সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা পিছিয়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য

 

স্টাফ রিপোর্টার: আমদানি-রফতানির সঙ্গে জড়িত সরকারির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দীর্ঘদিনের। এতে পিছিয়ে পড়ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। সমন্বয়ের অভাবে আমদানি-রফতানিতে যেমন সময় বেশি লাগে তেমনি বাড়ছে খরচও। তাই প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকতে না পেরে পিছিয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। ছুটি চলবে ৫ মে পর্যন্ত। ছুটির কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে। তবে ছুটিতে আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিস খোলা রাখা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ চলছে ধুকে ধুকে। এক অফিস খোলা থাকলেও আরেক অফিস বন্ধ থাকে, সবমিলে এসব অফিসের মধ্যে প্রকট সমন্বয়হীনতা বিরাজ করছে। তাই আমদানি করা বিপুল পরিমাণ পণ্য আটকে যায় দেশের বন্দরগুলোতে। এর মধ্যে রমজানের বিভিন্ন নিত্যপণ্যও রয়েছে। আবার রফাতনি কার্যক্রমও থমকে গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং কোনোভাবে যেন খাদ্য ঘাটতি দেখা না দেয় সে জন্য আমদানি-রফতানিকে ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। তাই রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিএসটিআই, প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন উইংসহ আমদানি-রফতানিতে জড়িত সরকারি অফিসগুলোকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। না হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

এদিকে সম্প্রতি প্রসেসড ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাণিজ্য সচিবের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস এসোসিয়েশন (বাপা)।

বাপার সভাপতি এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাপা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত সংগঠন। বর্তমানে এ সংগঠনের প্রায় ৩০০ সদস্য কৃষিভিত্তিক খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও রফতানি কার্যক্রমে জড়িত। আমাদের সদস্যরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের প্রায় ১৪০ দেশে প্রক্রিয়াজাত কৃষি খাদ্যপণ্য রফতানি করে আসছে। বিগত অর্থবছরে এ খাতে রফতানি আয় প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এতে বলা হয়, গত বছরের তুলনায় ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এ খাতে রফতানি অর্ডার ছিল ঈর্ষণীয়। কিন্তু দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে রফতানি কার্যক্রম হঠাৎ ব্যাহত হচ্ছে। এখন এ দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা মেনে খাদ্য উৎপাদন চালিয়ে যেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি, যাতে দেশে খাদ্য সংকট না হয়। পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং কৃষক যেন তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, গত কয়েকদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি, আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রাম প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন উইং আমাদের সদস্যদের ফাইটো সনদ প্রদানে গড়িমসি করছে। তারা রফতানি পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআইয়ের ইস্যুকৃত হেলথ সার্টিফিকেট দাবি করছে।

বাণিজ্য সচিবের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে আরও বলা হয়, আপনি অবগত আছেন, দেশে অদ্যবধি হেলথ সার্টিফিকেট ইস্যুর কোনো অথরিটি না থাকায় রফতানিকারকরা ফাইটো সনদের মাধ্যমে ওই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে বিগত ছুটির দিনে কোনো প্রকার ফাইটো সনদ ইস্যু না হওয়া, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং যথাসময়ে জি এস পি সনদ ইস্যু না হওয়ায় রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু দেশ কন্টেইনার, পণ্য ও উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের করোনা ফ্রি সনদ চাচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে হেলথ সার্টিফিকেট, করোনা ফ্রি সনদ ইস্যুর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি করা, জি এস পি ইস্যু এবং বর্তমান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে ফাইটো সনদ ইস্যুর জটিলতা লাঘবে আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উক্ত বিষয়ে আপনি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে, যার ফলে রফতানিকারক তথা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এ এম চৌধুরী সেলিম জানান, করোনার কারণে তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে খুব খারপ সময় পার করছে। নানা জটিলতায় এ খাতের আমদানিকৃত কাঁচামাল বন্দরে আটকে গেছে। এসব মাল দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থা না করলে আরও অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মুখপাত্র (উপ পরিচালক) মো. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের অফিস প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকে, এটি যেনো সবাই জানতে পারে তাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। এরপরও কেউ যদি মনে করে যে, ছুটি তাই আমরাদের অফিস বন্ধ তাহলে কিছু করার নেই।

সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, ব্যবসা বাণিজ্য সচল রাখাতে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যেমন বন্দরে আদা আটকে আছে সেগুলো ছাড়ের জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ব্যাংকের সময় বাড়ানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছি। কাজও হচ্ছে ব্যাংকিং আওয়ার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য আমরা পরিবহন মালিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি শুধু অফিস খোলা রাখা কিংবা উদ্যেগ গ্রহণেই সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এক্ষেত্রে প্রতিটি অফিসের মধ্য সমন্বয় স্থাপন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ