শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

নারীবাদ : কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

ড. মো. নূরুল আমিন : গত কয়েক মাসে এই স্তম্ভে আমি নারীবাদ এবং অনৈতিক কাজে নারীদের সম্পৃক্তি প্রশ্নে একাধিক নিবন্ধ লিখেছিলাম। এই নিবন্ধগুলোতে আমি কোকাকোলা, বিয়ার, চেম্বোইন, হুইস্কি ও ভদকা নির্ভর পাশ্চাত্য সভ্যতা কিভাবে আত্মহত্যার দিকে অগ্রসর হচ্ছে তার একটি বিবরণীই উপস্থাপন করেছি এবং দেখানোর চেষ্টা করেছি যে, এক শ্রেণীর বাস্তব জ্ঞানহীন নারীবাদীরাও কিভাবে আমাদের দেশটিকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত ২৫ শে মার্চ সহযোগী এক পত্রিকায় দেখলাম, দেশের শীর্ষস্থানীয় নারীবাদী এক নেত্রী আমার লেখার সূত্র ধরে একটি প্রবন্ধে আমাকে নারী বিদ্বেষী আখ্যায়িত করে ইসলামে বহু বিবাহ এবং রাসূল (সা.)-এর চরিত্র ও উম্মুল মুমেনীন বিবি আয়েশা (রা.) এর বিবাহকালীন বয়স নিয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
তার প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়া আমি জরুরি মনে করি। বহু বিবাহের প্রশ্নটি অনেক পুরাতন এবং এর জবাব এত বেশি দেয়া হয়েছে যে, নতুন করে দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। এই স্তম্ভেও এর আগে আমি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে আমি এক্ষেত্রে যে বিষয়টি মজার বলে মনে করি, সেটা হচ্ছে প্রশ্নকর্তাদের পরিচয় ও চরিত্র। শুধু ইউরোপ, আমেরিকা কেন আমাদের দেশে মুসলিম নামধারী আধুনিক শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যেই অনেকেই বহু বিবাহকে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের হাতিয়ার বলে মনে করেন। তাদের মতে, বহু বিবাহ নারী সমাজের প্রতি একটি অবিচার, যৌন অনাচারের অভিব্যক্তি এবং পরিত্যাজ্য। এই মতাবলম্বী লোকেরা নিজেরা বেশির ভাগ বহুগামী, পুরুষরা বহু নারীতে আসক্ত, নারীরা একাধিক পুরুষের অন্তরঙ্গ সঙ্গিনী। তসলিমা নাসরীনসহ আমাদের দেশের অনেক কবি, সাহিত্যিক এই ব্যভিচারের সাথে জড়িত। আবার পাশ্চাত্যে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যৌনাচার এত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, সেখানে মানুষ আর কুকুরের মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকছে না। বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক এত বেশি প্রাধান্য বিস্তার করেছে যে, এসব দেশে বিবাহ সমাজ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে এবং তার স্থান দখল করছে লিভ টুগেদার নামক জে¦না-ব্যভিচারের সংস্কৃতি। শুধু কি তাই? বিয়ে-সাদীর স্বাভাবিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে তারা পুরুষে পুরুষে নারীতে নারীতে বিয়ের অসভ্য ব্যবস্থাকে প্রবর্তন করে মানবজাতির ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। এই যাদের অবস্থা তারা যখন একাধিক বিয়ে বা বহু বিবাহের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে, তখন তাদের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠাটা স্বাভাবিক। প্রশ্ন করতে হলে যে যোগ্যতা থাকা দরকার, তারা তা হারিয়ে ফেলেছেন। মানবজাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই নেই। রাসূল (সা.) এর জামানায় এবং আল্লাহর পয়গম্বরদের (আ.) ইতিহাসে বহু বিবাহ নতুন কিছু নয়। খৃষ্টান ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের বর্ণনানুযায়ী হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর তিন স্ত্রী ছিলেন। হযরত ইয়াকুব (আ.) চারটি বিয়ে করেছিলেন। হযরত মুসা (আ.)-এর চারজন স্ত্রী ছিলেন। তওরাতে আল্লাহ তায়ালা মুসা (আ.)কে সংখ্যা নির্ধারণ না করে যুদ্ধবন্দিদের মধ্য থেকে যত সংখ্যক ইচ্ছা বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। (আদি পুস্তক ২১:১০-১৩)। এই ধর্মগ্রন্থের তথ্যানুযায়ী হযরত দাউদ (আ.)-এর ১৯ জন স্ত্রী ছিলেন। হযরত সুলাইমান (আ.)-এর ছিলেন এক হাজার স্ত্রী। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এই যে, বাইবেলে যে সকল মহাপুরুষের বহু বিবাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, খৃষ্টান ও ইহুদীরা তাদের আল্লাহর পয়গম্বর বলে বিশ্বাস করেন এবং শ্রদ্ধা করেন। স্বয়ং যীশুখৃষ্ট মথি ইঞ্জিলে বহু বিবাহ বৈধ হবার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন। খৃষ্টানরা এসব মহাপুরুষদের কাউকেই বহু বিবাহের কারণে কামুক, লম্পট বা কপট বলে আখ্যায়িত করেন না। পক্ষান্তরে সৃষ্টির সেরা মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে তারা এ জন্য কটুক্তি করে থাকেন। এটা যে বিদ্বেষপ্রসূত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ঈর্ষাপরায়ণতা এতে কোনও সন্দেহ নেই। প্রকৃত কথা হচ্ছে এই যে, আল্লাহর পয়গম্বর (আ.)গণ দুনিয়াতে প্রেরিত হয়েছেন আদর্শ শিক্ষক এবং সত্যের সাক্ষ্য হিসেবে, সমগ্র মানব জাতির জন্য। নারী-পুরুষ উভয়েই এর অন্তর্ভুক্ত। তারা যে জীবনব্যবস্থা নিয়ে এসেছেন মৌখিক বা লিখিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে তার খুঁটিনাটি উম্মতদের সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা দেয়া সম্ভবপর নয়, বরং হাতে-কলমে ও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যেকটি বিষয় উম্মতদের হৃদয়ঙ্গম করতে হয়। এই শিক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য পূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদী সংসর্গের প্রয়োজন। পুরুষ সাহাবীগণ এই সংসর্গ সহজে পেতে পারেন। কিন্তু মেয়েদের জন্য তা কঠিন। আবার পুরুষ ও নারীদের মধ্যে যে তফাৎ রয়েছে আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন।
এ প্রেক্ষিতে অন্যান্য বিষয়সমূহ, একান্তভাবে নারী সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের ব্যাপারে শরীয়ার বিধিবিধান শিক্ষা, প্রচার ও প্রসারের জন্য নবী(সা.)দের স্ত্রীগণ নির্বাচিত হন এবং এ প্রেক্ষিতে নবীদের জন্য বহু বিবাহের বিধান ছিল। রাসূল (সা.)-এর বহু বিবাহের আরো অনেকগুলো কারণ ছিল, যার মধ্যে সাহাবীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি ছিল অন্যতম। এজন্য তিনি হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.) এর কন্যাদের বিয়ে করেছিলেন। তিনি শত্রুদের মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্যও বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। যেমন আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবিবা (রা.)। তিনি খৃষ্টান এবং ইহুদী গোত্রের মেয়েও বিয়ে করেছিলেন। শত্রুকে আপন করার জন্য এই উদ্যোগ ছিল অবশ্যই প্রশংসনীয়। সংঘর্ষরত জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার জন্য সম্পাদিত এই বিবাহগুলোর পেছনে যদি কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আবিষ্কার করতে চান, করতে পারেন। তবে এর ফলে যে হিংসা-বিদ্বেষ হ্রাস পেয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই। অনাথ এবং আশ্রয়হীনদের আশ্রয় দান এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানও রাসূল (সা.)-এর বহু বিবাহের অন্যতম কারণ ছিল। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বহু বিবাহ কখনো অনৈতিক কোনও অপরাধ ছিল না। যা অনৈতিক তা হচ্ছে ব্যভিচার, বহুগামিতা তথা বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক। আল্লাহর রাসূল (সা.) ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন ৪০ বছর বয়সী আদর্শ চরিত্রের অধিকারিণী হযরত খাদিজা (রা.)কে। ২৫ বছর পর্যন্ত তিনি তাকে নিয়ে সংসার করেছেন, অর্থাৎ খাদিজার ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত। তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আর কোনও বিবাহ করেননি। তার পরবর্তী প্রত্যেকটি বিবাহ ছিল আল্লাহ নির্দেশিত কোন না কোন প্রজ্ঞার পরিচায়ক। তার স্ত্রীদের মধ্যে বৃদ্ধা, বিগত যৌবনাও ছিলেন, যা কোন মানদণ্ডেই যৌন বিকারগ্রস্ততার পরিচয় বহন করে না। যৌন বিকারগ্রস্ত তো তারাই যারা বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং ব্যভিচারী। রাসূল (দ.) সম্পর্কে তার তৎকালীন শত্রুরাও কখনো নৈতিকস্খলনের অভিযোগ আনতে পারেনি।
বলা হয় যে তিনি বহু নারী বিবাহ করেছেন কিন্তু তার উম্মতদের জন্য চারজন নির্ধারণ করে গেছেন। কথাটা আদৌ সত্য নয়। আল্লাহর নবী (দ.) এই বিধি নিষেধ আরোপ করেননি, করেছেন স্বয়ং আল্লাহ। আমি আগেই বলেছি সমকালীন বিশ্বে কখনো বহু বিবাহ অপরাধ বলে গণ্য ছিল না এবং এই পদ্ধতি আরবেও প্রচলিত ছিল, নারীর প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্ব প্রথম ইসলামেই এই সংখ্যার উপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শর্ত সাপেক্ষে চার স্ত্রী রাখার বিধান দিয়ে কুরআনের আয়াত নাজেল করেন। তার এই শর্তটি পালন করাও অত্যন্ত কঠিন। শর্তটি হচ্ছে Equal treatment অর্থাৎ সকল স্ত্রীর প্রতি সমান আচরণ ও ব্যবহার, সকল স্ত্রীকে একই চোখে দেখা, তারতম্য না করা, ইসলাম এই বিধি নিষেধের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে বহু বিবাহকে নিরুৎসাহিত করেছে।
পাশ্চাত্য এমনকি প্রাচ্য দেশগুলোতেও তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণির কেউ কেউ রাসূল (দ.) সম্পর্কে আরেকটি মারাত্মক অভিযোগ করে থাকে এবং তা হচ্ছে শিশু আয়েশাকে বিবাহ করা, তাদের মতে এই কাজটি ছিল অনৈতিক এবং বেআইনী। বস্তুত: এই অভিযোগ যারা করেন তাদের কেউই বিশ্বের ইতিহাস, বিভিন্ন দেশ ও সমাজের সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সময়ে বিদ্যমান প্রথা পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকেবহাল বলে মনে হয় না।
প্রথমত: একে যারা বেআইনী বলেন তাদের মানদণ্ড কি? সময় না আইন? যদি আইনকে এর মানদণ্ড গণ্য করা হয় তাহলে আজকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ বেআইনী। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা কি ছিল তাও জানা জরুরী।
বলা নিষ্প্রয়োজন যে সময় এবং সংস্কৃতি কোনও প্রথা বা পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভারতবর্ষে হিন্দু সমাজে শিশু বিবাহ ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং হিন্দুদের ধর্ম শাস্ত্রে বাল্য বিবাহকে উৎসাহিত করা হতো। আট বছর বয়সের মধ্যে যদি কোন মেয়ের বিবাহ না হতো তাহলে তাকে অভিশপ্ত বলে গণ্য করা হতো। শাস্ত্রের নির্দেশ ছিল, “অষ্টম বর্ষে ভবেৎ গৌরি, নবম বর্ষে তো রোহিনী”খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের কোনও রাজ্যেই মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারণী কোনও আইন ছিল না। সেখানে ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে হতো, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে উনবিংশ শতাব্দীতে এসে সে দেশগুলোর বিভিন্ন রাজ্যে বিয়ের বয়স ১৪ থেকে ১৬ নির্ধারণ করে আইন পাস করা হয়। এই আইনও পরিবর্তিত হয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রথা, পদ্ধতি, সংস্কৃতি, সামাজিক অবস্থা, ছেলে মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধির হার ও শারীরিক পরিবর্তনকে সামনে রেখে এই আইনগুলোর পরিবর্তন হয় এবং প্রথার বিকাশ ঘটে। রাসূল (দ.) এর জামানায় আরবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের বিয়ে শাদীর চুক্তির প্রচলন ছিল। এটা অনেকটা Engagement এর মতো। এই চুক্তি কার্যকর হতো বয়ো:প্রাপ্তির পর। ইসলাম এই প্রথাটিকে গ্রহণ করেছে এবং বর কনে উভয়কে স্বাধীনতা দিয়েছে যে যৌবন প্রাপ্ত হবার পর ইচ্ছা করলে অভিভাবকদের দেয়া বিয়ে তারা অস্বীকারও করতে পারে। আবার ইসলামী আইন অনুযায়ী বয়ো:প্রাপ্তীই হচ্ছে বিয়ের বয়স, উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া কোন আইন নয়, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক অবস্থান ভেদে বয়:প্রাপ্তীর এই সময় মেয়েদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ২১ বছর। বডি স্ট্রাকচার ভেদে এন্ট্রি এজ দু’এক বছর কম বেশি হতে পারে। এখন হজরত আয়েশা (রা.) এর বিবাহকালীন বয়সের প্রশ্নে আসা যাক। তার বয়স কত ছিল? কারুর কারুর মতে এনগেজমেন্টের সময় তার বয়স ছিল ৬ বছর আবার কেউ কেউ বলেন ৯ বছর। রাসূল (দ.) এর জীবনীর উপর যে কয়জন ঐতিহাসিক গবেষণা করেছেন তাদের মধ্যে ইবনে ইসহাককে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করা হয়, তিনি উল্লেখ করেছেন যে বিবি আয়েশা (রা.) ও তার বোন আসমা (রা.) প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের সময় তিনি অবুঝ শিশু ছিলেন না। রাসূল (দ.)-এর সাথে আয়েশা (রা.) এর বিয়ে কার্যকর হয় এনগেজমেন্টের তিন বছর পর মদিনাতে। অর্থাৎ ঐ সময়েই তিনি স্বামী গৃহে যান। নবী হিসেবে রাসূল (দ.) এর মক্কী জীবনের পরিধি ছিল ১৩ বছরের। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে বিয়ের সময় আয়েশা (রা.) এর বয়স ১৩ অথবা ১৬ ছিল এবং তিনি যখন স্বামী গৃহে যান তখন তার বয়স ছিল ১৬ থেকে ১৯ বছর। এর কোনটা সত্য তা নির্ণয় করা কঠিন। তবে তিনি যে সাবালকত্ব প্রাপ্তীর পর স্বামী গৃহে গিয়েছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তিনি অপরিপক্ব শিশু যে ছিলেন না, কুরআন, হাদিস, তাফসীর ও ফিকাহ ফতোয়াসহ ইসলামী শিক্ষার সকল বিভাগের উপর তার অগাধ পাণ্ডিত্য এ কথারই প্রমাণ বহন করে। কাজেই যারা বলেন রাসূল (দ.) অপ্রাপ্ত বয়স্কা শিশুকে বিয়ে করেছেন তারা প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ এবং অন্ধ। তাদের অভিযোগ বিদ্বেষপ্রসূত এতে কোনও সন্দেহ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ