শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

শিক্ষিত ভেড়াও ক্ষেত খায়

এম. কে. দোলন বিশ্বাস : বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচাইতে প্রযোজ্য প্রবচন ‘বেড়া যখন ক্ষেত খায়’! রক্ষকরা এখানে প্রায়ই রাক্ষসের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সবকিছু ভক্ষণ করে। বেড়া যখন ক্ষেত খাওয়া শুরু করে তখন স্বাভাবিকভাবেই ক্ষেতের মালিক তথা দেশের জনগণ চূড়ান্ত অসহায় বোধ করবে, এমনটি অবাস্তব নয়। কার ওপর ভরসা রাখবেন তারা? মহামারি ‘করোনার জ্বর সারাবে বটে, কিন্তু করোনা রোধে তাদের চরিত্রে ফুঠে ওঠে বেমানান কর্ম...
বিশ্ব কাঁপছে করোনা নামক ভাইরাস জ্বরে। করোনার কবল থেকে নিস্তার মিলেনি বাংলাদেশেরও। ভাইরাসটি প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। অনেকেই জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোথাও কোথাও পুলিশ সদস্যসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক পর্যন্ত জনসাধারণকে হেনেস্তা করার খবর চাউর হচ্ছে। প্রশাসনের হর্তাকর্তাদের হাতে হেনেস্তার খবর এবারই যে প্রথম তা কিন্তু নয়। বরং মাঝে মধ্যেই অপ্রত্যাশিত ওইসব ঘটনা ঘটছে। জনগণের খাজনার টাকায় বেতন নিয়ে অনেকেরই যেনো মাথা গরম! কেউ ‘আপা’ সম্বোধন করায় মাছ বিক্রেতাকে পেটাচ্ছেন, কথা না শোনায় কেউ রেলের গেইটম্যানকে পেটাচ্ছেন। ‘স্যার’ না বলায় রেগে গিয়ে ব্যাংকের একাউন্ট হোল্ডারকে ব্যাংক থেকে বের করে দিচ্ছেন। আবার কেউ জমিদারি স্টাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হয়েও নিজ হাতে কখনো ড্রেজার মালিকদের আবার কখনো সমাজ সেবক কিংবা ঔষধ বিক্রেতাকে মারধর করে  হীন ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। আসলে হলোটা কী? তারা তো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। কিন্তু তাদের বেমানান চরিত্র এলো কোথা হতে? 
এখানে প্রশাসনের কতিপয় জমিদারি স্টাইলের কর্মকর্তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন আমলনামা তুলে ধরা হলো-
ভ্যানচালককে কানধরে উঠবস : দুই বৃদ্ধ ভ্যানচালককে কানধরে উঠবস করিয়েছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (এ্যসিল্যান্ড) সাইয়েমা হাসান। গত ২৭ মার্চ রাতে কানধরে উঠবসের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ গণমাধ্যমে জানান, ‘ছবিটি আমি দেখেছি। এটি এ্যাসিল্যান্ড করতে পারেন না। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আমাদের কাজ নয়। তাকে শোকজ করব।’
জানা যায়, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে এ্যাসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের নেতৃত্বে গত ২৭ মার্চ ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। বিকাল সাড়ে ৫টায় চিনাটোলা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে পড়েন প্রথমে দুই বৃদ্ধ। এর মধ্যে একজন বাইসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। অপরজন রাস্তার পাশে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করছিলেন। তবে তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। এ সময় পুলিশ ওই দুই বৃদ্ধকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে বিচারক সাইয়েমা হাসান শাস্তি হিসেবে তাদের কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। শুধু তাই নয়, মজার লজ্জার- এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই তার মোবাইল ফোনে এ চিত্র ধারণ করেন। এ ছাড়া পরবর্তীতে অপর এক ভ্যান চলককে অনুরূপভাবে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন তিনি। (তথ্যসূত্র : যুগান্তর- ২৮.০৩.২০২০) অভিযুক্ত এ্যাসিল্যান্ড সায়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অফিস খোলার পর এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (তথ্যসূত্র : আমাদের সময়- ২৮.০৩.২০২০)
আমরা বলতে চাই, মনিরামপুরের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ গরীব ভ্যানচালক যারা, ভ্যান চালিয়ে দিন আনে দিন খান, তাদের এভাবে কান ধরিয়ে ছবি তোলার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে? কান ধরাচ্ছেন আবার তার ছবি তোলারই বা কি দরকার? জনাব সাইয়েমা হাসান পড়াশোনা  করেছেন ঠিকই, কিন্তু আদৌ কি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পেরেছেন? সরকারি চাকরি করেন বলে উনার অনেক ক্ষমতা, কিন্তুু মনুষত্ব, মানবিকতা, বিবেকবোধ বলে যে শব্দগুলো আছে তা উনাদের ভেতর থেকে হয়তো মরে গেছে। লক-ডাউনে কানাডা দিচ্ছে বাড়ি ভাড়া, আমেরিকা দিচ্ছে ১০০০ ডলার, পশ্চিম বঙ্গ দিচ্ছে চাল, আর এগিয়ে যাওয়ার সোনার বাংলাদেশ দিচ্ছে লাঠির বাড়ি। ধিক্কার জানায় এ ধরনের কার্যক্রমের। তর্কের খাতিরে মেনেই নিলাম যে, ভ্যানচালকরা চাল ডাল কিনতে না, কাজ করতেই এসেছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বাবার বয়সী একজন মুরুব্বিকে কানে ধরিয়ে সেটার ছবি এভাবে ছড়িয়ে দিতে পারেন না। অন্তত সাইবার ক্রাইম আইন কাউকে সেই ক্ষমতা দেয়নি। জনাব সাইয়েমা হাসানরা এসব ভণ্ডামি বাদ দেন। আপনারা সরকারি বেতন নেন রাষ্ট্রের নির্দেশে পালনের জন্য। বাবার বয়সী মুরুব্বিকে হেনস্তার জন্য নয়।
ড্রেজার মালিকদের মারধর : ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কর্তৃক শারীরিকভাবে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়ের শিকার হতে হয়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অজপাড়ার অশিক্ষিত দুই ড্রেজার মালিককে। এ বেমানান ঘটনাটি ঘটেছে গত ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ। ওইদিন বেলা এগারোটার উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের টুংরাপাড়া এলাকার মৃত সদায় মিয়ার ছেলে হাইদর আলী (৫০) ও দুদু মিয়ার ছেলে শহিদুল্লাহকে (২২) ড্রেজার মেশিনে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এলোপাতাড়ি  চড়-থাপ্পড় মেরে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরে দুপুরে পুনঃরায় ইউএনও ওই এলাকায় ড্রেজার মেশিনে অগ্নি সংযোকালে ড্রেজার মেশিনে গোরস্থানে মাটি ভরাট হচ্ছে, এমন কথা বলার অপরাধে আব্দুল করিম নামে এক যুবককেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের হাতে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। এছাড়াও তার হেনেস্তার শিকার হয়ে আল্লাহর নিকট বিচার প্রার্থীর সংখ্যাও কম নয়। 
গেইটম্যানকে মারধর ইউএনওর : ট্রেন আসার সংকেতে রেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা গেইট নামিয়ে দেয়ায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আজিজ রেলের এক গেইটম্যানকে মারধর করেছেন বলে গণমাধ্যমের খবর। জানা গেছে, গত ৮ নবেম্বর দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি নামক স্থানে গেইটম্যান সিফরাত হোসেন দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার সংকেত পেয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে ছয়সূতি-কুলিয়ারচর এলাকার মধ্যবর্তী নিরাপত্তা গেইট নামিয়ে দেন গেইটম্যান। এতে সাময়িক সময়ের জন্য সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়। এসময় অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে ইউএনওর গাড়িটি আটকা পড়ে। ইউএনওর কথায় নিরাপত্তা গেইট না খুলে দেয়ায় গেইটম্যানের সাথে ইউএনও ও তার চালক তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ইউএনও গেইটম্যান সিফরাতকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ভৈরব অফিসের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জিসান দত্ত গণমাধ্যমে জানান, ঘটনার দিন ইউএনও যাওয়ার জন্য গেইটটি খুললে যদি ট্রেন দুর্ঘটনা হতো, তবে এর দায়িত্ব তিনি নিতেন না। ঘটনাটি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেলওয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়। (তথ্যসূত্র : যুগান্তর-১৪ নভেম্বর ২০১৯)
ডিসির রোষানলে সাংবাদিক : অনিয়ম-দুর্নীতিসহ কুড়িগ্রাম শহরের সরকারি পুকুর সংস্কারের পর ওই পুকুরের নাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) তার নামানুসারে ‘সুলতানা সরোবর’ রাখতে চাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর জেরে ডিসি সুলতানা পারভীনের নেতৃত্বে স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে গত ১৩ মার্চ গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১৫ মার্চ জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন বাড়িতে ঢুকে তাকে পেটান। এনকাউন্টারের হুমকি দেন। হাত ও চোখ বাধা অবস্থায় নিয়ে বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে এ ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ১৫ মার্চ সাংবাদিকদের জানান, ‘তদন্তের মধ্যে আমরা অনেক অনিয়ম দেখেছি এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ডিসির বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিউর অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ ১৬ মার্চ ডিসি সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের সিনিয়র তিন সহকারী সচিব নাজিম উদ্দীন, রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়। (তথ্যসূত্র: যুগান্তর- ২৬.০৩.২০২০)
ইউএনওর মারধরে হাসপাতালে ছাত্রী : রাঙ্গামাটির লংগদুতে পরীক্ষার্থীকে মারধরের করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম। এ ঘটনায় আতঙ্কে পাঁচ ছাত্রী জ্ঞান হারালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২০১৮ সালে এসএসসি’র গণিত পরীক্ষা চলাকালে লংগদু বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র ওই ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে সকাল ১১টায় লংগদু বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে যান ইউএনও। কেন্দ্রের ৬নং কক্ষে জুনায়েদ ইসলাম পেয়ার নামের এক ছাত্র অন্যদের খাতা দেখানোর অভিযোগে তার খাতা নিয়ে নেন ইউএনও। এতেই শেষ নয়। একপর্যায়ে ইউএনও ওই পরীক্ষর্থীকে শার্টের কলার ধরে টেনে বাইরে এনে চড়-থাপ্পড় মারে এবং তাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। একথা শুনে শুভ নামের অন্য এক শিক্ষার্থী পেয়ারকে ইউএনও’র কাছে ক্ষমা চাইতে বললে তাকেও চড় মারেন ইউএনও। (তথ্যসূত্র : নিউজ টোয়েন্টিফোর- ১২.০২.২০১৮)
নিবন্ধনটির লেখা কমপিউটারে কম্পোজ করাকলীন সচেতনার নামে পুলিশের মারধরের একাধিক ব্যক্তির ফোন আসে ঢাকাসহ জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে। বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন মর্মে অনেকইে অভিযোগ করেন মোবাইল ফোনে। বকশীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সম্্রাটের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কেউ যদি অভিযোগ দেয় বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
আমরা বলতে চাই, মারধর কিংবা কান ধরে উঠবস করানো সম্পূর্ণ বেআইনী, অসাংবিধানিক, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫ এর (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কান ধরে উঠবস করানোর মতো অমর্যাদাকর দণ্ড প্রদান নিষিদ্ধ। কোনো অজুহাতেই মানুষকে এমন অমর্যাদাকর, লাঞ্ছনাকর দণ্ড প্রদান করার এখতিয়ার কারোরই নেই। এমনকি সাক্ষ্যপ্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কোনো বিচারিক আদালতেরও নেই। জরুরি অবস্থানকালীন সময়েও সংবিধানের এই মৌলিক অনুচ্ছেদটি শিথিলযোগ্যও নয়।
সরকার ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে অতিউৎসাহী কিছু পুলিশ ও আমলা। প্রশাসনের কর্তাদের কাজ হলো, পাবলিককে সার্ভ করা, অর্থাৎ সার্ভিস দেয়া। জনগণের জন্য শ্রম দেয়ার কারণে তারা জনগণের টাকা হতে মজুরি পায়, যাকে বেতন নামে আখ্যায়িত করা হয়। হাল জমানায় ফ্যাশন করে বলা হয় ‘সেলারি’।
বলা বাহুল্য যে, ‘মজুরি’ যখন থেকে ‘সেলারি’ নাম ধারণ করেছে, সর্বনাশের শুরু তখন থেকেই। আরেকটু খোলাসা করে বলতে গেলে, ‘পাবলিক’ থেকে পদবির আগে যখন ‘গর্ভমেন্ট’ যুক্ত হয়েছে তখন থেকেই খোল-নলচে বদলে শ্রমজীবীদের অনেকেই নিজেদের মালিক ভাবতে শুরু করেছেন। কীভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে জনসাধণের গায়ে হাত তুলতে পারল সে প্রশ্নও এখনই খতিয়ে দেখার বিষয়।
আমরা মনে করি, অভিযুক্ত সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা দোষী কিংবা অপরাধী কি-না, তা তদন্তসাপেক্ষ। কিন্তু মনিরামপুরের এ্যাসিল্যান্ড সায়েমা হাসান তার পদের উপযুক্ত কি-না, তা জানবার জন্য বোধ করি তদন্ত নিষ্প্রয়োজন। তার কার্যালয়ে অন্য কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি-না, তাতে কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বিংবা কর্মচারী যুক্ত কি-না, এই প্রশ্নগুলিতে ঢুকবারই প্রয়োজন নেই। কারণ অপদস্থ ব্যক্তিদের ছবি তিনি নিজে হাতে সানন্দে  তুলেছেন। ঘটনার প্রমাণ তিনি নিজেই। এখন শুধু তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক পদক্ষেপ নেয়াই হবে আইনের শাসন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ