সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

তেলের দর হ্রাসের সুযোগে মজুদ বাড়াচ্ছে এশিয়ার প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলো

৩ মে, আরব নিউজ, এশিয়া টাইমস, এএফপি : করোনা  ভাইরাস মহামারীরর কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতনের সুযোগে নিজেদের অপরিশোধিত তেলের মজুদ বাড়াচ্ছে এশিয়ার প্রধান প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলো।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর ব্যারেল প্রতি শূন্য ডলারের নিচে নেমে যাওয়ায় চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রধান প্রধান তেল আমদানিকারক দেশগুলো উপকৃত হবে। তবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাইয়ের মতো এই অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো এতে ক্ষতির মুখেও পড়বে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও তেলের সরবরাহের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সরকার তেল ও জ্বালানি মজুদ করে থাকে। মজুদ বাড়ানোর এই প্রক্রিয়াকে ‘কৌশলগত তেল মজুদ’ বলা হয়।

১৯৭০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া অভ্যন্তরীণভাবে তেল মজুদ করে আসছে। মূলত ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের সময় পশ্চিমা দেশগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ফলে এই পদক্ষেপ নেয় তারা।

ধারণা করা হয়, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি তেল মজুদ রয়েছে চীনের কাছে। বেইজিং কোনো আনুষ্ঠানিক পরিমাণ না দিলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন এটি প্রায় ৫৫ কোটি ব্যারেল। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুদের পরিমাণ বর্তমানে ৬৩ কোটি ব্যারেল।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কর্পোরেশন বলেছে, তাদের দেশের বর্তমান মজুদ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ৯০ দিন ব্যবহারের সমমানের নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সব দেশকেই অন্তত ৯০ দিন ব্যবহারের মতে পেট্রোলিয়ামের আমদানি ধরে রাখতে হয়। চীন এই সংস্থার পূর্ণাঙ্গ সদস্য নয়। ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ জাপানের তেলের মজুদ ছিলো ৫০ কোটি ব্যারেল, যা দেশটির সাত মাসেরও বেশি ব্যবহারের মজুদ। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে রয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল, দেশটির কাছে আছে ৮৯ দিনের মজুদ। ভারতের তেলের মজুদ ৪ কোটি ব্যারেল, জনসংখ্যা অনুযায়ী এটি দেশটির ১০ দিনের তেলের মজুদ।

সাধারণত প্রাকৃতিক ভূগর্ভে তেল মজুদ করা হয়। কিন্তু ভূগর্ভকে তেল মজুদের জন্য প্রস্তুত করা কঠিন, এর জন্য সঠিক ভূতাত্ত্বিক গঠনের প্রয়োজনও হয়। সেই সঙ্গে দেশগুলোর তেল ঢোকানো ও বের করার জন্য সঠিক অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়। তেলের মজুদ করার জন্য প্রয়োজনীয় এই অবকাঠামোগত ব্যয়সাপেক্ষের কারণে অনেক দেশ পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুদ করতে পারে না। এশিয়ায় ভারত গুহায় ও জাপান ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে তেল মজুদ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ