ম। বিভিন্ন ফসল চাষ করাই তার নেশা ও পেশা। এক একর জমিতে চাষাবাদ করেছেন সয়াবিন। সয়াবিনের রঙিন স্বপ্নে এখন বিভোর ৭১’র মুক্তিযোদ্ধা কয়রার বটকৃষ্ণ ঢালী। সয়াবিনের প্রতিটি দানা যেন তাকে স্বপ্ন পূরণে হাতছানি দিয়ে ডাকচ্ছে। খুলনা জেলার সর্ব দক্ষিণের উপজেলা কয়রা। যার চারি পার্শ্বে রয়েছে লোনা পানি। লোকালয়ে রয়েছে লোনা পানির চিংড়ি ঘের। এছাড়া বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসে বিদ্ধস্ত হয় এ জনপদ। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বারবার লোকালয়ে ঢোকে লোনা পানি। নষ্ট হয় ফসল, ঘরবাড়ি, গবাদিপশু এবং জনপদ। তবে থেমে নেই এখানকার মানুষের জীবনাচার। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার লন্ডভন্ড হলেও আবারও ঘুরে দাড়িয়েছে এখানকার মানুষ। জীবন সংগ্রামে শুরু করেছে নতুন অধ্যায়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের আইলার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়রায় সয়াবিন হয়নি। কিন্তু এবার দেড় একর জমিতে সয়াবিন চাষাবাদ হয়েছে। যা একজন চাষি এ উদ্যোগ নিয়েছে। ফলন ভাল হয়েছে। উপজেলার ৪নং কয়রা ইউনিয়নের চাষি বটকৃষ্ণ ঢালী জানান, আমি জন্মগতভাবে কৃষক। কৃষি কাজ আমাকে সব সময় টানে। আর নতুন কিছু চাষাবাদ করি। উপজেলার কোথাও সয়াবিন চাষাবাদ হয়নি। তাই আমি উদ্যোগ নিলাম সয়াবিনের চাষাবাদ করবো। দেড় একর (৩বিঘা) জমিতে চাষাবাদ করেছি। ফলন দেখে মন ভরে গেছে। প্রথম দিকে ভয় ভয় ছিল। লবণ মাটিতে সয়াবিন হয় কিনা। কিন্তু ফলন দেখতে ভিড় পড়ে যায়। এলাকার অনেকের মধ্যে আগ্রহও বেড়েছে। আমার এবার ১২ মণ সয়াবিন হয়েছে। প্রতি কেজি ১শ’ টাকা করে বিক্রি করলেও অনেক লাভ হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুতপ সরকার জানান, খাদ্য হিসেবে সয়াবিনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ হচ্ছে এতে শতকরা ৪০ ভাগের অধিক আমিষ এবং ২০-২২ ভাগ তেল রয়েছে। মানুষের সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে সয়াবিনজাত প্রোটিনের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। সয়াবিন তরকারী ছাড়াও দুধ ও বিস্কুট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এবং পশু খাদ্য হিসেবে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। লোনা ভূমিতে সয়াবিনের ফলন দেখে এখন অনেকেই আগ্রহী হচ্ছে। এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলার কৃষি কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজান মাহমুদ জানান, সয়াবিন অর্থকরী ফসল। মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সয়াবিন চাষাবাদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। চাষাবাদে খরচও কম। উপজেলার পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারে দেড় একর জমিতে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে সয়াবিন চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলার কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতাও প্রদান করা হয় ওই কৃষককে। ফলন দেখে উপজেলার অনেক চাষী আগ্রহী হচ্ছেন চাষাবাদে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ