শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

৭৭৫ কিমি সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরেও ঠাঁই হলো না ঘরে!

৩ মে, আনন্দবাজার : টানা পাঁচ দিন সাইকেল চালিয়ে ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরেও ঘরে ঠাঁই হলো না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বান্টির।

মেসে খাবার নেই। খবর রাখেননি কারখানা কর্তৃপক্ষ। সহকর্মীরা সব বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আর ফাঁকা ঘরে থাকার সাহস করেননি ভারতের পশ্চিম বর্ধমানের বার্নপুরের বান্টি বাউড়ি।

তাই মধ্যপ্রদেশের সাতনা থেকে টানা প্রায় পাঁচ দিন সাইকেল চালিয়ে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরলেন বান্টি।

পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী ওই যুবক সুস্থ রয়েছেন। করোনা  সতর্কতায় ছেলের থাকার জন্য বাড়ির বাইরে তাঁবু টাঙিয়ে দিয়েছেন বাবা অভিমন্যু বাবু।

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বান্টির। তিনি সুস্থ রয়েছেন, এই ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

তবে পরিবারের সুরক্ষার জন্যই ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে করোনা  সতর্কতায় প্রশাসনের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে বলে জানান বান্টির বাবা অভিমন্যু বাবু।

তিনি বলেন, বাড়ির বাইরে তাঁবু গেড়ে দিয়েছি। সেখানেই আপাতত থাকছে ছেলে। তার ফেরার খবর পুলিশকেও জানিয়েছি। করোনা র সঙ্গে লড়াইয়ে এটুকু করতেই হবে।

হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বান্টি জানান, মাস ছয়েক আগে সাতনায় প্রসাধন প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মী হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে মেসে অন্যদের সঙ্গে থাকতেন। দেয়া হতো দু’বেলা খাবারও। কিন্তু লকডাউনের ফলে কর্মজীবনে ছন্দ কাটে।

প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ, এ পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেন না দেয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, খাবারের জোগানও প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ পরিস্থিতিতে সহকর্মীরা একে একে বাড়ি ফিরতে শুরু করে। মেস ফাঁকা হয়ে যায়। শেষমেশ গত ২৬ এপ্রিল ভোর ৩টার দিকে সাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ