ঢাকা, সোমবার 10 August 2020, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৯ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

 

খুলনা অফিস : খুলনার দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল বিতরণে অভিযোগ তদন্তে প্রমানিত হওয়ার দু’সপ্তাহ পর এবার ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওজনে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে চাল দেওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন, যাদের ত্রাণের চাল ওজনে কম হয়েছে তাদেরকে খুঁেজ এনে বাকিটা পুরণ করে দিতে বলেছেন ইউপি সচিবকে। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন। সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ বলছেন, বিগত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও শাস্তির ব্যবস্থা না করায় নতুন করে অপরাধ করার সাহস পেয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকার কর্মহীন মানুষের মাঝে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো দিঘলিয়া ইউনিয়নেও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। সে মোতাবেক গত ২৩ এপ্রিল দিঘলিয়া ইউনিয়ন জিআর ৪.৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে। চাল উত্তোলনের আগের দিন চেয়ারম্যান ও ইউপি  সদস্যদের নিয়ে উপজেলা সহকারি (ভূমি) দিপংকর দাস বরাদ্ধকৃত খাদ্যশষ্য বিভাজন করেন। বিভাজনের সিদ্ধান্ত এরূপ যে, বরাদ্ধকৃত খাদ্যশষ্য ৫০% চেয়ারম্যান এবং বাকি ৫০% সকল সদস্যদের। সে মোতাবেক ৪.৫মে.টন চালের বিপরীতে ৪৪৪টি কার্ড নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কার্ডে ১ কেজি করে চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু গত দু’দিন মেম্বরদের প্রাপ্ত ২২২টি কার্ডের চাউল দেয়া শুরু করে। গত দু’দিনে চাল বিতরণে ১০ কেজির স্থলে ৫ কেজি থেকে ৭-৮ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। কার্ডধারীরা যখন জানতে পারে যে, প্রতি কার্ডে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ । তখনই বিপত্তি ঘটেছে যায়। চর্তুদিকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এক পর্যায়ে চাল বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজ আল আসাদ বলেন, যাদের ত্রাণের চাল ওজনে কম হয়েছে তাদেরকে খুঁেজ এনে বাকিটা পুরণ করে দিতে বলেছেন ইউপি সচিবকে।লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন। 

ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। 

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট দিঘলিয়া সদর  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনে ৭জন ইউপি সদস্য খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। সলিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৩সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। অপর দু’সদস্য হচ্ছেন খুলনা জেলা সহকারি পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো: বদিউজ্জামান ও দিঘলিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) দিপংকর দাস।

তদন্ত কমিটি গঠনের একদিন পরেই তদন্ত করতে মাঠে নেমে পড়েন। তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত কমিটি ২দফা সুপরিশ করে জেলা প্রশাসকের নিকট ১২ এপ্রিল রিপোর্ট পেশ করেন। যার স্বারক নং ০৫.৪৪.৪৭০০.০২২.১৪.০০৪.২০-৪৬৮ তারিখ ১২-০৪-২০ইং । ক)মানবিক সহায়তা কর্মসুচি নির্দেশিকা ২০১২-২০১৩ অনুসরন করে প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বরদের (পুরুষ-মহিলা) সাথে সমন¦য়পূর্বক ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে চাল বিতরণ করতে হবে। খ) প্রতিটি ইউনিয়নে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে লোকাল এলিটদের সাথে সমন¦য় পূর্বক ত্রাণ সামগ্রী উত্তোলন ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পাদন  করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ