ঢাকা, রোববার 9 August 2020, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৮ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

চাহিদা কমে যাওয়ায় এবারই রমজানে রাজধানীতে পানির সংকট তেমন থাকবে না 

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: আগামী শনিবার থেকে শুরু হতে পারে পবিত্র মাহে রমজান। প্রতি বছর রমজান মাসকে সামনে রেখে রাজধানীবাসীর জন্য বিশেষ আয়োজন করে থাকে ঢাকা ওয়াসা। তবে এবছর তেমন বিশেষ তৎপরতা নেই প্রতিষ্ঠানটির। সংস্থাটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবার রমজানে রাজধানী ঢাকায় পানির কোনো সমস্যা হবে না। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে অফিস আদালত ও মাকেট বন্ধ। এছাড়া অনেকই রাজধানী ছেড়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদ গুলোতে জামায়াতে নামাজও বন্ধ। তাই এবার চাহিদার তুলনায় পানির উৎপাদন বরং বেশি থাকবে।

সূত্র মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে সাধারণ ছুটি। ঘরবন্দি জীবন কাটছে রাজধানীবাসীর। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সাবান-পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ফলে প্রশ্ন জাগছে, পানির চাহিদা বাড়ায় ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ওয়াসা) প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করতে পারছে কি না। ওয়াসা বলছে, করোনো ভাইরাসের কারণে তাদের উৎপাদন ও সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়েনি। চাহিদার চেয়ে বেশি পানি তারা উৎপাদন করছেন, কোনো সংকট নেই। বরং পানি বেশি উত্তোলন হচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, অন্যান্য সময়ে ঢাকায় দিনে ২৪০ কোটি লিটার পানির চাহিদা ছিল। চাহিদার চেয়ে ১০ কোটি লিটার বেশি পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। করোনার কারণে সরকারের দেওয়া ছুটি শুরুর দিকে অনেকে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় পানির চাহিদা কমেছে। এছাড়া অফিস আদালতও পানির তেমন ব্যবহার নেই।

এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে বাসায় পানির ব্যবহার বাড়লেও ওয়াসার পানি পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন পানি পাওয়া যাচ্ছে। মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার বাসিন্দা সালেহিন আহমেদ বলেন, ‘করোনার কারণে বাসায় আগের তুলনায় পানির ব্যবহার বেড়েছে। তবে পানি পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’  শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের এলাকায় পানির কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’ বাসাবো এলাকার বাসিন্দা শুভ্র দেব জানান, ‘তার এলাকায় পানির কোনো সমস্যা নেই। তবে পানির ব্যবহার আগের চেয়ে বেড়েছে।’

পানি সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার পরিচালক এ কে এম শহীদ উদ্দীন বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে। ফলে পানির চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। তবে লোকজনের হাত ধোয়ার কারণে ঘরবাড়িতে পানির ব্যবহার বাড়ছে।  কারণ, করোনার কারণে মানুষজন বাড়িতে থাকে; এখন সবাই নামাজও পড়ছে। আর যে পানিটা অফিসে থাকলে খরচ হতো তার বেশিরভাগ পানিই বাসায় ব্যবহার হচ্ছে। তবে গরমের সময়ে পানির যে চাহিদা বাড়ে, সেটা লোকজন কম থাকায় এ বছর হচ্ছে না। সব মিলিয়ে পানির যতটুকু চাহিদা আছে তাতে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

রমজানেও পানির কোনো সংকট হবে না, উল্লেখ করে এ কে এম শহীদ উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি আছে। আর যেহেতু অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে, সেহেতু বিষয়টা আরো সহজ হলো। পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকেও আমরা পানি পাচ্ছি।’

জানা গেছে, শুষ্ক মওসুম ছাড়াও রমজান মাসে পানির সংকট বেশি থাকে। কারণ, রমজানে তারাবিসহ অন্যান্য নামাজে মুসল্লির উপস্থিতি থাকে বেশি। ইফতার ও সেহরির আগে পরে পানির চাহিদা থাকে বেশি। ফলে সংকট তীব্র হয়। করোনাভাইরাসের কারণে এবার মসজিদে জামায়াতে নামাজ হচ্ছে না। ফলে পানির চাহিদাও একসাথে দরকার হবে না। এ কারণেই রাজধানী ঢাকায় পানির কোনো সমস্যা অন্তত এবছর তেমন থাকবেন না।

ওয়াসার এমডি ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খান বলেন, এমনিতেই আমাদের চাহিদার তুলনায় পানির উৎপাদন বেশি। তাই সমস্যা থাকার কথা নয়। তবে এবার যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন তাই পানির কোনো সমস্যা হবে না। তারপরও কোনো এলাকায় পানির সংকট হলে নিকটস্থ জোন অথবা হটলাইন ১৬২১৬ নাম্বারে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ