শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

স্পীকারের শোক সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের ইন্তিকাল 

 

সংসদ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি একাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য,  সাবেক ভূমিমন্ত্রী, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শামসুর রহমান শরীফ গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। শামসুর রহমান শরীফ ও মিসেস কামরুন্নাহার শরীফ দম্পতির পাঁচ পুত্র ও পাঁচ কন্যার মধ্যে মেজ ছেলে রানা শরীফ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

শামসুর রহমান শরীফ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বিগত ছয় মাস লন্ডন, মুম্বাই ও সর্বশেষ ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের লাশ ঈশ্বরদীতে নিয়ে সেখানে জানাযা শেষে লক্ষীকু-ায় গ্রামের বাড়িতে আরেকটি জানাযার পর পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, তিনি ১৯৪০ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘোড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য বর্ষিয়াণ এই নেতা সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অত্যাচার, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন । তিনি পাবনা জিলা স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।  ঈশ্বরদী ও পাকশী এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করার কাজে তার ভুমিকা ছিল অনন্য। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ২৯ মার্চ ঈশ্বরদীর মাধপুরে পাকবাহিনীর প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। পঁচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর তিনি দীর্ঘদিন বিনা বিচারে জেলখানায় বন্দী জীবনযাপন করেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে পাবনা জেলায় তার ভূমিকা ছিল অনন্য। ওয়ান ইলেভেনের পরও তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়। অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক সরকারের লোভনীয় প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে পাবনা জেলায় একনিষ্ঠভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে অগ্রগামী করেছেন।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান শরীফ ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর পর ৫ বার বিপুল ভোটের ব্যবধানে ঈশ্বরদী ও আটঘোড়িয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দশম সংসদে অত্যন্ত সফলতার সাথে তিনি ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একাদশ  জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য থাকলেও তিনিই একমাত্র ভাষা সৈনিক ছিলেন। 

গতকাল সংসদ সচিবায়ল থেকে প্রেরিত এক শোকবার্তায় স্পীকার বলেন, শামসুর রহমান শরীফ এমপি ছিলেন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।  তাঁর মৃত্যুতে জাতি এক অভিজ্ঞ পার্লামেন্টেরিয়ানকে হারালো এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই রাজনীতিককে জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।   

এক শোক বার্তায় স্পীকার মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।     

এছাড়াও শামসুর রহমান শরীফ এমপির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি এবং চীফ হুইপ নূর-ই- আলম চৌধুরী এমপি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ