বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শ্রমিকবান্ধব পোশাক শিল্প

ইবনে নূরুল হুদা : আমাদের তৈরি পোষাক শিল্প এখন বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের উল্লেখযোগ্য খাত। পরিসংখ্যান অনুযায়ি, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার ৭৬ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। কিন্তু পোষাক শ্রমিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা করা হয় না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই সমস্যার কোন সম্মানজনক সমাধান এখনও করা সম্ভব হয়নি। এমনিতেই সামান্য মজুরীতে এসব শ্রমিকদের কাজ করতে হয়। আবার ক্ষেত্র বিশেষে তাদের ঠিকমত বেতন দেয়া হয় না বলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। প্রশ্ন রয়েছে অনুসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিয়েও। শ্রমিকদের অভিযোগ মালিকপক্ষ ঠিকমত কাজ আদায় করে নিলেও তাদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। মূলত মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সমন্বয় না থাকার কারণেই আমাদের দেশের পোষাক শিল্প সেই সনাতনী বৃত্তেই রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দুরত্ব কমানো গেলে এই শিল্পকে আরও অধিক লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার কারণেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশে  তৈরি পোশাক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল ষাটের দশকে। সত্তরের দশকের শেষের দিকে রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে এই শিল্পের অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটতে থাকে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্প। ষাটের দশকের শুরুতে ব্যক্তি উদ্যোগে ক্রেতাদের সরবরাহকৃত এবং তাদেরই নির্দেশিত নকশা অনুযায়ি স্থানীয় দর্জিরা পোশাক তৈরি করতো। শুধুমাত্র শিশুদের জামা-কাপড় এবং গেঞ্জি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে সে সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজার ছিল না বললেই চলে। সত্তরের দশকের শেষার্ধ থেকে এটি একটি রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। তৈরি পোশাক শিল্পের অভ্যন্তরীণ বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এবং এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের আয় বৃদ্ধি পায় ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনও পরিলক্ষিত হয়। খাতটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য মোট রপ্তানিতে ৫০% অবদান রেখে রপ্তানি আয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছিল। কিন্তু সে অবস্থা বেশীদিন স্থায়ি হয়নি। আশির দশকের শেষার্ধে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের আয়কে অতিক্রম করে পোশাক শিল্প রফতানি আয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। ১৯৯৯ সালে এই শিল্পখাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয় ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি লোকের। যার মধ্যে শতকরা প্রায় ৮০ জন নারী। তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণের সাথে সাথে বস্ত্র, সুতা, আনুষঙ্গিক উপকরণ, প্যাকেট জাতকরণের উপকরণ ইত্যাদি শিল্পেরও সম্প্রসারণ হতে থাকে। এছাড়াও পরিবহন, ব্যাংকিং, শিপিং এবং ইন্সুরেন্স সেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর সবটাই অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। যা আমাদের জিডিপিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ অবস্থার বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। কারণ, সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিও মোটেই আলাদা নয়। মূলত করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবেই আমাদের দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারে ধ্বস নেমেছে। প্রবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে পড়েছে ভাটির টান। এমনকি তৈরি পোষাক শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উপর্যুপরি  বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে কার্যত অঘোষিত লকডাউন চলছে সারাদেশে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে গণপরিবহন চলাচলে। সামাজিক দূরত্ব ও জনগণের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা ও সেনাবাহিনী পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রাথমিকভাবে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে তা দফায় দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। যা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলেও সকল শ্রেণি ও পেশার মধ্যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য তা জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। কিন্তু এসব শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা খুবই অপ্রতূল।

এমনিতেই লকডাউন ও সাধারণ ছুটির কারণে শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। আর এই অচলাবস্থার মধ্যেই পোষাক শ্রমিকদের মধ্যে নেমে আসে কাজে যোগদানের খড়গ। দেশে যখন করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য মানুষ চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী জীবন যাপন করছেন ঠিক তখনই মালিকরা কারখানা খোলার ঘোষণা দিয়ে দায়িত্বহীনতা ও অদূদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন বলে সকল মহলেই সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। মালিক পক্ষের এই ঘোষণা পেয়েই জীবন-জীবিকার তাগিদে ও চাকুরী বাঁচানোর জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে  লাখ লাখ শ্রমিক দলে দলে ঢাকায় ফিরেছেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে পণ্যবাহী খালি ট্রাক, পিকআপ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ নানা যানবাহনে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে তাদের। সাভার, গাজীপুর, মাওয়াসহ ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলোতে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে হাঁটতেও দেখা গেছে হাজার হাজার শ্রমিককে। ফেরি ঘাটগুলোতেও ছিলো উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু সারাদেশ যেখানে কার্যত অবরুদ্ধ সেখানে হঠাৎ করে এমন অমানবিক ও ভয়ঙ্কর পথে লাখ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিকরা কেন ঢাকায় ছুটে আসতে হলো-সে প্রশ্নের সঠিক ও গ্রহণযোগ্য জবাব সংশ্লিষ্টরা দিতে পারছেন না। শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন, কারখানার পক্ষ থেকে তাদেরকে ফোন করে বলা হয়েছে, ৫ এপ্রিল কারখানা খোলা হবে। এদিন কাজে যোগ না দিলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এমনকি যে সময়কাল ছুটি দেয়া হয়েছে সেই সময়ের দ্বিগুণ সময়ের বেতন কেটে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে শ্রমিকদের। সঙ্গত কারণেই করোনা মহামারির মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, যানবাহন না পেয়েও ঢাকায় ছুটে আসতে হয়েছে তাদেরকে। কারখানা মালিকদের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত দেশের আত্মসচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে  অনেকটা মধ্য রাতে ফের কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গার্মেন্টস মালিকরা। কিন্তু ক্ষতি যা হবার তা তো হয়েই গেছে।  

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ঢাকামুখী মানুষের স্রোত শুধু সংক্রমণের ঝুঁকিই বাড়াবে না বরং পুরো দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। হাজার হাজার মানুষের গাদাগাদি করে ঢাকায় ফেরার এ ধরনের দৃশ্য করোনা প্রতিরোধের বিপরীতমুখী চিত্র। লাখ লাখ পোশাককর্মীর মাধ্যমে দেশজুড়েও দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রাণঘাতি এ ভাইরাস। যা এক নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে। কিন্তু অতিমুনাফাখোরী চিন্তাভাবনার কারণেই এসব বিষয় মালিক পক্ষের বিবেচনায় আসেনি। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থ একেবারেই বিবেচনায় আনা হয়নি।

মূলত গার্মেন্ট মালিকদের উচ্চাভিলাষের কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে বিশ্বজুড়ে করোনাসংক্রমণ রোধে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুয়েপমেন্ট-পিপিইর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। অত্যন্ত চড়া দামে ব্যাপকহারে এই পিপিই রফতানি করতে গার্মেন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক পক্ষ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল। তবে চেয়েও বড়  কারণ মনে করা হচ্ছে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য সরকার ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের  ভাগবাটোয়ারা। প্রণোদনা পেতেই গার্মেন্টস মালিকরা কারখানা খোলার এমন ভয়াবহ ও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।  সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কেবলমাত্র সচল কারখানা মালিকরাই এই প্রণোদনার অর্থ পাবে। আর সে কারণে প্রণোদনার অর্থ করায়ত্ব  করতেই জাতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে গার্মেন্ট খোলার এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা পুরোপুরি অবিচেনা প্রসূত। 

মূলত বিকেএমই ও বিজিএমইএ-এর দায়িত্বহীন, অদূরদর্শিতা ও লোভের কারণে ঢাকার দেড় কোটি মানুষ করোনার হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছে। তারা গার্মেন্ট শ্রমিকদের কারখানা খোলা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না দেয়ায় একরাতে ৩৪ লাখ মানুষ ঢাকায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। রাজধানী ঢাকা যদি করোনা মহামারীতে পরিণত হয়, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব কারখানা মালিকরা কোন ভাবেই এড়াতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সমাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশ, জাতি ও শ্রমিক সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি ছুটির মধ্যেই তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা যেভাবে শ্রমিকদের অমানবিকভাবে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে চাপেরমুখে কর্মস্থলে ফিরতে বাধ্য  করেছেন তার তীব্র সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সম্প্রতি সংস্থাটি বলছে, মালিকপক্ষের জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থি এই অবিবেচনাপ্রসূত স্বার্থপর আচরণে লাখ লাখ শ্রমিক এবং কার্যত গোটা দেশই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। মালিকদের হুমকিতে ‘চাকরি বাঁচাতে’ দূর-দূরান্ত থেকে লাখ লাখ শ্রমিক যেভাবে পায়ে হেঁটে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন তাকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।

আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ‘কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে সরকার ছুটির মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান সময়কে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করায় সরকার কর্তৃক সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যখন সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। উৎপাদিত পণ্যও রপ্তানি ও বাজারজাতকরণের সুযোগ নেই বললেই চলে। সেই পরিস্থিতিতে কারখানা খুলে দেবার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মস্থলমুখী করে, শুধু শ্রমিকদের নয় বরং পুরো দেশকে একেবারে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যদি কোন জাতীয় বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তার দায় কারখানা মালিক থেকে শুরু করে মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ কোনো অবস্থাতেই এড়াতে পারে না।

মূলত করোনাকেন্দ্রীক পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম দেশের সব বড় রস্তানি খাত পোষাক শিল্পের পাশে দাঁড়িয়েছে। যা বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতনভাতা অব্যাহত রাখার জন্য নামমাত্র সার্ভিস চার্জে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছে তার প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতের। তারপরও এ খাতের নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী অবস্থান দিয়েছেন। যা শুধু নিন্দনীয়ই নয় বরং দেশ ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। 

বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক পোশাকশিল্প মালিককে উদ্ধৃত করে খবর বেরিয়েছে যে, সরকারের ঘোষিত তহবিল, অনুদান না হয়ে সহজ শর্তে ঋণ হওয়ায়, মালিকপক্ষ এমন পরিস্থিতি পরিকল্পিতভঅবেই সৃষ্টি করেছে করেছেন। শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা তথা পুরো দেশকে এভাবে জিম্মি করে দরকষাকষির হাতিয়ার বানানোর এই পদক্ষেপ সকল মহলেই তীব্র সমালোচনার সম্মূখীন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ও অন্যান্য মন্ত্রী এবং জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই পোশাকশিল্প মালিক হওয়ার পরও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। অবস্থাদৃষ্টে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, সরকারের ভেতরে নানা স্বার্থান্বেষী মহল এই জাতীয় দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে প্রকারন্তরে সরকারকেই জিম্মি করে অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ে সক্রিয় রয়েছে।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে কারখানাগুলো সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি অনুসরণে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও শ্রমিকদের সিংহভাগই এখন কর্মস্থলে ফিরেছেন। তারা কাজে যোগ দিতে না পারায় এখন তাদেরকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। কিন্তু তাদের এই ক্রান্তিকালে মালিকদের কাছ থেকে প্রণোদনা বা মানবিক সাহায্য তো দূরের কথা বরং তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে নানাবিধ টালবাহানা শুরু হয়েছে। যা মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে বড় ধরণের মনস্তাত্বিক দূরত্ব সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। যা সংশ্লিষ্ট শিল্প, মালিক ও শ্রমিক কোন পক্ষের জন্যই ইতিবাচক নয়। 

সার্বিক দিক বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববার অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে। সে শ্রমিকদের শ্রমের কল্যাণেই পোশাক শিল্প এখন দেশের প্রধান রপ্তানী খাত। শুধু তাই নয় শ্রমিকদের কাঁধে ভর করেই মালিকরা অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। অথচ এইসব পোষাক কারখানার শ্রমিকরাই প্রতিনিয়ত নানাভাবে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। যেকোন পরিস্থিতি শুধুই মালিক পক্ষের স্বার্থের কথা ভাবা হয়। শ্রমিকদের মানবিক দিকেও বিবেচনায় আনা হয় না। এমতাবস্থায় এই আরও গতিশীল ও সময়োপযোগী করতে হলেও সবার আগে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি করতে হবে নিবির সেতুবন্ধন। কারখানাগুলোকে করতে হবে পুরোপুরি শ্রমিকবান্ধব। তাহলেই আমরা এই শিল্পকে আমরা আরো এগিয়ে নিতে পারবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ