শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং সবশেষে অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করার পর বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা অনেকাংশে ফাঁকা হয়ে গেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা তো বটেই, রাজধানীর অধিকাংশ মানুষও ঢাকা ছেড়ে নিজেদের গ্রাম ও মফস্বলের বাড়িতে চলে গেছেন। এখনো যাচ্ছেন অনেকে। সে কারণে এরই মধ্যে রাজধানী জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে।
এমন অবস্থায় স্বাভাবিক নিয়মেই পণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কেনাবেচা কমলেও লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পাশাপাশি আয়-রোজগার কমে গেছে দিনমজুর ও ফুটপাথের হকারসহ সেইসব শ্রেণির মানুষজনের- যারা দিন এনে দিন খেয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকে এবং যাদের মেহনতী বা শ্রমজীবী বলা হয়। বাজারে শুধু নয়, বাস ও রেলস্টেশন এবং সদরঘাট টার্মিনালে ভিড় না থাকায় কুলী-মজুরের চাহিদা কমে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় রিকশা ও সিএনজি চালকেরাও প্রচণ্ড অর্থ কষ্টে পড়তে শুরু করেছে। এক কথায় বিপদ বেড়ে চলেছে নিম্নবিত্ত ও গরিব মানুষদের। তাদের সামনে আয়-রোজগারের কোনো পথই খোলা থাকছে না।
গতকাল দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে শ্রমজীবী মানুষদের অবস্থা সম্পর্কে যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা যে কোনো মানুষের হৃদয়কেই ব্যথিত করবে। অল্প কথায় হলেও প্রত্যেকেই তাদের অভার-অনটনের কথা জানিয়েছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কীভাবে তারা দিন কাটাচ্ছে সে কথা জানাতে গিয়ে সকলেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে। সরকারের কাছে খাবার ও ওষুধের জন্য আকুতি জানিয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সরকারের যে কোনো ধরনের কাজে শ্রম দেয়ার ব্যাপারেও নিজেদের ইচ্ছা ও আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে তারা। মূলকথায় তাদের জীবন বাঁচানোর আকুল আবেদন জানিয়েছে বেকার হয়ে পড়া মানুষগুলো।
আমরা মনে করি, সরকারের উচিত জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সবার আগে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষদের বাঁচানোর উদ্যোগ নেয়া। এ উদ্দেশ্যে পরিচ্ছন্নতার কাজের মতো এমন কিছু কাজে তাদের নিয়োজিত করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে সামান্য পরিমাণে হলেও তারা অর্থ আয় করতে পারবে। সরকারকে সেই সাথে একদিকে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের গরীব মানুষদের জন্য স্বল্প মূল্যে এবং সম্ভব হলে বিনামূল্যে চাল-ডাল-তেল ও আটার মতো খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষদের জন্য ওষুধপত্রও সহজলভ্য করতে হবে। শুনতে অসম্ভব মনে হলেও বিশেষ করে কানাডার দৃষ্টান্ত স্মরণ করলে দেখা যাবে, সদিচ্ছা থাকলে কোনো কিছুই সাধ্যাতীত নয়। সরকারের উচিত সে লক্ষ্যেই উদ্যোগী হয়ে ওঠা। আমরা মনে করি, কালোবাজারী ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ী নামধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পণ্যের মূল্য যেমন কমে আসবে তেমনি শ্রমজীবী মানুষদের সাহায্য করাও সহজ হয়ে উঠতে পারে। এখানে অন্য একটি ভীতিকর সম্ভাবনার কথাও জানিয়ে রাখা দরকার। শ্রমজীবী মানুষরা বেকার হয়ে পড়ায় রাজধানীতে চুরি ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে।
আমরা প্রসঙ্গক্রমে সমাজের বিত্তবানদের প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই। তারা আশপাশের পরিচিত গরিব মানুষদের নগদ অর্থসহ খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। বড়কথা, বছরের যাকাত দেয়ার জন্য পবিত্র রমযান ও ঈদুল ফিতর পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিবর্তে বর্তমান কঠিন সময়েই নিজেদের যাকাত আদায় করে নিতে পারেন। সংশয় থাকলে প্রয়োজনে আলেম-ওলামার সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করা যেতে পারে। সব মিলিয়েই আমরা মনে করি, হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া গরিব ও শ্রমজীবী মানুষদের বাঁচানো এবং সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করা দরকার। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের বিত্তবানদেরও। আমরা চাই, দেশের একজন মানুষও যাতে অনাহারে এবং বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ