ঢাকা, মঙ্গলবার 2 June 2020, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৯ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

আদার ঝাঁজ কমলেও নিত্য পণ্যের বাজার চড়া

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার পর চট্টগ্রামে অভিযান চালানোয় আদার দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজিতে আদার দাম কমেছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এক মাসের ব্যবধানে আদার দাম এখনও প্রায় দ্বিগুণ বেশি। আদার দাম কমলেও অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম চড়া ।  

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভবের মধ্যে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির মাধ্যমে আদার দাম বাড়িয়ে দেয়। একশ টাকারও কম দামে কিনে আনা আদার দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে সাড়ে তিনশ টাকা পর্যন্ত তোলা হয়।

অবস্থা বেগতিক দেখে দাম নিয়ন্ত্রণে ঢাকার পাইকারি বাজার শ্যামবাজার ও মিরপুর শাহ আলী বাজার এবং চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে অভিযান চালায় সংশ্লিষ্টরা। যার কিছুটা সুফল পেতে শুরু করেছে ভোক্তারা।

শুক্রবার (১ মে) বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার আগে আদার কেজি ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। ৮ মার্চ বাংলাদেশ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হওয়ার পর এক লাফে এর দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়ে যায়। এরপর কয়েক দফা বেড়ে আদার কেজি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

হঠাৎ আদার এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় ২২ এপ্রিল শ্যামবাজারে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়। অভিযানে বেরিয়ে আসে, কেজিপ্রতি আদার আমদানি ব্যয় পড়েছে একশ টাকার নিচে। সেই আদা পাইকারিতে বিক্রি করা হচ্ছে ২৩৫ টাকা কেজি।

অনিয়ম পাওয়ায় শ্যামবাজার ও মিরপুর শাহ আলী পাইকারি বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে শ্যামবাজারের এক ব্যবসায়ী ২৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করা আদা ১২০ টাকা করে বিক্রির ঘোষণা দেন। তবে এরপরও খুচরা পর্যায়ে আদার দাম কমছিল না। অবশ্য ভোক্তাদের রোজার কেনাকাটা শেষে এখন আদার দাম কমতে শুরু করেছে।

এখন বিভিন্ন বাজারে আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে। যা রোজার শুরুতেও ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এ হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম কেজিতে কমেছে ১০০ টাকা। তবে এক মাস আগে আদার কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১০০-১৫০ টাকার মধ্যে। এ হিসাবে আগের তুলনায় এখনো আদার দাম কেজিতে একশ টাকা বেশি।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম কমার চিত্র উঠে এসেছে। সেই সঙ্গ দাম বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে মাসের ব্যবধানে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে দেশি আদার কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২২০ থেকে ২৬০ টাকা এবং এক মাস আগে ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। আর আমদানিকরা আদার কেজি বিক্রি করছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং এক মাস আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা।

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা করছি। এর আগে কখনো আদার কেজি তিনশ টাকা বিক্রি হতে দেখিনি। কিন্তু এবার সাড়ে তিনশ টাকাও বিক্রি হয়েছে। তবে কয়েকদিন ধরে আদার দাম কিছুটা কমেছে। এখন আদার কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, ক্রেতাদের রোজার কেনাকাটা শেষ। তাই এখন বিক্রি তেমন নেই। কয়েদিন ধরেই খুব কম ক্রেতা আসছে। তাই মোকামে যাওয়া হচ্ছে না। শুনছি পাইকারিতে আদার দাম আরও কমেছে। দুই-একদিনের মধ্যে শ্যামবাজারে যাবো। যদি কম দামে আদা কিনতে পারি তাহলে আরও কম দামে বিক্রি করবো।

ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, কিছুদিন আগে যে আদা সাড়ে তিনশ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন তা আড়াইশ টাকা কেজি বিক্রি করছি। আমাদের ধারণা সামনে আদার দাম আরও কমবে। কারণ অভিযানের ভয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আদার দাম কমিয়ে দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ