বুধবার ০৩ জুন ২০২০
Online Edition

২০২২ সাল পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে 

সংগ্রাম ডেস্ক: করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন হাতে না পেলে ২০২২ সাল পর্যন্ত ঘরে থাকা, স্কুল বন্ধ রাখার মতো সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে। গবেষকরা মঙ্গলবার এমনটিই পূর্বাভাস দিয়েছেন। এ বন্দিদশা নির্ভর করবে, যতদিন না মহামারী ভাইরাসটির ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে। 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য স্কুলের গবেষকরা বলেছেন, অব্যাহতভাবেই ২০২২ সাল পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। যতক্ষণ মানুষ দৈহিকভাবে যথেষ্ঠ সক্ষমতা অর্জন না করবে বা আক্রান্ত হলে চিকিৎসা না পাবে কিংবা ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হবে, ততদিন এভাবেই চলতে হবে। খবর সিএনএনের

মঙ্গলবার এ বিষয়ে ‘জার্নাল সায়েন্সে’ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়, যদি এর মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের অবসানও ঘটে, তারপরও যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা থাকতে হবে, কেননা ২০২৪ সালের শেষদিকে এ ভাইরাসের ফের প্রাদুর্ভাবের আশংকা করছেন বিজ্ঞানীরা। 

এদিকে হার্ভার্ডের গবেষকদের এ পর্যবেক্ষণ হোয়াইট হাউসের পূর্বাভাসের একদম বিপরীত। হোয়াইট হাউস থেকে এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, এই গ্রীষ্মেই করোনা ভাইরাস মহামারী দূর হয়ে যাবে।

তবে নিজেদের গবেষণা ফলের ব্যাপারে জোরালো অবস্থান নিয়ে হার্ভার্ড জনস্বাস্থ্য স্কুলের মহামারীবিদ্যা বিষয়ক অধ্যাপক ড. মার্ক লিপসিচ বলেন, পরিস্থিতিদৃষ্টে আগামী কয়েক বছরই সামাজিক দূরত্ব বা ঘরে বন্দিদশা মেনে চলতে হতে পারে। যদিও তা দীর্ঘ সময়। ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে বা চিকিৎসা পর্যাপ্ত হলে তখন হয়তো লকডাউন বা সামাজিক দূরত্বে থাকার সময় কমে আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো কবে নাগাদ মানুষ কোভিড ১৯ ভাইরাস প্রতিরোধী হয়ে উঠবে, সেটিই বলা মুশকিল।

গবেষকরা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক দুরত্ব বা লকডাউন পরিস্থিতি যদি খুব শিগগির তুলে নেওয়া হয়, তবে এ ভাইরাস আবারও ফিরে আসতে পারে। 

গবেষকরা আরও বলেন, যদিও সামাজিক দূরত্ব বা লকডাউন পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হবে, দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও শিক্ষার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব তত বাড়বে। 

’যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ১৪ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৪৮ হাজার মানুষ। 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট। স্টেটটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে এবং প্রাণহানি ঘটেছে প্রায় ১১ হাজার। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ