ঢাকা, সোমবার 1 June 2020, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৮ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

করোনার উৎপত্তি প্রকৃতি থেকে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: প্রকৃতি থেকেই উৎপত্তি হয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে চীনের ল্যাবে করোনা ভাইরাস তৈরি হয়েছে। আর এর প্রমাণ তার কাছে আছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাইকেল রায়ান বলেন, অসংখ্য বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে বার বার শোনার পর এ সিদ্ধান্তে এসেছি যে এটা প্রকৃতি থেকেই উৎপত্তি হয়েছে।

এর আগে গত মাসেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে দাবি করা হয়, ল্যাব থেকে নয়, প্রকৃতি থেকে বাঁদুরের মাধ্যমে ভাইরাসটি মানব সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরাও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বজুড়ে আতংক ছড়িয়ে দেওয়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস কোনো ‘গবেষণাগারে তৈরি হয়নি’, প্রাকৃতিক বিবর্তনের মাধ্যমে ভাইরাসটির উদ্ভব হয়েছে।বিজ্ঞানীদের গবেষণা প্রতিবেদন রোগটির উৎপত্তির বিষয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত¡কে নাকচ করে দিয়েছে বলে মত টেলিগ্রাফের। খবরে বলা হয়, করোনাভাইরাস নিয়ে একে অপরকে দুষছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দেশই দাবি করছে, মানুষের হাতে ল্যাবে তৈরি হয়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস। তবে এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানীরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানায়, প্রকৃতি থেকেই উৎপত্তি হয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের। করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য পরীক্ষা করে এমনটি দাবি করেছে বিজ্ঞানীরা। ন্যাচার মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত জার্নালে স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী প্রফেসর ক্রিস্টিয়ান আন্ডেরসেন বলেন, জিনোম সিকোয়েন্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে এটা আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি করোনাভাইরাস প্রাকৃতিকভাবেই এসেছে, মনুষ্য সৃষ্ট নয়। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। আর এরপরই ভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা শুরু করে বিজ্ঞানীরা।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনার উৎপত্তি হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, কোন প্রাণী থেকেই করোনা মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ করোনার উৎপত্তি নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। যদিও চীনের পক্ষ থেকে এই তদন্তের দাবি প্রত্যাখান করা হচ্ছে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ