ঢাকা, সোমবার 1 March 2021, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭, ১৬ রজব ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

নির্বিচারে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন: বিলুপ্তির পথে দেশী মাছ

মোঃ মনিরুজ্জামান, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : ভূরুঙ্গামারীতে এবার বৈশাখ মাসেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টির পানির সাথে উঠে আসা ডিমওয়ালা মা মাছ নির্বিচারে নিধনের মহোৎসব শুরু হয়েছে । যার কারনে উপজেলার নদী, খাল, বিল ও ডোবা-জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির  মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্ষার পর মাছের ভরা মৌসুমে নদী,খাল-বিল গুলো মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশংকা করছে উপজেলাবাসী।

জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাস মাছের প্রজনন কাল। কিন্তু এর আগেই উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়, নদী-নালা, খাল-বিলে মা মাছ নিধন করছে এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা। বিভিন্ন পয়েন্টে কুঁচ, জুইতা, টেঁটা, কারেন্ট জাল, বেড়জাল, খরাসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সন্ধ্যা হতে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ নিধনের উৎসব। বর্ষা আসার আগেই খাল বিলে মা মাছ নিধন চললেও দেখার কেউ নেই। অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে ডিম ওয়ালা মা মাছ ও ছোট পোনা মাছ ধরা, খাল-বিল-ডোবা ভরাট, উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণসহ মাছের বিচরণক্ষেত্রের অনুকূল পরিবেশ সংকট হওয়ার কারণে দিনকে দিন দেশীয় প্রজাতির মাছ গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ।

উপজেলার দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজনী , গঙ্গাধর ও সংকোষ নদী মূলত মাছের প্রধান উৎস।  এছাড়াও সোনাহাট ছড়া, পাইকেরছড়া, বহলগুড়ি বিল, কেদার বিল ,তিলাই ছড়া, ভেড়ভেড়ি বিল, দলবাড়ী বিল, ঝুকিয়া বিল, নাউডাঙ্গা বিল , নলেয়া নতুন ছড়া ও শরবোঝা বিল সহ ছোট বড় অনেক খাল বিলে প্রচুর পরিমানে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এসব নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ের মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো । কিন্তু এখন দেশি প্রজাতির মাছ তেমন দেখা যায় না । দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির কারণে স্থানীয় জেলেদের দুর্দিন যাচ্ছে। 

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বর্ষা মৌসুমে মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। ওই সময় এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি কারেন্ট জাল ও  ভারতীয় এক প্রকার টানা জাল দিয়ে মা মাছ শিকার করছে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন হচ্ছে না।

একসময় উপজেলার  গ্রামগঞ্জের হাটবাজার গুলোতে নানা ধরনের দেশি মাছের সমারোহ চোখে পড়ত। দেশীয় এসব মাছের মধ্যে কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বাইম, খলিশা, ফলি, চিংড়ি, টাকি, চিতল, বালিয়া, কাকিলা, চাপিলা, বৈচা, চাটুয়া, নাপতানি,  নামা চাঁদা, গোল চাঁদা, আইড়, গুলশা, পাবদা, দেশি পুঁটি, সরপুঁটি, তিতপুঁটি, মেনি,  চেলি, কানপোনা, বাচা, বাটা, রিটা, পিয়ালি, জয়া, ছোট টেংরা, বড় টেংরা, চান্দা, কাজলি, চ্যাং, ছোট চিংড়ি, বাতাসি, বড় বাইম ,তারা বাইম, শালবাইম,  কুচিয়া, খোকসা, খড়কুটি, টাটকিনি,  ধুতরা,গছি, বইরালি, গোলসাসহ নাম না-জানা বহু প্রজাতির দেশীয় মাছ। দেশীয় প্রজাতির  এই  মাছগুলো বিলুপ্তির পথে। ডিমওয়ালা মা মাছের বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় এ মওসুমে ব্যবসা করতে মাছ শিকারীরা তৎপর। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রকাশ্যে দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। হাট বাজারে ওঠা ডিমওয়ালা মা মাছ যেমন টেংরা প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি পুটি মাছ কেজি প্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা,  সিং ও মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারাজুল কবির বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইনে সব ধরনের মা মাছ ও ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত পোনা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শীঘ্রই ডিমওয়ালা মা মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ