ঢাকা, রোববার 20 September 2020, ৫ আশ্বিন ১৪২৭, ২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ১০টাকার চাল বিক্রি শুরু

 

খুলনা অফিস : অবশেষে কার্ডের মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। গত ২৩ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে নগরীর ১৮ হাজার তালিকাভুক্ত পরিবার ১০ টাকা মূল্যের এই চাল কিনতে পারবেন। একটি কার্ডের বিপরীতে প্রতিমাসে ২০ কেজি চাল কেনা যাবে।

খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার পরিবার চাল পাওয়ার কথা থাকলেও দুই দফায় এই সংখ্যা বেড়ে এখন ১৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৪০০ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। এখন এই সংখ্যা বাড়বে। যে সব হতদরিদ্র এখনও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি তাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খুলনায় এপ্রিল মাসে বিক্রির জন্য ৩৬০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় এ পর্যন্ত ২০ টন চালও বিক্রি হয়নি। মাসের শেষ ৩ দিনে দ্রুত কার্ড তৈরি, সরবরাহ এবং বিক্রি না করা হলে এপ্রিল মাসের বরাদ্দের চাল ফেরত চলে যাবে। আগে থেকে চাল দেওয়া হলে এপ্রিল মাসেই একটি পরিবার ২০ কেজি করে চাল পেত। কিন্তু সময় না থাকায় ১০ কেজির বেশি কেউ চাল পাচ্ছে না।

তবে খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে আবার নতুন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। যারা এই মাসে চাল কিনতে পারেননি তারা মে মাসে ২০ কেজি চাল পাবেন।

খাদ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কার্ডের মাধ্যমে চাল বিক্রির জন্য অনুশাসন আসে। ওই সময় খোলা বাজারে চাল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কেসিসি মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকা তৈরির কাজ এখনও চলছে। মূলত নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা সিটি মেয়রের পরামর্শ নিয়ে এই তালিকা তৈরি করছেন। কেসিসির মাধ্যমে এই তালিকা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর আহমেদ জানান, জনপ্রতিনিধিরাই এলাকার দরিদ্র সম্পর্কে ভালো জানেন। এজন্য তালিকা জনপ্রতিনিধিরাই তৈরি করেছেন, আমরা শুধু কার্ড সরবরাহ করছি।

তিনি বলেন, তালিকা জমা দিতে অনেক দেরি হয়েছে। এরপর আমরা কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত ৫টি ওয়ার্ডের শতভাগ কার্ড বিতরণ শেষ হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে বাকিগুলো বিতরণ শেষ হবে। বিতরণের পাশাপাশি চাল বিক্রি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল থেকে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সোমবার নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০০ পরিবারকে চাল দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার কার্ডের নির্দেশনা এসেছিল। পরবর্তীতে ১৪ হাজার ২০০ করা হয়। নতুন নির্দেশনায় ১৮ হাজার কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই তালিকা আমরা কয়েক দফায় হাতে পাচ্ছি। এজন্য সব কার্ড একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক জানান, প্রথম দফায় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪০০ জনের তালিকা তৈরি করতে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সংখ্যা এখন বাড়বে। শ্রমঘন এলাকা হিসেবে পরিচিত ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড, খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ৮ ও ১১ নম্বর এবং ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডে বেশি করে তালিকা তৈরি করা হবে। এভাবে ৩১টি ওয়ার্ডে ১৮ হাজার পরিবার কার্ড পাবে।

তিনি বলেন, তালিকা অনুযায়ী চাল দিলে প্রকৃত দরিদ্ররাই ১০ টাকার চাল কিনতে পারবেন। যারা এই তালিকায় থাকবেন তারা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের চাল পাবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ